শরণার্থীদের জন্য ‘মাল্টিকালচারাল টয়লেট'!

জার্মানিতে যাঁরা শরণার্থী হয়ে এসেছেন তাঁদের অনেক সমস্যারই সমাধান করার চেষ্টা করছে সরকার৷ তবে অদ্ভুত এক সমস্যার সমাধান এতদিন পাওয়া না গেলেও এখন যাচ্ছে৷

শরণার্থীদের অনেকেই ইউরোপের ফ্লাশ-টয়লেট এর সঙ্গে পরিচিত নন৷ তাই তাঁরা হঠাৎ এমন টয়লেট দেখে বুঝে উঠতে পারেন না কীভাবে তা ব্যবহার করতে হবে৷ যদিও শরণার্থী কেন্দ্রের টয়লেটগুলোতে আরবি ভাষা এবং ছবি ব্যবহার করে নির্দেশনা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে৷ তবুও অনেক কেন্দ্রের টয়লেট ও গোসলখানার মেঝেতে মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বার্লিনে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থার কর্মী মানফ্রেড নোভাক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সব কেন্দ্রে এই সমস্যা না থাকলেও সমস্যাটা আছে৷ ব্যাপারটা নির্ভর করে ঐ কেন্দ্রের শরণার্থীরা কোন দেশ থেকে এসেছে তার ওপর৷''

‘বহু সাংস্কৃতিক' টয়লেট

সহজে বহন করা যায় এমন টয়লেট তৈরি করে জার্মান কোম্পানি ‘গ্লোবাল ফ্লিগেনশ্মিডট'৷

সমাজ সংস্কৃতি | 23.06.2015
Deutschland Berlin-Weißensee Toilettenhäuschen Notunterkunft für Flüchtlinge geschlossen

অনেক কেন্দ্রের বাথরুম ও গোসলখানার মেঝেতে মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে

শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান করতে তারা এক অভিনব টয়লেট তৈরি করেছে৷ কিছুদিন হলো সেটা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে৷ পশ্চিম ও পুব – এই দুই সংস্কৃতির মানুষ যেন একই টয়লেট ব্যবহার করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷

শরণার্থীদের দেখভাল করছে এমন সংস্থার কয়েকটি ইতিমধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানান কোম্পানির প্রধান পেটার ফ্লিগেনশ্মিডট৷ অবশ্য তিনি মনে করেন, এই যে ‘সমস্যা' সেটা সাময়িক৷ তাই এ ধরণের টয়লেটের প্রয়োজনও হবে সাময়িক৷ কিন্তু পেটার ফ্লিগেনশ্মিডট মনে করেন, তাঁদের নকশা করা এই বহনযোগ্য টয়লেটের চাহিদা বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও থাকবে, যেখানে নির্মাণকাজে অনেক পশ্চিমা নাগরিকও কাজ করেন৷

‘বহু সাংস্কৃতিক' টয়লেটের সত্যিই কি প্রয়োজন আছে? জানান নীচের ঘরে৷

প্রাথমিক রিসেপশান সেন্টারগুলো পুরোপুরি ভর্তি, কাজেই সাময়িক বাসস্থান হিসেবে অন্যান্য ভবন কাজে লাগানো হচ্ছে৷ নর্থ রাইন ওয়েস্ট ফালিয়া রাজ্যের হাম শহরের টাউন হলে ৫০০ উদ্বাস্তুর থাকার আয়োজন করা হয়েছে৷ ৭০০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের হলটিতে বেড়া দিয়ে দিয়ে আলাদা আলাদা ‘ঘরের’ ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ প্রত্যেকটি ‘ঘরে’ ১৪টি ক্যাম্পবেড রাখা চলে৷

উদ্বাস্তুদের জন্য একটি সুবিশাল টেন্ট ক্যাম্প বা ‘তাঁবু শিবির’ সৃষ্টি করা হয়েছে স্যাক্সনি রাজ্যের রাজধানী ড্রেসডেন শহরে৷ শৌচাগারের সামনে লম্বা লাইন পড়ে, খাবারের জন্যও অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়৷ এখানে আপাতত ১৫টি দেশ থেকে আগত মোট এক হাজার মানুষের বাস৷ আগামীতে আরো শ’খানেক মানুষ এখানে থাকতে বাধ্য হবেন৷

উদ্বাস্তুদের বসবাসের জন্য একাধিক পৌর এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যেমন বাভেরিয়ার একেনটাল শহরে৷ এখানে মোট ৬০ জন মানুষ বাস করতে পারবেন৷ আগামী বছরের সূচনাতে এখানে প্রথম উদ্বাস্তুরা বসবাস করতে পারবেন, বলে আশা করা হচ্ছে৷

শরণার্থীদের অনেকেই ইউরোপের ফ্লাশ-টয়লেট এর সঙ্গে পরিচিত নন৷ তাই তাঁরা হঠাৎ এমন টয়লেট দেখে বুঝে উঠতে পারেন না কীভাবে তা ব্যবহার করতে হবে৷ যদিও শরণার্থী কেন্দ্রের টয়লেটগুলোতে আরবি ভাষা এবং ছবি ব্যবহার করে নির্দেশনা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে৷ তবুও অনেক কেন্দ্রের টয়লেট ও গোসলখানার মেঝেতে মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে৷

বার্লিনে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থার কর্মী মানফ্রেড নোভাক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সব কেন্দ্রে এই সমস্যা না থাকলেও সমস্যাটা আছে৷ ব্যাপারটা নির্ভর করে ঐ কেন্দ্রের শরণার্থীরা কোন দেশ থেকে এসেছে তার ওপর৷''

‘বহু সাংস্কৃতিক' টয়লেট

সহজে বহন করা যায় এমন টয়লেট তৈরি করে জার্মান কোম্পানি ‘গ্লোবাল ফ্লিগেনশ্মিডট'৷

Deutschland Berlin-Weißensee Toilettenhäuschen Notunterkunft für Flüchtlinge geschlossen

অনেক কেন্দ্রের বাথরুম ও গোসলখানার মেঝেতে মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে

শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান করতে তারা এক অভিনব টয়লেট তৈরি করেছে৷ কিছুদিন হলো সেটা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে৷ পশ্চিম ও পুব – এই দুই সংস্কৃতির মানুষ যেন একই টয়লেট ব্যবহার করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷

শরণার্থীদের দেখভাল করছে এমন সংস্থার কয়েকটি ইতিমধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানান কোম্পানির প্রধান পেটার ফ্লিগেনশ্মিডট৷ অবশ্য তিনি মনে করেন, এই যে ‘সমস্যা' সেটা সাময়িক৷ তাই এ ধরণের টয়লেটের প্রয়োজনও হবে সাময়িক৷ কিন্তু পেটার ফ্লিগেনশ্মিডট মনে করেন, তাঁদের নকশা করা এই বহনযোগ্য টয়লেটের চাহিদা বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও থাকবে, যেখানে নির্মাণকাজে অনেক পশ্চিমা নাগরিকও কাজ করেন৷

‘বহু সাংস্কৃতিক' টয়লেটের সত্যিই কি প্রয়োজন আছে? জানান নীচের ঘরে৷

প্রাথমিক অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রথম তিন মাস

রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে রাখার জন্য এই ‘রিসেপশান সেন্টারগুলি’ আছে – যেমন রাইনল্যান্ড প্যালেটিনেট রাজ্যের ট্রিয়ার শহরে৷ উদ্বাস্তুরা জার্মানিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের সাধারণত এ ধরনের প্রাথমিক অভ্যর্থনা কেন্দ্রে রাখা হয়৷ সেখানে তিন মাস থাকার পর তাঁদের কোনো শহর কি জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

টাউন হলে ক্যাম্পবেড

প্রাথমিক রিসেপশান সেন্টারগুলো পুরোপুরি ভর্তি, কাজেই সাময়িক বাসস্থান হিসেবে অন্যান্য ভবন কাজে লাগানো হচ্ছে৷ নর্থ রাইন ওয়েস্ট ফালিয়া রাজ্যের হাম শহরের টাউন হলে ৫০০ উদ্বাস্তুর থাকার আয়োজন করা হয়েছে৷ ৭০০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের হলটিতে বেড়া দিয়ে দিয়ে আলাদা আলাদা ‘ঘরের’ ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ প্রত্যেকটি ‘ঘরে’ ১৪টি ক্যাম্পবেড রাখা চলে৷

ক্লাশরুমে রাত্রিবাস

উদ্বাস্তুর স্রোতে শহরগুলি নাজেহাল! আখেন শহরকে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩০০ উদ্বাস্তুকে রাখার ভার নিতে হয়৷ একমাত্র সমাধান: উদ্বাস্তুদের শোয়ার জন্য ইন্ডা গিমনাজিয়ুম নামের একটি স্কুলের ক্লাশরুমে ম্যাট্রেস পাতা৷

তাঁবুতে বাস

বর্তমানে জার্মানিতে ক্রমেই আরো বেশি সাময়িক উদ্বাস্তু শিবির সৃষ্টি করা হচ্ছে – তাঁবু গেড়ে৷ স্যাক্সনি আনহাল্ট রাজ্যের হালব্যারস্টাট শহরে এ ধরনের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প সৃষ্টি করে আরো অনেক বেশি উদ্বাস্তুদের রাখা সম্ভব হয়েছে৷

ড্রেসডেনের টেন্ট ক্যাম্প

উদ্বাস্তুদের জন্য একটি সুবিশাল টেন্ট ক্যাম্প বা ‘তাঁবু শিবির’ সৃষ্টি করা হয়েছে স্যাক্সনি রাজ্যের রাজধানী ড্রেসডেন শহরে৷ শৌচাগারের সামনে লম্বা লাইন পড়ে, খাবারের জন্যও অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়৷ এখানে আপাতত ১৫টি দেশ থেকে আগত মোট এক হাজার মানুষের বাস৷ আগামীতে আরো শ’খানেক মানুষ এখানে থাকতে বাধ্য হবেন৷

কনটেইনারে বাস

তাঁবুর বদলে উদ্বাস্তুদের কনটেইনারে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে কোথাও কোথাও৷ ট্রিয়ারে ২০১৪ সাল থেকেই এই পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে৷ আজ সেখানে এক হাজারের বেশি উদ্বাস্তু বাস করেন৷

উদ্বাস্তু আবাসের উপর আক্রমণ

বাডেন ভুর্টেনব্যার্গ রাজ্যের রেমকিঙ্গেন শহরে গত জুলাই মাসের ১৮ তারিখে একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে৷ অজ্ঞাত আততায়ীরা যে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, সেখানে উদ্বাস্তুদের রাখার কথা ছিল৷ উদ্বাস্তুদের প্রতি এ ধরনের বিরূপ মনোভাব এখন অন্যত্রও পরিলক্ষিত হচ্ছে, বিশেষ করে জার্মানির পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলে৷

নতুন আবাসন গড়ার কাজ চলেছে

উদ্বাস্তুদের বসবাসের জন্য একাধিক পৌর এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যেমন বাভেরিয়ার একেনটাল শহরে৷ এখানে মোট ৬০ জন মানুষ বাস করতে পারবেন৷ আগামী বছরের সূচনাতে এখানে প্রথম উদ্বাস্তুরা বসবাস করতে পারবেন, বলে আশা করা হচ্ছে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়