‘শরণার্থী সংকটে এক কাতারে জার্মানি-বাংলাদেশ'

অভিবাসন সংকটে ইউরোপের দেশ জার্মানি এবং এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ একই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল৷ ঢাকায় অভিবাসন সংকট নিয়ে এক আলোচনায় এই মত তুলে ধরেন তিনি৷

‘মাইগ্রেশন- চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস ইন দ্য ইস্ট অ্যান্ড দ্য ওয়েস্ট' শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ৷

ইনেস পোল বলেন, ‘‘প্রধানত সিরিয়া থেকে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছেন৷ শুরুর দিকে সব ঠিক থাকলেও পরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়৷ এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে৷ প্রথমত, একটি সমাজে অন্য সংস্কৃতির এত মানুষকে একীভূত করা খুব কঠিন একটা কাজ৷ দ্বিতীয়ত, অনেকের মনে উগ্রপন্থা ছড়িয়ে পড়ার ভয়ও ঢুকে গেছে৷''

পোল মনে করেন, বাংলাদেশেও শুরুতে রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানালেও, এখন সামাজিক-রাজনৈতিক নানা কারণে বিরুদ্ধ মনোভাব তৈরি হয়েছে৷

<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/video.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fdw.bengali%2Fvideos%2F159470851659100%2F&show_text=0&width=560" width="650" height="315" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowTransparency="true" allowFullScreen="true"></iframe>

ইনেস পোলের সাথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে আসা ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ এ বিষয়ে বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাবার হিসেবে চাল, ডাল ও তেল দেয়া হয়৷ কিন্তু কোনো ধরনের মাছ বা মাংস তাঁরা পায় না৷ ফলে কিছু চাল-ডাল স্থানীয় বাজারে অল্প দামে বিক্রি করে তাঁরা সে টাকা দিয়ে মাছ-মাংস কেনে৷ ফলে সেই অঞ্চলে এক ধরনের সমান্তরাল অর্থনীতির সৃষ্টি হয়েছে৷''

পাশাপাশি, ক্যাম্প অঞ্চলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের তুলনায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয়রাই সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন বলে মনে হয়েছে তাঁর৷ এর ফলে স্থানীয়রা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও মনে করেন দেবারতি৷

<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/video.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fdw.bengali%2Fvideos%2F642940382770030%2F&show_text=0&width=600" width="650" height="315" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowTransparency="true" allowFullScreen="true"></iframe>

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শরণার্থী' স্ট্যাটাস না দেয়ায় অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন পোল৷ তিনি বলেন, ‘‘এখানে সবাই মনে করছে রোহিঙ্গারা খুব স্বল্প সময়ের জন্যই বাংলাদেশে থাকবে৷'' এমন দৃষ্টিভঙ্গি রোহিঙ্গাদের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

তবে তৌফিক ইমরোজ খালিদী এমন অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে৷ একদিকে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে ব্যর্থতা, অন্যদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দেউলিয়াত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি

তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে জানুয়ারি মাসে চুক্তি হলেও এখনো কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি৷ বাংলাদেশ আট হাজার শরণার্থীর তালিকাও দিয়েছে মিয়ানমারকে৷ কিন্তু মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পরিস্থিতিই এখনো সৃষ্টি হয়নি৷ মিয়ানমার সত্যিকার অর্থে চালায় ইউনিফর্মধারীরা (সেনাবাহিনী)৷ এবং তাঁদের আইনের শাসন সম্পর্কে ন্যূনতম শ্রদ্ধা নেই৷''

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

এক ঘরে ১০ জনের বসবাস

আট সন্তান নিয়ে এক ঘরে গাদাগাদি করে থাকেন জোহার ও উম্মে কুলসুমা দম্পতি৷ তাঁদের দুই মেয়ে বড় হয়েছে৷ আর সবার ছোটটার বয়স দুই বছর৷ রাখাইনে কৃষি কাজ করতেন জোহার৷ এখন কাজ নেই, সাহায্যে চলছে তাঁদের জীবন৷

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

এক টিউবওয়েলে চলে ৯৯ পরিবার

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ পানি সরবরাহে ক্যাম্পে বসানো হয়েছে গভীর নলকূপ৷ একটি নলকূপের পানি নিয়ে চলছে তিন ব্লকের ৯৯টি পরিবার৷

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

৩৩ পরিবারের জন্য চার টয়লেট

বাঁশ আর প্লাস্টিক দিয়ে পাহাড়ের ঢালে তৈরি করা হয়েছে টয়লেট৷ এক জায়গায় পাশাপাশি চারটি টয়লেট দিয়ে কাজ চালাতে হয় ৩৩টি পরিবারের সদস্যদের৷ আর দুটো গোসলখানা ব্যবহার করে ২০ থেকে ৩৫টি পরিবার৷

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

নিউমোনিয়া

রোহিঙ্গা শিবিরের শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার এখনো বেশ৷ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আট মাসের জাইনুকা বিবিকে বালুখালীতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের চিকিৎসকদের কাছে এনেছেন মা খালেদা বানু৷

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম

ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে বেশ কয়েকটি সংস্থা ও সংগঠন৷ এ রকম একটি টিমের চিকিৎসক সোহেল জানান, প্রতি দিন ৪০-৫০ জন রোগী দেখেন৷ তাঁদের অধিকাংশ পানিবাহিত, ঠান্ডা ও ইনফেকশনের সমস্যা নিয়ে আসেন৷

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

ঈদে জন্ম ‘কোরবান আলীর’

শরণার্থী শিবিরে ২১ সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছে এজাহার হোসেন ও রেনুর একমাত্র ছেলে সন্তানের৷ কোরবানির ঈদের দিন জন্ম হওয়ায় তার নাম রাখা হয়েছে কোরবান আলী৷ এনজিও পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জন্ম নেওয়া এই শিশু ও তার মা সুস্থ আছে বলে জানান এজাহার হোসেন৷

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

অপরিকল্পিত বসতি

স্বল্প সময়ের মধ্যে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আসায় তাঁদের আশ্রয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই গড়ে তোলা হয় ঘর৷ বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ঘরগুলো৷

কেমন আছে রোহিঙ্গারা?

ঝুঁকিপূর্ণ ঘর

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ের মধুরছড়ার এই বসতিতে আছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা৷ পাহাড়ের ঢালে তৈরি করা হয়েছে তাঁদের ঘর৷ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এসব ঘর থেকে তাঁদের সরিয়ে নেওয়া পরিকল্পনা করেছে সরকার৷ এরইমধ্যে কিছু পরিবারকে সরিয়েও নেওয়া হয়েছে৷

এডিকে/এসিবি

আমাদের অনুসরণ করুন