শিক্ষকই শিক্ষক পেটায়, তাহলে অন্যদের আর কী দোষ!

সকাল বেলায় লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মীর হাতে একজন প্রধান শিক্ষকের মার খাওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত খবর পড়ে কিছু লিখব ভাবছিলাম৷ এরই মধ্যে চোখে পড়ল দু’দিনের পুরনো আরেকটি খবর৷ সেটি আরও দুঃখজনক৷

সোমবার প্রকাশিত ঐ খবর বলছে, ঠাকুরগাঁওয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে নাকি গাছে বেঁধে পিটিয়েছেন তাঁরই স্কুলের প্রধান শিক্ষক! সংবাদটি পড়ে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না৷ তাই আবার পড়েছি৷ কারণ আমি নিজে একজন শিক্ষকের সন্তান হওয়ায় একজন শিক্ষক তাঁর সহকর্মীকে পেটাতে পারেন, তা আমার কল্পনাতেও ছিল না৷ হয়ত এই ‘ট্রেন্ড’ আগেই চালু হয়েছে৷ আমি জানতাম না৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ঠাকুরগাঁওয়ে যে শিক্ষককে পেটানো হয়েছে তাঁর দোষ ছিল যে, তিনি নাকি চলতি শিক্ষাবর্ষের ক্লাস রুটিন তৈরির সময় প্রধান শিক্ষককে (যাঁর বিরুদ্ধে ঐ শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে) ইংরেজির ক্লাস দিয়েছিলেন৷ এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন ঐ প্রধান শিক্ষক৷ কী অদ্ভুত কারণ রে বাবা!

Screenshot thedailystar.net

প্রধান শিক্ষককে পেটানোর সংবাদ

এই কারণে যদি একজন শিক্ষককে প্রহার করা যায় তাহলে, সেই তুলনায় লালমনিরহাটে পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে না চাওয়ায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা যে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেটাতো বরং অন্তত যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে৷

এর আগে পুলিশ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, সাংসদ সহ অনেকের বিরুদ্ধে শিক্ষক প্রহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এছাড়া নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য করেছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান৷

সমাজ-সংস্কৃতি

অনন্ত সাদ

ঢাকা নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী অনন্ত সাদ একজন শিক্ষকের ছেলে৷ তাঁর মতে, ‘‘মাতা-পিতার পরেই যাঁদের স্থান তাঁরাই হলেন শিক্ষক৷ আর এটা আমরা শিখেছি পরিবার থেকেই৷ শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে যতই রাগারাগি করেন না কেন সেটা আমাদের ভালোর জন্যই করে থাকেন৷ আমার বাবাও একজন শিক্ষক এবং তিনিই আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে শিক্ষকদের সম্মান করতে হয়৷’’

সমাজ-সংস্কৃতি

কাজী ফয়সাল আরেফিন

তিনিও ঢাকার নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী৷ তিনি মনে করেন, শিক্ষকদের সম্মান সবার উপরে৷ তাই শুধু ছাত্রদের নয়, সবারই উচিত শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

মোহাম্মদ নাঈম

ঢাকার নটরডেম কলেজের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাঈম৷ তাঁর মতে, ‘‘শিক্ষক হলেন আমাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার কারিগর৷ সেই শিক্ষকদের যদি সম্মান করা না হয় তাহলে আমাদের উন্নতি সম্ভব নয়৷’’

সমাজ-সংস্কৃতি

সুজানা জাহিদ

ঢাকার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী সুজানা জাহিদ মনে করেন, শিক্ষকরা বাবা-মায়ের মতোই৷ সুজানা জানালেন, বাবা মা-কে যতটা সম্মান করেন, ঠিক ততটাই সম্মান করেন তিনি শিক্ষকদের৷

সমাজ-সংস্কৃতি

মুনিয়া

ঢাকার মতিঝিল মডেল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনিয়া শিক্ষকদের পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবেই দেখেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

সারজিমা হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের শিক্ষার্থী সারজিমা হোসেন তৃমার বাবা-মা দুজনই শিক্ষক৷ তাঁর মতে, ‘‘আমাদের সমাজে বর্তমানে শিক্ষকদের সম্মান অনেক কমে গেছে৷ তবে আমরা সবসময়ই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দিয়ে থাকি৷ আরেকটা বিষয় হলো, রাজনৈতিকভাবে শিক্ষদের অনেক হেয়, অসম্মান করা হয় যেটা বন্ধ হওয়া উচিত৷’’

সমাজ-সংস্কৃতি

মেহনাজ জাহান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের আরেক শিক্ষার্থী মেহনাজ জাহান বলেন, ‘‘শিক্ষকরা আমাদের গুরুজন৷’’ তাঁর মতে, শিক্ষকরা একেকজন পিতা-মাতা৷ সুতরাং তাঁরা ‍যদি কোনো ভুলও করে থাকেন সেজন্য তাঁদের কোনোভাবেই অসম্মান করা যাবে না৷ ‘‘আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে সামান্য কিছু হলেও আমরা তাঁদের কাছে শিখেছি,’’ বলেন তিনি৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ইফতেখার ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘‘যাঁদের হাত ধরে এতদূর এসেছি, তাঁরাই হলেন আমাদের শিক্ষক৷ তাই তাঁদের সম্মান সবার আগে৷’’

সমাজ-সংস্কৃতি

মাহবুবুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান৷ তাঁর মতে, বাবা-মা কোনো ভুল করলে যেমন আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে যেতে পারিনা, তেমনি শিক্ষকরাও ভুল করলে তাঁদের অসম্মান করতে পারিনা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

তাহমিদ ইবনে আলম

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি সাহিত্যের শিক্ষার্থী৷ তাঁর মতে, শিক্ষকরা হাতে ধরে সবকিছু শিক্ষা দেন, সুতরাং তাঁদের সম্মান সবার আগে৷ কোনো শিক্ষার্থীরই উচিত হবে না শিক্ষকদের অসম্মান করা৷

এতক্ষণ লেখার পর ভাবছি কীভাবে শিক্ষকদের অবস্থা এই পর্যায়ে নেমে এল৷ একমাত্র শ্যামল কান্তি স্যারের ঘটনায় নাগরিকদের দেখেছি সোচ্চার হতে, অন্তত সামাজিক মাধ্যমে৷ কিন্তু অন্য ঘটনাগুলো শুধু খবর হয়েই শেষ হয়েছে৷ হয়ত এর একটি কারণ হতে পারে, শ্যামল স্যারের ঘটনার ভিডিও দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে৷ আর অন্যগুলোর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে শুধু স্থিরচিত্রই পাওয়া গেছে৷ সংবাদের বাইরেও নিশ্চয় শিক্ষক পেটানোর ঘটনা ঘটেছে, যা আমরা জানতে পারি না৷

এই সব ঘটনায় মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষক পেটানো আসলে তেমন কোনো বিষয় নয়৷ এটা আর অন্য দশটা ঘটনার মতোই ‘মামুলি’ ব্যাপার৷ কিন্তু একটা সময় ছিল, শিক্ষক মানেই ছিলেন অসম্ভব সম্মানিত কেউ একজন৷ এখন সেই ব্যাপারটি আর নেই৷

কেন এমন হলো? কারণ অনেকগুলো৷ এর জন্য শিক্ষকরাও কিছুটা দায়ী৷ কেননা বর্তমানে শিক্ষকরা শিক্ষা দান ছাড়াও সরাসরি রাজনীতি করেন, নয়ত রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য হয়ত এসব প্রয়োজন৷ কিন্তু এতে করে যা হচ্ছে তাতে শিক্ষকের সম্মান দিন দিন কমে যাচ্ছে৷ আগে যেখানে রাজনীতিবিদরা শিক্ষকদের সম্মান করতেন, এখন শিক্ষকরাই যেহেতু বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন, তাই রাজনীতিকরাও আর আগের মতন শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ কেউ মনে করছেন না৷

DW Bengali Mohammad Zahidul Haque

জাহিদুল হক, ডয়চে ভেলে

এছাড়া রাজনৈতিক কর্মীরাও এখন ক্ষমতার জোরে শিক্ষক হচ্ছেন, অযোগ্য লোকরাও টাকা দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় আসছেন৷ অর্থাৎ শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও অনেকে এখন শিক্ষক হচ্ছেন৷ ফলে তাঁরা শিক্ষকতা পেশার যে ‘ওজন' তা ধরে রাখতে পারছেন না৷ উপরন্তু নিজেরা নিজেরা মারামারি করে শিক্ষার্থীদের সামনে খারাপ উদাহরণ তুলে ধরছেন৷ এছাড়া কোনো শিক্ষককে পেটানো হলে যে প্রতিবাদ করতে হবে, সেটিও করতে দেখা যায় না বিভিন্ন দলের অনুসারী এসব শিক্ষকদের৷

এবার আসি শিরোনামের কথায়৷ আপনার কী মনে হচ্ছে যে, এমন শিরোনাম দিয়ে আমি ‘অন্যদের’ দোষ ঢাকার চেষ্টা করছি? আসলে খুব দুঃখ পেয়ে কথাটি লিখেছি৷ চোখের সামনে শিক্ষকদের সম্মানিত হতে দেখেছি এই মাত্র কয়েক বছর আগেও (নির্দিষ্ট করে বললে নব্বইয়ের দশকে)৷ কিন্তু এখন তাঁদের এই অবস্থায় দেখতে কষ্টই লাগছে৷ আমি চাই, যেভাবেই হোক শিক্ষকরা আবার তাঁদের সেই আগের মর্যাদাকর অবস্থানে ফিরে যান৷ সেটা সম্ভব কিনা, তা অবশ্য জানা নেই৷

বন্ধু, আপনি কি লেখকের সঙ্গে একমত? আমাদের লিখে জানান, নীচের ঘরে৷

বেশির ভাগ দেশের শ্রেণিকক্ষে যা থাকে...

বিশ্বের প্রায় সব দেশের শ্রেণিকক্ষেই চক আর ব্ল্যাক বোর্ড থাকে৷ শিক্ষক বা শিক্ষিকা সেই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিক্ষার্থীদের বোঝান৷ শিক্ষার্থীরা বেঞ্চে বসে বসে শোনে৷ তবে অনেক দেশই এই সাবেকি ব্ল্যাকবোর্ড এবং চক ছেড়ে দিয়েছে৷ আবার এমন দেশও আছে, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের মাথার ওপরে কোনো ছাদ নেই৷ মাটিতে বসেই লেখাপড়া করতে হয় তাদের৷

দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিজিটাল বই...

দক্ষিণ কোরিয়ার স্কুলে এসে গেছে কম্পিউটার৷ ইন্টারনেট সংযোগও দেয়া হয়েছে প্রতিটি ক্লাসরুমে৷ অর্থাৎ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের হাতে কোনো বই-খাতা থাকবে না৷ বইয়ের পরিবর্তে ‘ই-বুক’ দেয়া হবে তাদের৷ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার৷ সবাইকে ডিজিটাল শিক্ষাদান পদ্ধতির আওতায় নিতে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে ‘ট্যাবলেট পিসি’ দেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে৷

ঘানার শিশুদের অবস্থা

অনেক দেশের স্কুলে আবার কম্পিউটার তো দূরের কথা, ক্লাসরুমই নেই৷ আফ্রিকার দেশ ঘানার এই স্কুলটি দেখুন৷ ভবনই নেই! তাই গাছের ছায়াতেই নেয়া হচ্ছে ক্লাস৷ শিক্ষিকা পড়াচ্ছেন আর ছোটমনিরা বেঞ্চে বসে মন দিয়ে শুনছে তাঁর কথা৷

জার্মানির অত্যাধুনিক ক্লাসরুম

জার্মানিতে কিন্তু ছোট ছোট বাচ্চারাও ক্লাসে পেন্সিল ব্যবহার করে না৷ নোট লেখার বইও নয়৷ টাচ প্যাড, স্মার্টবোর্ড, নেটবুক – এই সমস্ত আধুনিক জিনিসপত্র এ বয়সেই এসে গেছে তাদের হাতে৷

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল

শিল্পোন্নত দেশগুলোতে শিশুদের শিক্ষা যেন বাড়তি চাপ৷ ছবির এই চার বছর বয়সি শিশুগুলোর মতো সব শিশুকেই বলতে গেলে মায়ের কোল থেকে নেমে ঢুকে পড়তে হয় স্কুলে৷ চাপ যে তখন থেকেই শুরু!

কেনিয়ার স্কুল এবং ক্লাসরুম

কেনিয়ায় শিক্ষাজীবনের প্রথম আট বছর শিক্ষার্থীদের কোনো বেতন দিতে হয় না৷ তারপরও লেখাপড়া করা সবার জন্য খুব সহজসাধ্য নয়৷ দরিদ্র পরিবারের বাবা-মায়েরা বই-খাতা, পেন্সিল, পোশাক, জুতো ইত্যাদির খরচ জোগাতে পারেন না বলে অনেক শিশুকেই লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়৷

ব্রিটেনের স্কুলে ‘ইউনিফর্ম’ বাধ্যতামূলক

ইংল্যান্ডের প্রায় সব স্কুলেই শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পোশাক পরতে হয়৷ সবাই এক রকম পোশাক পরলে শিক্ষার্থীদের চিনতে সুবিধা হয় এবং তাদের পড়াশোনাতেও মন বসে – এমন কিছু যুক্তিতেই শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট পোশাক পরার নিয়ম মানছে স্কুলগুলো৷ তবে ব্রিটেনে একটা সুবিধা আছে৷ দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ হিসেবে অনুদান দেয়া হয়৷ ফলে দরিদ্ররা চাইলেই ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে পারেন৷

পাকিস্তিনে অবহেলিত শিক্ষাখাত

পাকিস্তানে গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে৷ ফলে শিক্ষার হার আরো কমছে, কমছে স্কুলও৷ ওপরের ছবিতে একটি পার্কে লেখাপড়া করতে দেখা যাচ্ছে শিশুদের৷ পাকিস্তানে এমন দৃশ্য অপরিচিত নয়৷

দক্ষিণ সুদানে মেয়েরা বিপদে...

দক্ষিণ সুদানেও প্রায় একই অবস্থা৷ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রীতিমতো সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হচ্ছে৷ সে দেশের মাত্র ১৬ ভাগ নারী এখন কোনো রকমে পড়তে এবং লিখতে পারে৷ যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে হাতে গোনা যে কয়েকটি স্কুল রক্ষা পেয়েছে, তার মধ্যে অনেকগুলোতে চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ নেই৷ বই-পত্রও নেই কিছু স্কুলে৷

উন্নতিশীল ব্রাজিলেরও করুণ অবস্থা

দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে ব্রাজিলে৷ কিন্তু তাতে দরিদ্রদের ভাগ্যের খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না৷ গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে তাই খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয় শিশুদের৷

উন্নতিশীল ব্রাজিলেরও করুণ অবস্থা

দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে ব্রাজিলে৷ কিন্তু তাতে দরিদ্রদের ভাগ্যের খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না৷ গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে তাই খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয় শিশুদের৷

এবং বাংলাদেশ...

২০১৩ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সময় অসংখ্য স্কুলের ক্ষতি সাধন করা হয় বাংলাদেশ৷ এ বছর দীর্ঘদিন হরতাল, অবরোধ চলায় স্কুলগুলোও অনেক দিন বন্ধ ছিল৷ এক পর্যায়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস নিতে শুরু করে কিছু স্কুল৷ হরতাল-অবরোধের কারণে সপ্তাহের ৫-৬ দিন গৃহবন্দী, তারপর ছুটির দিনে স্কুলবন্দী৷ বাংলাদেশের শিশুদের অসহায়ত্ব ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন৷