শরণার্থী সংকট সামলাতে নাজেহাল ইউরোপ

রাজনৈতিক শরণার্থী, নাকি অর্থনৈতিক অভিবাসী? ইউরোপে এই মুহূর্তে আশ্রয়প্রার্থীদের যে ঢল নেমেছে, তা নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়াও৷ তর্ক-বিতর্কের মধ্যে নানা জটিল বিষয় উঠে আসছে৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বেশিরভাগ মানুষ মোটেই অর্থনৈতিক অভিবাসনের লোভে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে না৷ সিরিয়া, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, ইরিট্রিয়া ও ইরাকের মতো দেশে যুদ্ধ ও নিপীড়নই তাদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করছে৷

জাতিসংঘের শরণার্থী কল্যাণ সংস্থার ব্রিটেন শাখা মানচিত্র সহ ১০টি ইনফোগ্রাফিক শেয়ার করেছে, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সংকটের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে৷

প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় কূটনীতিক ড্যানিয়েল ময়ল্যান মনে করেন, পুলিশ ও কাঁটাতারের বেড়া আশ্রয়প্রার্থীদের ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা বন্ধ করতে পারবে না৷ তারা ইতিমধ্যেই দুর্গম মরুভূমি ও সমুদ্র পেরিয়ে এসেছে৷ তাদের পলায়নের মূল কারণ দূর করতে হবে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সব হাতে গোনা দেশ সরাসরি শরণার্থী গ্রহণ করছে, তাদের মধ্যে জার্মানি অন্যতম৷ কিন্তু নানা অপ্রিয় ঘটনা জার্মানির ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে৷ এই পরিস্থিতিতে ডয়চে ভেলে শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে নানা উদ্যোগের দৃষ্টান্ত তুলে ধরছে৷

জার্মানিতে বিদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি সম্প্রতি যে বৈরি মনোভাব দেখা যাচ্ছে, সে বিষয়ে লেখা একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন জেরোম রোস৷

ইটালি বা গ্রিসের মতো দেশ বেশিরভাগ শরণার্থীর প্রথম গন্তব্য৷ সেখানে পৌঁছানোর পর ইইউ-র বাকি সদস্য দেশগুলির উচিত, নিজস্ব ক্ষমতা উচিত তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করা৷ অথচ বেশিরভাগ দেশই এই দায়িত্ব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে৷ অন্যদিকে ইউরোপে পৌঁছানোর পর শরণার্থীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে৷ যেমন ফ্রান্স থেকে ব্রিটেনগামী আশ্রয়প্রার্থীদের মতলব নিয়ে অনেকে সন্দিহান৷ যেমন জয়েস মিলার লিখেছেন, ‘‘তারা শরণার্থী হলে কেন ফ্রান্সেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছে না? আমার সন্দেহ, বেশিরভাগই অর্থনৈতিক কারণে অভিবাসন চাইছে৷ তাদের নিজেদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত৷

রিচার্ড গ্যারেটি তীর্যক সুরে লিখেছেন, ‘‘ফ্রান্স নিশ্চয় অত্যন্ত দরিদ্র জায়গা৷ শরণার্থীরা অনেক দূর থেকে এসেও ফ্রান্স ছেড়ে চলে যাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে৷''

সংকলন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়