শরণার্থীদের ধরে ধরে ফেরত পাঠাচ্ছে ম্যাসিডোনিয়া

মানুষ নয়, ওরা যেন ‘মৃত্যুর মেশিন'৷ গ্রিসে ফিরে এ কথাই বললেন এক অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ নিজেদের সীমান্ত থেকে ১৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে গ্রিসে ফেরত পাঠিয়েছে ম্যাসিডোনিয়ার নিরাপত্তারক্ষীরা৷

গ্রিসের ইডোমেনি শহরের শরণার্থী শিবিরে কিছুদিন মানবেতর জীবনযাপনের পর বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পেরিয়ে, নদী অতিক্রম করে ম্যাসিডোনিয়ার সীমান্তে পৌঁছেছিল ১৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ ম্যাসিডোনিয়া থেকে জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো ধনী দেশে যাওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য৷ ম্যাসিডোনিয়ার নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ধরে ধরে ট্রাকে তুলেছে, সেই ট্রাক তাদের আবার পৌঁছে দিয়েছে ইডোমেনির সেই শরণার্থী শিবিরে যেখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ, খাওয়া, ঘুমানো বা পয়ঃনিষ্কাশণের একেবারেই সুব্যবস্থা নেই৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক অভিবাসনপ্রত্যাশী জানান, ম্যাসিডোনিয়ার সীমান্তে পৌঁছানো মাত্রই তাদের সঙ্গে রুক্ষ আচরণ শুরু করে সীমান্তরক্ষীরা৷ ২৫ থেকে ৫০ জনের একেকটা দলে ভাগ করে ট্রাকে তুলে দেয়া হয় তাদের৷ ট্রাক তাদের ফিরিয়ে আনে যেখান থেকে মুক্তির জন্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাহাড়ের দুর্গম পথ অতিক্রম করেছিলেন, গ্রিসের সেই ইডোমেনিতে৷

ম্যাসিডোনিয়াসহ পশ্চিম বলকান দেশগুলো শরণার্থীদের স্রোত থামানোর জন্য নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রিস থেকে ম্যাসিডোনিয়ায় প্রবেশ কমছিল৷ এবার আরো কঠোর হতে দেখা গেল ম্যাসিডোনিয়ার নিরাপত্তা রক্ষীদের৷

শিশু, পরিবারসহ শত শত শরণার্থী ইডোমিনি শরণার্থী শিবির থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন সোমবার সকালে৷ উদ্দেশ্য গ্রিস-ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের কোন অরক্ষিত অংশ থেকে ম্যাসিডোনিয়ায় প্রবেশ করা৷

দলভেদে শরণার্থী শিবির ছাড়া শরণার্থীদের এভাবেই ম্যাসিডোনিয়ায় ঢুকতে বাধা দিয়েছে গ্রিসের পুলিশ৷

শরণার্থীদের মিছিল দেখার পর সম্ভবত পুলিশকে ফোন করেন ডানের এই স্থানীয় বাসিন্দা৷

গ্রিসের ইডোমেনি শহরের শরণার্থী শিবিরে কিছুদিন মানবেতর জীবনযাপনের পর বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পেরিয়ে, নদী অতিক্রম করে ম্যাসিডোনিয়ার সীমান্তে পৌঁছেছিল ১৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ ম্যাসিডোনিয়া থেকে জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো ধনী দেশে যাওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য৷ ম্যাসিডোনিয়ার নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ধরে ধরে ট্রাকে তুলেছে, সেই ট্রাক তাদের আবার পৌঁছে দিয়েছে ইডোমেনির সেই শরণার্থী শিবিরে যেখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ, খাওয়া, ঘুমানো বা পয়ঃনিষ্কাশণের একেবারেই সুব্যবস্থা নেই৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক অভিবাসনপ্রত্যাশী জানান, ম্যাসিডোনিয়ার সীমান্তে পৌঁছানো মাত্রই তাদের সঙ্গে রুক্ষ আচরণ শুরু করে সীমান্তরক্ষীরা৷ ২৫ থেকে ৫০ জনের একেকটা দলে ভাগ করে ট্রাকে তুলে দেয়া হয় তাদের৷ ট্রাক তাদের ফিরিয়ে আনে যেখান থেকে মুক্তির জন্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাহাড়ের দুর্গম পথ অতিক্রম করেছিলেন, গ্রিসের সেই ইডোমেনিতে৷

ম্যাসিডোনিয়াসহ পশ্চিম বলকান দেশগুলো শরণার্থীদের স্রোত থামানোর জন্য নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রিস থেকে ম্যাসিডোনিয়ায় প্রবেশ কমছিল৷ এবার আরো কঠোর হতে দেখা গেল ম্যাসিডোনিয়ার নিরাপত্তা রক্ষীদের৷

১৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে গ্রিসে ফেরত পাঠানোর পর আরো ৬০০ জনকে সীমান্ত অতিক্রমে বাধা দেয়া হয়েছে৷ বাধা পেয়ে ফিরতে বাধ্য হওয়া মানুষদের গ্রিসের পাহাড়ে রাত কাটাতে হয়েছে৷

এ মুহূর্তে অন্তত ৪৩ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রিসে অপেক্ষা করছে৷ ইডোমেনিতে রয়েছে অন্তত ১২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা৷ ইডোমেনির ১২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে এক হাজারেরও বেশি শিশু বলে জানা গেছে৷

কোনো এক উপায়ের সন্ধানে

শিশু, পরিবারসহ শত শত শরণার্থী ইডোমিনি শরণার্থী শিবির থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন সোমবার সকালে৷ উদ্দেশ্য গ্রিস-ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের কোন অরক্ষিত অংশ থেকে ম্যাসিডোনিয়ায় প্রবেশ করা৷

সাহসিকতার পরিচয়

ম্যাসিডোনিয়ায় প্রবেশের আশায় এক উত্তাল নদী এভাবে পাড়ি দিয়েছেন শরণার্থীরা৷ কাঁটাতারের বেড়া নেই সীমান্তের এমন অংশ খুঁজে পেতে তাদের প্রানান্ত চেষ্টা৷

ভয়, আতঙ্ক

উত্তাল নদী পাড় হতে গিয়ে ভয় পাওয়া এক অল্প বয়সি শরণার্থীকে সাহায্যে এগিয়ে আসেন অন্য শরণার্থীরা৷

পুলিশের বাধা

দলভেদে শরণার্থী শিবির ছাড়া শরণার্থীদের এভাবেই ম্যাসিডোনিয়ায় ঢুকতে বাধা দিয়েছে গ্রিসের পুলিশ৷

স্থানীয়দের সহায়তা

গ্রিক সীমান্তের গ্রাম চামিলোর, যেটি কিনা সীমান্ত থেকে মাত্র এক দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দূরে, বাসিন্দারা এভাবেই পানি দিয়ে সহায়তা করেছেন লম্বা পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা শরণার্থীদের৷

চরম দুর্দশা

ক্লান্ত এবং দুর্বল শরণার্থীরা নদী পাড় হতে গিয়ে চরম দুর্দশায় পতিত হন৷

সতর্ক বার্তা

শরণার্থীদের মিছিল দেখার পর সম্ভবত পুলিশকে ফোন করেন ডানের এই স্থানীয় বাসিন্দা৷

সেনাবাহিনীর হুমকি

ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তে শরণার্থীদের প্রথমাংশ প্রবেশের কিছু পরেই সেখানে হাজির হন সেদেশের সেনাবাহিনী৷

মার খাওয়া এবং পোড়া

এক আফগান শরণার্থী দাবি করেছেন, ম্যাসিডোনিয়ার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পিটিয়েছে এবং গাল পুড়ে দিয়েছে৷

এসিবি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)