শরণার্থী ইস্যুর কারণেই অধরা থেকে গেল সমাধানসূত্র

রাত প্রায় দু'টো পর্যন্ত জোট আলোচনা চলল৷ কিন্তু সমাধান সূত্রে পৌঁছানো গেল না৷ আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি এবং আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল সিডিইউ বা খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীরা৷

এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল! মহাজোট যে খুব সহজে হবে না, বোঝা গিয়েছিল আগেই৷ রবিবার রাতে তা আরো স্পষ্ট হলো৷ রবিবার রাত ২টো পর্যন্ত জোট আলোচনা চলে৷ কিন্তু কোনো পক্ষই সমঝোতা সূত্রে পৌঁছাতে পারেনি৷ সূত্রের খবর, ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জোট আলোচনার সময়সীমা নির্দিষ্ট হয়েছে৷ সেই মোতাবেক পরবর্তী আলোচনার দিনও ধার্ষ হয়েছে৷

প্রশ্ন হলো, সমস্যাগুলো ঠিক কী? কেন রবিবার রাত ২টো পর্যন্ত আলোচনা চালিয়েও সমাধানে পৌঁছানো গেল না? এর উৎস খুঁজতে গেলে খানিক পিছনের দিকে তাকাতে হবে৷

সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের সময় থেকেই সামাজিক গণতন্ত্রী বা এসপিডি অভিযোগ তুলেছিল, জোটে তাদের দাবিগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না৷ যার মধ্যে অন্যতম শরণার্থী সমস্যা৷ ফলে এবার জোট আলোচনার শুরুতেই সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটেরা তাদের দাবিগুলি স্পষ্ট ভাবে শর্তের আকারে দিয়ে রেখেছিল৷ যার প্রথম পয়েন্টই ছিল শরণার্থী সংক্রান্ত৷ তাদের দাবি, জার্মানিতে থাকা বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের পরিবারকেও আসার সুযোগ দিতে হবে৷ এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

‘আরও ইউরোপ’

বর্তমান সংকটগুলির সমাধানের লক্ষ্যে ব্রেক্সিটের পথে না গিয়ে ইইউ-কে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চায় জার্মানির সামাজিক গণতন্ত্রী দল৷ ইউরোপীয় স্তরে ন্যূনতম মজুরি, তরুণদের বেকারত্বের মোকাবিলা, কোম্পানিগুলির উপর অভিন্ন কর চাপানো এবং ‘কর ফাঁকির মরুদ্যান’ বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন দলের নেতা মার্টিন শুলৎস৷ ২০২৫ সালের মধ্যে ‘ইউরোপীয় যুক্তরাষ্ট্র’ স্থাপনের স্বপ্ন দেখছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রাক্তন স্পিকার৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

শ্রমিকদের আরও অধিকার

জার্মানিতে শ্রমিক-কর্মীদের অধিকার বাড়াতে চিরকাল উদ্যোগ নিয়ে এসেছে সামাজিক গণতন্ত্রী দল৷ তবে সাম্প্রতিক কিছু সংস্কারের ফলে সেই ভাবমূর্তি বেশ ক্ষুণ্ণ হয়েছে৷ এবার বেতন ও মজুরি কাঠামো কার্যকর করা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার দাবি জানাচ্ছে এসপিডি৷ তাছাড়া যারা পার্ট টাইম বা খন্ডকালীন কাজ করছে, তাদের ফুল টাইম বা পূর্ণ কাজের কাঠামোয় ফিরে যাবার অধিকারের স্বীকৃতি চায় এসপিডি৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

অবসর ভাতার আমূল পরিবর্তন

সমাজে সংহতির ভিত্তিতে জার্মানির অবসর ভাতা কাঠামোর আমূল পরিবর্তন চায় সামাজিক গণতন্ত্রী দল৷ বিশেষ করে সারা জীবন কাজ করেও শেষ বয়সে দারিদ্র্যের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চায় এসপিডি৷ অতএব সংহতির স্বার্থে অবসর ভাতার বিচ্ছিন্ন সব কাঠামোগুলিকে একত্র করার চেষ্টা চালাতে চায় তারা৷ অত্যন্ত জটিল এই ব্যবস্থার রাতারাতি পরিবর্তন যে কঠিন হবে, সে বিষয়ে অবশ্য তেমন সংশয় নেই৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

বিনামূল্যে শিক্ষা

জার্মানির শিক্ষাব্যবস্থার একটা বড় অংশই সরকারি ভরতুকিতে চলে৷ তবে অবকাঠামোর কিছু দুর্বলতার ফলে সমস্যা রয়েছে৷ বিশেষ করে শিক্ষা রাজ্য সরকারগুলির এক্তিয়ারে থাকায় এ ক্ষেত্রে সার্বিক উদ্যোগ নেওয়া কঠিন৷ এসপিডি দলের দাবি, সারা দেশে বিনামূল্যে কিন্ডারগার্টেন ও সেখানে সারাদিন বাচ্চা রাখার সুযোগকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে৷ এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিকীকরণসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগ চাই৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার সংস্কার

বর্তমানে জার্মানিতে সার্বজনীন ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালু রয়েছে৷ ডাক্তারখানা ও হাসপাতালে বেসরকারি স্বাস্থ্য বিমাকারীদের বিশেষ খাতির করা হয়, অন্যদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়৷ এই বিভাজন ঘুঁচিয়ে সবাইকে নিয়ে এক ‘নাগরিক স্বাস্থবিমা’ চালু করতে চায় সামাজিক গণতন্ত্রীরা৷ তবে এই প্রস্তাবের জোরালো বিরোধিতা করছে বেশ কিছু মহল৷ তাদের আশঙ্কা, এর ফলে স্বাস্থ্য অবকাঠামোর মানের ক্ষতি হবে৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

শরণার্থী নীতি

২০১৫ সালে বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর ঢলের কারণে জার্মানির রাজনীতি জগত উত্তাল হয়ে উঠেছে৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল তাঁর উদার মনোভাবের জন্য প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন৷ এসপিডি গোটা অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের দাবি জানাচ্ছে, যাতে আইনি পথে বিদেশিরা জার্মানিতে এসে কাজের সুযোগ পায়৷ তবে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অধিকার সঙ্কুচিত করার বিরোধী এই দল৷ আশ্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধসীমাও মানতে নারাজ তারা৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সন্ত্রাসী হামলা ও অপরাধ দমন করতে প্রায়ই হিমশিম খায় জার্মানির পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ৷ ফলে মানুষের মনে অসন্তোষ দেখা যায়৷ এই সমস্যার মোকাবিলা করতে এসপিডি দল আরও পুলিশকর্মী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছে৷ সেইসঙ্গে অপরাধ প্রতিরোধ করার জোরালো উদ্যোগ চায় তারা৷ তাদের মতে, দাগী অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে গোটা ব্যবস্থায় আরও দক্ষতার ছাপ আনতে হবে৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

পরিবেশ সংরক্ষণ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে এককালে জার্মানি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে৷ বিকল্প জ্বালানির বিকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাফল্যও এসেছে৷ কিন্তু কয়লার লাগাতার ব্যবহার, ডিজেল গাড়ি নিয়ে বিতর্কের মতো কারণে এ ক্ষেত্রে জার্মানির ভাবমূর্তি বেশ ধাক্কা খাচ্ছে৷ এমন প্রেক্ষাপটে এসপিডি বিকল্প জ্বালানির আরও ব্যবহারের উপর জোর দিতে চায়৷

কী চায় জার্মানির এসপিডি দল?

নারী-পুরুষের সমানাধিকার

শিল্পোন্নত দেশগুলিতেও কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য বাস্তব সমস্যা৷ এই তালিকায় জার্মানির অবস্থান ভালো নয়৷ একাধিক সরকার এই বৈষম্য দূর করতে শিল্প-বাণিজ্য জগতের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা করেও বিফল হয়েছে৷ এবার এসপিডি দল চায়, আলাপ-আলোচনার বদলে আইন করে তাদের এই বৈষম্য দূর করতে বাধ্য করা হোক৷

অন্যদিকে, জার্মান সরকার শরণার্থী সংক্রান্ত বিষয়ে ঠিক উলটো নীতিই গ্রহণ করেছে৷ আফগান শরণার্থীদের আফগানিস্তানে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে৷ এমন পরিস্থিতিতে শরণার্থী সংক্রান্ত আলোচনা রবিবার রাতে খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি৷ রাতভর আলোচনার পরেও কোনো সমাধান সূত্রে পৌঁছনো যায়নি৷ তবে ম্যার্কেলের সংসদীয় আপ্ত সহায়ক জানিয়েছেন, অচিরেই এই সংক্রান্ত আলোচনা একটি সমাধানসূত্রে পৌঁছাবে বলে তাঁর ধারণা৷ এসপিডি-র তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, এখনই আলোচনা থেকে তারা সরে আসছে না৷

শরণার্থী সমস্যা ছাড়াও এসপিডি-র আলোচনার শর্তের মধ্যে আছে, আয়কর সংক্রান্ত বিষয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়৷ আশা করা যায়, আগামী দিনে সেই বিষয়গুলিতেও সমাধানসূত্রে পৌঁছাতে পারবে দু'পক্ষ৷ এসপিডি-র তরফ থেকেও জানানো হয়েছে আগামী আলোচনার জন্য তারা তৈরি৷

এবারের জোট নিয়ে প্রথম থেকেই সংশয়ে ছিল এসপিডি৷ বস্তুত, দলের একটি বড় অংশ জোটে যোগ দেওয়ার বিপক্ষে ছিল৷ তাদের বক্তব্য, জোটে যোগ দিলে ভবিষ্যতে এসপিডি আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে৷ তবুও ভোটাভোটির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, জোট আলোচনায় যোগ দেবে এসপিডি৷ কিন্তু তাদের সভাতেই আলোচনার শর্তগুলি নির্ধারিত হয়ে যায়৷ ফলে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের তরফ থেকে যাঁরা আলোচনা চালাচ্ছেন, তাঁদেরও একপ্রকার হাত পা বাঁধা৷ মূল দাবিগুলি স্বীকৃতি না পেলে জোটে যোগ দেওয়া মুশকিল৷

জোট যদি একান্তই না হয়, সেক্ষেত্রে দু'টি রাস্তাই খোলা থাকবে ম্যার্কেলে সামনে৷ এক, সংখ্যালঘু সরকার তৈরি করা৷ যার মেয়াদ কখনোই বেশিদিন হতে পারে না৷ দুই, নতুন করে নির্বাচনে যাওয়া৷ তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এমন অবস্থায় নতুন করে নির্বাচনে গেলে দক্ষিণপন্থিদের জয়লাভের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে৷

এসজি/ডিজি (এপি, ডিপিএ)

যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেন ম্যার্কেল

‘কোল গার্ল’ যখন গুরুকে ছাড়লেন

দীর্ঘদিন চ্যান্সেলর পদে থাকে হেলমুট কোল ম্যার্কেলকে মন্ত্রিসভায় প্রথম সুযোগ দিয়েছেন এবং তাঁর উত্থানে সহায়তা করেছিলেন৷ কিন্তু ১৯৯৮ সালে চ্যান্সেলর পদ হারানোর পর ম্যার্কেল এবং সিডিইউ তাঁর বিপক্ষে চলে যায়৷ কোল কিছু সূত্র থেকে নগদ অর্থ সাহায্য নিয়েছিলেন৷ কিন্তু সে সব সূত্রের বিস্তারিত তিনি জানাননি যা দলের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছিলেন সেসময় সিডিইউ’র সাধারণ সম্পাদক আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেন ম্যার্কেল

গেয়ারহার্ড শ্র্যোডার – রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি

২০০৫ সালের নির্বাচনে এসপিডি’র চ্যান্সেলর শ্র্যোডারকে পরাস্ত করেন ম্যার্কেল৷ তবে এই পরাজয়ে শ্র্যোডারের নিজের দাম্ভিকতাও কিছুটা ভূমিকা রেখেছিল৷ সেই নির্বাচনে খুব অল্প ব্যবধানে সিডিইউ’র কাছে হেরে যায় এসপিডি৷ যদিও নির্বাচনের আগে টিভি বিতর্কে তিনি দাবি করেছিলেন, যে জার্মানরা চায় তিনি ক্ষমতায় থাকুন৷ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি এবং তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নেন৷

যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেন ম্যার্কেল

ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার - দীর্ঘদিনের সঙ্গী

শুরুতে ম্যার্কেলের অধীনে চারবছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার৷ এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন সামাজিক গণতন্ত্রীদের এই রাজনীতিবিদ৷ কিন্তু সেই নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেনি স্টাইনমায়ারের দল৷ পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আবারো ম্যার্কেলের অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন স্টাইনমায়ার৷ আর চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে তিনি জার্মানির প্রেসিডেন্ট৷

যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেন ম্যার্কেল

গ্যুন্টার ও্যটিঙার - পথের কাঁটা দূর হলো

ম্যার্কেল যে শুধু তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেন এমন নয়৷ বরং নিজের দলে থাকা সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের লোভনীয় অন্য কোন পদেও পাঠিয়ে দেন৷ তাঁর সহকর্মী বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গ্যুন্টার ও্যটিঙারকে ২০১০ সালে তিনি ইউরোপীয় কমিশনে বড় পদে পাঠিয়ে দেন৷ অথচ ও্যটিঙারের সেই পদ পাওয়ার মতো কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না৷

যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেন ম্যার্কেল

রোনাল্ড কখ - বাতিলের তালিকায় ফেলে দেয়া

দুই কারণে রোনাল্ড কখ পরিচিত৷ প্রথমত, তিনি দলাই লামার বন্ধু৷ দ্বিতীয়ত, সরকারের দ্বৈত নাগরিকত্ব চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কয়েক মিলিয়ন স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য৷ হেসে রাজ্যের এই রাজ্য প্রধান কখনো ম্যার্কেলের উত্থানে বাধা না হলেও হঠাৎ করেই মনে করেছিলেন তাঁকে বার্লিনে বড় পদের জন্য ডাকা হবে৷ কিন্তু ম্যার্কেলকে তাঁকে সেরকম কোন সুযোগ দেননি৷

যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেন ম্যার্কেল

ক্রিস্টিয়ান ভুল্ফ - একজন দুর্ভাগা রাষ্ট্রপতি

ক্রিস্টিয়ান ভুল্ফ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যার্কেলের প্রথম পছন্দ ছিলেন না৷ কিন্তু ২০১০ সালে হর্স্ট ক্যোলার পদত্যাগ করার পর সিডিইউ বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েনের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় ভুল্ফ সুযোগ পেয়ে যান৷ ভুল্ফ তখন লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের রাজ্যপ্রধান৷ পরবর্তীতে অবশ্য দুর্নীতির দায়ে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হয় তাঁকে৷

যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করেন ম্যার্কেল

পেয়ার স্টাইনব্রুক – সঠিক মানুষ, ভুল সময়

২০১৩ সালে ম্যার্কেল যখন তাঁর ক্যারিয়ারের তুঙ্গে, তখন এসপিডি থেকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেছে নেয়া হয় পেয়ার স্টাইনব্রুক’কে৷ ম্যার্কেলের অধীনে একসময় অর্থমন্ত্রী থাকা এই রাজনীতিবিদের চ্যান্সেলর পদ পাওয়ার সব যোগ্যতাই ছিল৷ কিন্তু সময়টা ঠিক ছিল না৷ ম্যার্কেলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুবিধা করতে পারেননি তিনি৷

আমাদের অনুসরণ করুন