শরণার্থীদের থাকার খরচ তাদেরই দিতে হবে!

ডেনমার্কের সংসদে মঙ্গলবার এমনই একটি বিল উত্থাপিত হবে এবং সেটা পাস হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে৷ এর ফলে কোনো শরণার্থীর কাছে অর্থ ও জিনিসপত্র মিলিয়ে ১,৩৭০ ইউরোর বেশি থাকলে সেটা সরকার নিয়ে নেবে৷

ঐ অতিরিক্ত অর্থ ঐ শরণার্থীরই ডেনমার্কে থাকার খরচ হিসেবে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে ডেনিশ সরকার৷ অর্থাৎ শরণার্থীরা যদি দেশ ছাড়ার সময় ঘড়ি, মোবাইল ফোনসহ এমন কিছু নিয়ে আসে যার অর্থমূল্য ১,৩৭০ ইউরোর চেয়ে বেশি, তবে সরকার সেগুলো নিয়ে নেবে৷ তবে আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে জড়িত স্বর্ণালংকার, যেমন বিয়ের আংটি ইত্যাদি নেয়া হবে না৷

ডেনমার্ক সরকারের এমন প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় কমিশনের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷

তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসন সংক্রান্ত মন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও ডেনমার্কের নিজস্ব আইন মেনেই এই প্রস্তাব করা হয়েছে৷ ডেনমার্কের আইন অনুযায়ী, সেখানে বসবাসকারী কেউ যদি সরকারের সামাজিক ভাতা পেতে চায় তাহলে তার কাছে ১,৩৭০ ইউরোর বেশি সম্পত্তি থাকলে চলবে না৷

ইউরোপে শরণার্থী সংকট চরমে

অভিবাসীর মৃত্যু

হাঙ্গেরি থেকে ভিয়েনাগামী মোটরওয়েতে বৃহস্পতিবার ফেলে রাখা অবস্থায় যে রেফ্রিজারেটেড ট্রাকটি পাওয়া যায়, তা থেকে ৭০টির বেশি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, বলে ভিয়েনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে৷

ইউরোপে শরণার্থী সংকট চরমে

সলিলসমাধি

লিবিয়ার উপকূল থেকে ইটালি পৌঁছনোর প্রচেষ্টায় আরো একটি উদ্বাস্তু বোট ডুবে যায় বৃহস্পতিবার৷ বোটটি পশ্চিম লিবিয়ার জুওয়ারা বন্দর থেকে যাত্রা করছিল৷ লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা দু’শোর বেশি যাত্রীকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন, কিন্তু আরো দু’শতাধিক যাত্রী জাহাজের খোলে আটকা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ বোটটিতে প্রধানত সাব-সাহারান আফ্রিকা, পাকিস্তান, সিরিয়া, মরক্কো ও বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীরা ছিলেন৷

ইউরোপে শরণার্থী সংকট চরমে

যাত্রী বোঝাই

লিবিয়ার উপকূলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্ধারকার্যের দায়িত্বে রয়েছে ইটালির উপকূলরক্ষী বাহিনী৷ তাদের বিবৃতি অনুযায়ী শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারেই প্রায় ১,৪৩০ জন মানুষকে বিভিন্ন নৌ-অভিযানে উদ্ধার করা হয়৷ লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনীর সামর্থ্য সীমিত, কেননা তাদের কাছে ছোট ছোট রবারের বোট, টাগবোট কিংবা মাছ ধরার নৌকা ছাড়া অন্য কোনো জলযান নেই৷

ইউরোপে শরণার্থী সংকট চরমে

কাঁটাতারের বেড়া

পাকানো কাঁটাতার ফেলে রেখে আর বিপুল সংখ্যায় পুলিশ পাঠিয়ে বুদাপেস্ট সরকার উদ্বাস্তুর স্রোত সামাল দেবার চেষ্টা করছেন৷ সার্বিয়ার সঙ্গে ১৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত জুড়ে একটি চার মিটার উঁচু তারের বেড়া তৈরির কাজ আগামী সোমবার শেষ হবার কথা৷ তার আগে উদ্বাস্তুরা কাঁটাতার পেরিয়ে অভীপ্স পশ্চিম ইউরোপ অভিমুখে আরো এক ধাপ অগ্রসর হবার চেষ্টা করছেন৷

ইউরোপে শরণার্থী সংকট চরমে

সীমান্তের পর সীমান্ত

বিশেষ করে সিরীয় উদ্বাস্তুরা গ্রিস থেকে ম্যাসিডোনিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপ যাবার চেষ্টা করছেন৷ শুধুমাত্র বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার অবধি ১,২৮৮ জন উদ্বাস্তু এ ভাবে ম্যাসিডোনিয়ায় আসেন বলে স্কোপিয়ে সরকার জানিয়েছেন৷ উদ্বাস্তুদের নথিভুক্ত করে তিন দিন সময় দেওয়া হচ্ছে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন পেশ করার কিংবা দেশ ছাড়ার জন্য৷

ইউরোপে শরণার্থী সংকট চরমে

হাঁটাপথে

সার্বিয়া থেকে হাঙ্গেরি-তে ঢোকার আর কোনো পথ খোলা না থাকুক, রেলপথ তো রয়েছে! সেই পথেই পায়ে হেঁটে স্বপ্নের ইউরোপের দিকে চলেছেন উদ্বাস্তুরা৷

ইউরোপে শরণার্থী সংকট চরমে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘‘ব্যর্থতা’’

বৃহস্পতিবার ভিয়েনায় পশ্চিম বলকান সংক্রান্ত সম্মেলনে নেতারা ট্রাকে উদ্বাস্তুদের লাশ পাবার ঘটনা শুনে স্তম্ভিত ও বিমূঢ় হয়ে যান৷ ‘‘আমাদের ইউরোপীয় মনোবৃত্তি, অর্থাৎ সংহতির মনোভাব নিয়ে শীঘ্র এই অভিবাসন প্রশ্নের সমাধান করতে হবে’’, বলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল (বাম থেকে দ্বিতীয়)৷

ডেনমার্কের অনেক নাগরিকও সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন৷ লেখক ক্রিস্টিয়ান মোর্ক দেশটির অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন৷ সঙ্গে তিনি তাঁর দাদির আংটিটিও যুক্ত করে দিয়েছেন৷ বংশপরম্পরায় আংটিটি পেয়েছেন ঐ লেখক৷ মন্ত্রীকে মোর্ক জানান, তাঁর প্রোপিতামহ ১৮৬০ এর দশকে রাশিয়া থেকে যখন ডেনমার্কে এসে পৌঁছায় তখন, তাঁর জানামতে, তাঁকে (প্রোপিতামহ) কোনো সম্পত্তি জমা দিতে হয়নি৷ এখন সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে যাঁরা ভুক্তভোগী হবেন তাঁদের কথা মনে করে আপনাকে আংটিটি পাঠিয়ে দেয়া হলো৷

নিজের ফেসবুক পাতায় মোর্ক এই বিষয়টি শেয়ার করলে সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে অনেকে মন্তব্য করেন৷ কার্স্টেন মারি ভাডে মোর্কের এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন৷ ভাডে বলেন, মোর্ক যে সময়ের কথা বলছেন সেই সময় শরণার্থীদের জন্য বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি৷

দাদির আংটি

শরণার্থীদের নিজেদেরই চাকরি খুঁজে নিতে হয়েছে, জীবনযাপনের জন্য অর্থ আয় করতে হয়েছে

এদিকে, সুইডেনে তরুণ শরণার্থীদের একটি ক্যাম্পে ২২ বছরের এক নারী কর্মীকে তরুণ এক শরণার্থী হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ পুলিশ সেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে৷ তবে তার নাম, পরিচয়, দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি৷ ক্যাম্পে কাজ করার সময় ঐ নারী কর্মীর উপর হামলা চালানো হয়৷ এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়৷ ক্যাম্পে ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সি শরণার্থীদের রাখা হয়৷

আমাদের অনুসরণ করুন