শরণার্থীর পায়ে চুমু খেলেন পোপ

শরণার্থীর পায়ে চুমু খেলেন পোপ

ধর্ম এবং মানবপ্রেম

সব ধর্মেই আছে মানুষকে ভালোবাসার কথা৷ কিন্তু ধর্মানুষ্ঠানে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের সম্মান জানানোর নজির খুব বিরল৷ বৃহস্পতিবার বিরল দৃষ্টান্তই স্থাপন করলেন পোপ ফ্রান্সিস৷ গুডফ্রাইডের ঠিক আগের দিন কিছুটা সময় তিনি কাটাতে চেয়েছিলেন শরণার্থীদের মাঝে৷ ইটালির রোম থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের এক শিবিরে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তাঁর৷

শরণার্থীর পায়ে চুমু খেলেন পোপ

‘শুধু নিজের ধর্মের মানুষকে নয়, সবাইকে সম্মান করুন’

কাস্টেলনুয়োভো ডি পোর্টো শরণার্থী শিবিরে গিয়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চের ধর্মগুরু সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা মনে করিয়ে দেন৷ তিনি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, ক্যাথলিক, কপ্ট, এভাঞ্জেলিকাল – সবাই ভাই ভাই৷ আমরা সবাই একই সৃষ্টিকর্তার শিশু৷ এই পৃথিববীতে আমরা সবাই মিলেমিশে, শান্তিতে থাকতে চাই৷’’ শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সবাইকে অন্য ধর্মের মানুষদের সম্মান করার আহ্বানও জানিয়েছেন পোপ৷

শরণার্থীর পায়ে চুমু খেলেন পোপ

শরণার্থীদের পা ধুয়ে চুমু

ধার্মিকদের কাছে ধর্মগুরুরা সব সময়ই সম্মানিত৷ তবে ইস্টারে ধর্মগুরুদেরও অন্যদের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে হয়৷ এই উৎসবে সাধারণ মানুষের পা ধুয়ে দেন ধর্মগুরুরা৷ বৃহস্পতিবার পা ধুয়ে পায়ে চুমু খেয়ে ১১ জন শরণার্থী এবং তাঁদের মাধ্যমে ইউরোপে আশ্রিত সব শরণার্থীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা জানান পোপ ফ্রান্সিস৷

শরণার্থীর পায়ে চুমু খেলেন পোপ

‘আজ আমি ওবামার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’

মালি থেকে আসা এক মুসলিম তরুণেরও পা ধুয়ে দিয়েছেন পোপ৷ চুমুও খেয়েছেন পায়ে৷ কয়েকদিন ধরেই এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন ওই তরুণ৷ পোপ পা ধুয়ে দেয়ায় তাঁর মনে হয়েছে, ‘‘আমি যেন (বারাক) ওবামার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ৷ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে ভালো মানুষ পোপ আমার পা ধুয়ে দিচ্ছেন – ভাবা যায়! ’’ ওপরের ছবিতে পোপের সঙ্গে এক শরণার্থীর সেলফি তোলার দৃশ্য৷

শরণার্থীর পায়ে চুমু খেলেন পোপ

ভালোবাসার বিপরীতে ঘৃণা আর হত্যা

এ সপ্তাহেই ব্রাসেলসে বোমা হামলায় মারা গেছেন ৩১ জন, আহত হয়েছেন অনেকে৷ শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মীতা জানাতে গিয়ে ব্রাসেলসের হতাহতদেরও ভোলেননি পোপ ফ্রান্সিস৷ তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাতে গিয়ে পোপ বলেন, ‘‘মাত্র তিন দিন আগে ইউরোপের এক শহরে যুদ্ধ আর ধ্বংসের নমুনাও দেখলাম৷ যারা তা করেছে তারা শান্তিতে থাকতে চায় না৷’’

ইস্টারের ঐতিহ্য আর ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে এক শরণার্থী শিবিরে হাজির হয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস৷ সেখানে গিয়ে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বলতে গেলে সব ধর্মাবলম্বী শরণার্থীদেরই পা ধুয়ে পায়ে চুমুও খেয়েছেন তিনি৷

মিডিয়া সেন্টারে আরো পাবেন৷

9 ছবি
মিডিয়া সেন্টার | 14.03.2018

পোপ ফ্রান্সিসের পাঁচ বছর

আমাদের অনুসরণ করুন