শরণার্থীদের বিরুদ্ধে নব্য নাৎসিদের নগ্ন নিষ্ঠুরতা

অভিবাসীদের বিষয় নিয়ে আবারো উদ্বিগ্ন জার্মানি৷ সপ্তাহান্তের দু-দু'টি ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে জার্মানির একটা অংশ উদ্বাস্তুদের চায় না৷ তাই কখনও তারা শরণার্থীদের দুদর্দশায় হেসেছে, কখনও বা আঙুল তুলে বলেছে, ‘বাড়ি ফিরে যাও'৷

পূর্বাঞ্চলের স্যাক্সনি রাজ্যের ক্লাউসনিৎস শহরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটা বাসকে আসতে দেখেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা৷ প্রায় একশ জন স্থানীয় বাসিন্দা চড়াও হয় শরণার্থীদের ওপর, চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘আমরাই জার্মান নাগরিক', শরণার্থীদের উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেয়, ‘বাড়ি ফিরে যাও', ‘বাড়ি যাও'৷

পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খায় পুলিশ৷ এমনকি ভীতসন্ত্রস্ত এক শরণার্থী শিশুকে টেনে-হিচড়ে বাস থেকে নামিয়েও দেয় এক পুলিশ কর্মকর্তা৷ ‘পরিস্থিতি সামাল দিতেই এমনটা করতে হয়েছিল' – ক্লাউসনিৎস শহরের পুলিশ কর্মকর্তা উভে রাইসমান এ কথা বললেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায় শরণার্থী-বিরোধী জনতার ঢলের কার্যকলাপ৷ ভিডিওতে খুব স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে পুলিশের অমানবিক আচরণ৷

অন্য ঘটনাটি আরো মর্মান্তিক৷ শনিবার জার্মানির আরেক পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাউটজেনে প্রায় ৩০০ শরণার্থীর এক আশ্রয় শিবিরে আগুন লাগে৷ দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে যুদ্ধের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে জার্মানিতে আশ্রয় নেয়া শরনার্থীদের শেষ সম্বল৷ তাদের আর্তনাদে দ্রুতই জমা হতে থাকে স্থানীয় মানুষ৷ কিন্তু কোনোরকম সাহায্য করা তো দূরের কথা, বরং আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে তারা৷

যা হোক, আগুন লাগার পরপরই দমকল বাহিনী ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে৷ আশ্রয় শিবিরের ছাদটি পুরো পুড়ে গেলেও তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি৷ পুলিশের ধারণা, দাঁড়িয়ে থাকা ঐ ব্যক্তিদের মধ্যেই কেউ হয়ত আগুন লাগিয়েছিল৷

এ দু'টি ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মানির বিচারমন্ত্রী হাইকো মাস৷ পুলিশের আচরণেরও দ্রুত তদন্তের দাবি করেছেন তিনি৷ কিন্তু ক্রমবর্ধমান শরণার্থী-বিরোধীতা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে জার্মানি? অথচ ইউরোপকে কিন্তু কাঁটাতারের পেছনে দেখনে চাননি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ শরণার্থী প্রশ্নে প্রথম থেকেই আন্তরিক তিনি৷ কিন্তু উদার উদ্বাস্তু নীতিকে কেন্দ্র করে বারে বারেই তাঁকে, তাঁর সরকারকে চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে, হচ্ছে এখনও৷

ডিজি/এসিবি

‘নব্য নাৎসি’ আর পুলিশদের এমন নিষ্ঠুর আচরণ দেখে আপনার অনুভূতি কী? জানান নীচের ঘরে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

‘বিশ্বাসঘাতক’ ম্যার্কেল

জার্মানির ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী গোষ্ঠী পেগিডার হাজার হাজার সমর্থক সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৷ শরণার্থীদের প্রতি নরম মনোভাবের কারণ তারা ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ‘উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘জার্মানির মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ আনেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীদের নিয়ে কটূক্তি

পেগিডার (প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান অ্যাগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ দ্য অক্সিডেন্ট) প্রতিষ্ঠাতা লুটৎস বাখমান সম্প্রতি শরণার্থীদের ‘পশু’, ‘আবর্জনা’ ও ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ বলে আখ্যায়িত করেন৷ এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

সমাজে অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়

সোমবার বিক্ষোভের সময় বাখমান বলেন, শরণার্থীর সংখ্যা দেড় কিংবা দুই মিলিয়নেই থেমে থাকবে না৷ এরপর আসবে তাদের স্ত্রী; আসবে এক, দুই কিংবা তিন সন্তান৷ ফলে এতগুলো লোকের জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্তির কাজ অসম্ভব হয়ে পড়বে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

জার্মান সরকারের অস্বীকার

জার্মানির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘বিল্ড’ সরকারের গোপন ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছর জার্মানিতে প্রায় দেড় মিলিয়ন শরণার্থী আসবে বলে মনে করছে সরকার৷ যদিও প্রকাশ্যে সরকার বলছে সংখ্যাটা এক মিলিয়ন হতে পারে৷ তবে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো গোপন ডকুমেন্টের কথা তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের বলেছেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীর মৃত্যু

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের এক শরণার্থীদের বাসস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইরিত্রিয়া থেকে আসা ২৯ বছরের এক শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে৷ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি৷ এদিকে, জার্মান সরকারের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর শরণার্থী ও তাদের বাসস্থানের উপর হামলার সংখ্যা বেড়েছে৷ এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই এরকম ২০২টি ঘটনা ঘটেছে বলে সরকার জানিয়েছে, যেখানে গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১৯৮৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

বিপদে ম্যার্কেল

শরণার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণে নিজ দল সহ অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের তোপের মুখে পড়েছেন ম্যার্কেল৷ তাঁরা জার্মানির শরণার্থী নীতি ও শরণার্থীদের আগমনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চ্যান্সেলরকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷

আমাদের অনুসরণ করুন