শরণার্থী নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জার্মানিতে

শরণার্থীদের স্বাগতই জানিয়েছে জার্মানির সাধারণ মানুষ৷ ম্যার্কেল সরকারের উদার নীতিও প্রশংসা কুড়িয়েছে৷ তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে৷শরণার্থী নীতিমালায় আসছে পরিবর্তন৷ পাশাপাশি ব্যাপক হারে শরণার্থীর আগমনে অনিশ্চয়তা আর আশঙ্কা বাড়ছে৷

অক্টোবর ফেস্টের আর বেশি দেরি নেই৷ জার্মানির সবচেয়ে বড় এই বাৎসরিক উৎসবকে ঘিরে আগে থেকেই শুরু হয় সাজসাজ রব, শুরু হয় সানন্দে আনন্দোৎসবে শরিক হবার অপেক্ষা৷ এবার যোগ হয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে বড় রকমের শঙ্কা৷ সাংস্কৃতিক বৈপরিত্যের দুর্ভোগ এড়ানোর উপায় নিয়েও চিন্তিত অনেকে৷ মিউনিখের উরসুলা স্টেলেনব্যার্গের কথায় একই সঙ্গে উঠে এলো শরণার্থীদের প্রতি উদারতা আর পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে জন্ম নেয়া শঙ্কা৷ বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের শহরে শরণার্থী আসছে বলে আমি গর্বিত৷ কিন্তু বিষয়টা কোথায় গিয়ে থামবে এটা তো ভাবতেই হবে৷ আর কত লোক আসবে? তারা ঘুমাবে কোথায়? কে খাওয়াবে তাদের? আমরা তাদের সাহায্য করতে চাই, কিন্তু অনেক গরিব জার্মানও যে আছে, সে কথাও তো মনে রাখতে হবে!''

শুধু সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমার্ধেই মিউনিখে এসেছে ৭৫ হাজার শরণার্থী৷ জার্মানির অন্য কিছু স্থানেও অতিরিক্ত হারে আসায় কোনো কোনো অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে৷ বাভারিয়া জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর শরণার্থী নেবে না৷

ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকারও শরণার্থী নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে৷ বলা হচ্ছে, কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তাকে শুধু ফেরার টিকিট আর খাদ্যসামগ্রীর মতো সামান্য কিছু সহায়তা নিয়ে জার্মানি ছেড়ে যেতে হবে৷

শরণার্থী নীতির পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে৷ এ পরিবর্তনকে ‘অমানবিক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অনেকেই৷

এদিকে জার্মানির শরণার্থী বিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান মানফ্রেড শ্মিট পদত্যাগ করেছেন৷ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাপক হারে শরণার্থী গ্রহণ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সমালোচনার তোপ সামলাতে না পেরে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন তিনি৷

জার্মানিতে যখন শরণার্থীর সংখ্যাধিক্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশ তখনও নির্দিষ্ট কোটা মেনেই শরণার্থী গ্রহনে অনিচ্ছুক৷ জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের জানিয়েছেন, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে শরণার্থী গ্রহণে বাধ্য করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হবে৷ আগামী বুধবারই হয়ত সে সুযোগ পাবেন ডেমেজিয়ের৷ সেদিনই শরণার্থী গ্রহণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷

এসিবি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

শরণার্থীদের পাশে জার্মানির প্রখ্যাত তারকারা

‘শরণার্থী, স্বাগতম’

অনেক জার্মান তারকাই শরণার্থীদের সহায়তার জন্য নানা ধরণের উদ্যোগ নিচ্ছেন৷ ইলেক্ট্রো হিপহপ ব্যান্ড ‘ডাইশকিন্ড’ গত মার্চ মাসে এক অনুষ্ঠানে ‘স্বাগতম, শরণার্থী’ লেখা কাপড় বিক্রি শুরু করেছিল৷ সে উদ্যোগের পরিসর আরো বেড়েছে৷ এখন অনলাইনে অর্ডার দিয়েও কেনা যায় ওই ধরনের কাপড়৷ কাপড় বিক্রির টাকাটা শরণার্থীদের কল্যাণ সংগঠন ‘প্রো আস্যুল’-কে দিয়ে দেয় ডাইশকিন্ড৷

শরণার্থীদের পাশে জার্মানির প্রখ্যাত তারকারা

গানই হাতিয়ার

এক সংগীত শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন৷ নিজের কার্যক্রমটির নাম দিয়েছেন, ‘আকৎসিওন আর্শলখ’ বা ‘ইনিশিয়েটিভ অ্যাসহোল’৷ গান শুনিয়েই উপার্জন করা হয় সেখানে৷ উপার্জনের টাকা ‘প্রো আস্যুল’-কেই দেয় তারা৷

শরণার্থীদের পাশে জার্মানির প্রখ্যাত তারকারা

এসো বন্ধু

জার্মান রকস্টার উডো লিন্ডেনব্যার্গ ২০০ জন শরণার্থীদের জন্য একটা অনুষ্ঠান করছেন৷ ব্রেমেনে হবে অনুষ্ঠানটি৷ সে অনুষ্ঠানে শরণার্থীদের নিয়ে লেখা একটি গানও গাইবেন৷ শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে গানটিতে বলা হয়েছে, ‘‘এসো আমরা বন্ধু হয়ে যাই৷ তোমরা আমাদের বাড়িতে এসেছো৷ কেউ বের করে দেবে না তোমাদের৷’’

শরণার্থীদের পাশে জার্মানির প্রখ্যাত তারকারা

শরণার্থীদের জন্য ফাউন্ডেশন

অভিনেতা এবং পরিচালক টিল শোয়াইগার শরণার্থীদের জন্য নিজের নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্ব ফাউন্ডেশনে যোগ দিয়েছে শোয়াইগারের আহ্বানে৷ জার্মান ফুটবল দলের কোচ ল্যোভ, ব়্যাপার টোমাস ডি এবং অভিনেতা ইয়ান ইয়োসেফ লিফার্স-এর মতো সুপরিচিত তারকারাও আছেন সেই তালিকায়৷ টিল শোয়াইগার ফাউন্ডেশন তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে যে আয় হয় তা একটি শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রের পেছনে ব্যয় করে৷

শরণার্থীদের পাশে জার্মানির প্রখ্যাত তারকারা

বাদ্যযন্ত্র দিয়ে সহায়তা

গীতিকার হাইৎস রুডল্ফ কুনসে নিয়েছেন অভিনব এক উদ্যোগ৷ শরণার্থীদের বাদ্যযন্ত্র দেবেন তিনি৷ তাঁর মতে, শরণার্থীদের শুধু খাবার আর কাপড় দিলেই হবে না, তাদের বিনোদনও দরকার৷ আর বিনোদনের সুযোগ করে দেয়ার জন্যই শরণার্থীদের জন্য বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহে নেমেছেন তিনি৷

শরণার্থীদের পাশে জার্মানির প্রখ্যাত তারকারা

অভিবাসন একটি অধিকার

জার্মানির সংগীত ভুবনের ২৪ জন তারকা ‘কাইন বক আউফ নাৎসিস’ নামের একটি সংগঠন গড়ে নব্য নাৎসিদের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করেছেন৷ সেখানে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় নব্য নাৎসিদের কঠোর সমালোচনা করছেন তাঁরা৷ ‘কাইন বক আউফ নাৎসিস’ মনে করে, ‘‘অভিবাসনের অধিকার আলোচনা সাপেক্ষ কোনো বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার৷’’

আমাদের অনুসরণ করুন