শিশুদের শান্তি পুরস্কার জিতল মোহাম্মদ

মাত্র ১৩ বছর বয়সে লেবাননে স্কুল প্রতিষ্ঠার মতো কঠিন কাজে হাত দিয়েছিল সিরিয়ার মোহাম্মদ আল-জাউন্দে৷ সেই স্কুলে এখন দুই শ'রও বেশি শরণার্থী শিশু লেখাপড়া করছে৷ এমন স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তি পুরস্কার জিতেছে মোহাম্মদ৷

দৃষ্টান্তমূলক কাজের জন্য প্রতিবছর শিশুদের শান্তি পুরস্কার দেয় নেদারল্যান্ডসের কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন৷ এ পর্যন্ত যারা এই পুরস্কার জিতেছে, তাদের মধ্যেসবচেয়ে কম বয়সে নোবেল জেতা মালালা ইউসুফজাই-ও আছেন৷ পাকিস্তানে তালেবানের হামলার শিকার হওয়া মালালা দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন৷ ২০ বছর বয়সি এই নোবেলজয়ী এখন ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী৷ মঙ্গলবার দ্য হেগে তিনিই শিশুদের শান্তি পুরস্কার তুলে দেন ১৬ বছর বয়সি মোহাম্মদ আল জাউন্দের হাতে৷

রাজনীতি

ধ্বংস স্তূপের মধ্যে চলছে লেখাপড়া

ইয়েমেনের বন্দর নগরী হেদেইদাহ-তে একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে পড়ছে এই মেয়েরা৷ তবে স্কুলের দেয়াল বলতে কিছু নেই৷ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় পুরো দেয়াল ধসে পড়েছে৷ গত তিন বছর ধরে গৃহযুদ্ধের কবলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে দেশটি, যা শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই৷

রাজনীতি

গোলাঘরে শিক্ষাদান

সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের আর একটি দেশ, যেখানে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই৷ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, মারা গেছে লাখো মানুষ৷ সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দারা এলাকায় স্কুলের অভাবে গোলাঘরকে বেছে নেয়া হয়েছে শিশুদের শিক্ষাদানের স্থান হিসেবে৷ চেয়ার নেই, তাই পাথরের উপর বসেই চলছে শিক্ষা গ্রহণ৷

রাজনীতি

বিধ্বস্ত স্কুল

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের শহর হামোরিয়ার গৌটা গ্রামের স্কুল এটি৷ এই স্কুলটিও পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে হামলায়৷ এলাকাটি এখন ছিটমহলে পরিণত হয়েছে, যেখানকার পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা৷

রাজনীতি

অস্থায়ী স্কুল

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দারা এলাকায় শিশুদের শ্রেণিকক্ষে পড়ালেখা করতে দেখা যাচ্ছে৷ অনেক দেশই চাইছে যাতে যুদ্ধের কবলে পড়ে সিরীয় শিশুদের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে না যায়৷ তবে যুদ্ধের কারণে এই পাঠদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা বেশ কষ্টকর, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে৷

রাজনীতি

যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি

সিরিয়ার রাকা প্রদেশের উত্তরে হাজিমা গ্রামের একটি স্কুলের দেয়াল এটি, বুলেটের ক্ষত বুকে নিয়ে কোনোরকমে দাঁড়িয়ে আছে৷ ২০১৪ সালে এই এলাকা দখলের সময় এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল তথাকথিত ইসলামি জঙ্গি দল ‘ইসলামিক স্টেট’ বা আইএস৷ এখন এলাকাটি আইএস এর নিয়ন্ত্রণ মুক্ত৷ তাই শিশুরা এখন চাইলে স্কুলে যেতে পারে৷

রাজনীতি

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খেলাধুলা

ব্রিটিশ সংগীত শিল্পী ইউসুফ ইসলাম, যিনি ক্যাট স্টিভেনস নামে বেশি পরিচিত, তার একটি গানের কথা ‘শিশুরা কোথায় খেলবে?’৷ আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে আল-সাফলানিয়েহ এর একটি স্কুলের ধ্বংসস্তূপকে খেলার জন্য বেছে নিয়েছে এই শিশুরা৷ আমরা কেবল প্রার্থনা করতে পারি তাদের খেলার জন্য সুন্দর, নিরাপদ একটি পরিবেশের৷

এখন বয়স ১৬ হলেও লেবাননের বেকা উপত্যকার কাছে স্কুল প্রতিষ্ঠা শুরু করার সময় মোহাম্মদের বয়স ছিল ১৩৷ সিরিয়া থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা শিশুদের জন্য স্কুল গড়তে প্রথমে নিজের আত্মীয়-স্বজনদেরই সহায়তা চেয়েছিল মোহাম্মদ৷ এক এক করে অনেকেই এগিয়ে আসে তার আহ্বানে৷ অল্প কিছুদিনেই অনেক শিশু শিখতে শুরু করে লেখাপড়া৷ এক সময় বয়স্করাও আগ্রহ দেখাতে শুরু করে৷ তাঁদেরও ফেরায়নি মোহাম্মদ৷ শুরুতে মোহাম্মদ নিজেই নিয়েছিল শিশুদের পড়ানোর দায়িত্ব৷ পরে ধীরে ধীরে সিরিয়া থেকে পালিয়ে আসা বেশ কয়েকজন পেশাদার শিক্ষক যোগ দেন৷ ফলে লেবাননের শরণার্থীদের এলাকার স্কুলটি এখন ছোট-বড় সবার জন্যই আদর্শ এক বিদ্যাপীঠ৷

পুরস্কার গ্রহণের সময় মোহাম্মদ আল জাউন্দে জানিয়েছে, ‘‘পড়তে বা লিখতে শেখানোই এই স্কুলের উদ্দেশ্য নয়, আসল উদ্দেশ্য হলো কম বয়সি শরণার্থীদের নিজেদের প্রকাশের জন্য একটা জায়গা তৈরি করে দেয়া৷’’

মোহাম্মদের প্রশংসা করতে গিয়ে মালালা বলেন, ‘‘মোহাম্মদ জানে যে, সিরিয়ার ভবিষ্যত শিশুদের ওপর নির্ভরশীল আর শিশুদের ভবিষ্যত নির্ভরশীল শিক্ষার ওপর৷’’

সাত বছর ধরে যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়৷ এ যুদ্ধে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছে৷ ২৫ লক্ষ শিশু আজ দেশছাড়া৷ তাদের মধ্যে অন্তত ৫ লক্ষ সিরীয় শিশু আশ্রয় নিয়েছে লেবাননে৷

এসিবি/ডিজি (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

সংশ্লিষ্ট বিষয়