শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে পাঠকরা যা ভাবছেন 

জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উঠেছে৷ ডয়চে ভেলে বাংলার ফেসবুক পাতায় অনেক পাঠকই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন৷ তবে এর বিপক্ষেও মত রয়েছে৷

অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের  নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশুদের শরীর ও মনে৷ তাই মো. জুয়েল রানা মনে করেন,‘‘জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবটি নিঃসন্দেহে একটি উত্তম উদ্যোগ৷ কারণ, স্মার্ট ফোনের অপব্যবহারে শিশুরা নানা রকম ঝুঁকির সম্মুখীনও হচ্ছে৷''  পাঠক বিজিৎ কুমার সিনহা জুয়েল রানার সাথে একমত৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘সত্যিই ভালো প্রস্তাব৷''

পাঠক মো. আলমগীর হোসেন মনে করেন, বাংলাদেশেও এরকম নিষেধাজ্ঞা জরুরি৷

আর খান সাঈদের মতে, আইন দরকার এবং পাশাপাশি  বাবা-মায়েদেরও সচেতন হতে হবে৷ এছাড়া মো.বিলাল হোসেন, কামরুল হাসান, কমল, হোসেন জুবায়েরসহ অনেকেই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবকে সমর্থন করছেন৷

জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব 

৯০ ভাগ শিশু স্মার্টফোন ব্যবহার করে

জার্মানিতে ১৩ বছর বয়সি শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ শিশুই স্মার্টফোন ব্যবহার করে৷ আর তার ভীষণ ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে শিশুদের শরীর ও মনে৷ জার্মানিতে ১৪ বছরের কমবয়সি শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছেন ইন্টারনেট বিষয়ক সরকারি উপদেষ্টা ইউলিয়া ফন ভাইলার৷

জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব 

সহিংসতার ছবি

ইউলিয়া ফন ভাইলার জানান, মাত্র ৯ বছর বয়সেই শিশুরা ইন্টারনেটে সহিংসতার ছবি দেখে৷ তাই তিনি স্মার্টফোন দেখার ক্ষেত্রে শিশুদের যেন বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়, অর্থাৎ বয়স ১৪ পূর্ণ হলে যেন তারা স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি পায়, সেই প্রস্তাব করেছেন৷

জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব 

পর্ণ দেখা

৯ থেকে ১১ বছর বয়সিদের মধ্যে সহিংসতা ও পর্নো ছবি দেখার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে৷ এমনকি সববয়সিদের মধ্যে ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছাড়া হচ্ছে৷ জার্মান পুলিশ বলছে, এ ধরনের ভিডিওর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে৷

জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব 

বেশি খেলাধুলা করা উচিত

আজ আর কারো অজানা নয় যে স্মার্টফোন ব্যবহার শিশুদের মনোযোগে ব্যঘাত ঘটায়, এতে স্কুলের ফলাফলও খারাপ হয়৷ খেলাধুলা না করা বা কম করার কারণে আজকের শিশুরা নানা অসুখ ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে বলে জার্মানির শিশু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন৷

জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব 

ডাক্তারদের পরামর্শ

বন্ধুদের মধ্যে মোবাইলে মেসেজ না পাঠিয়ে নিজেদের মধ্যে দেখা করা উচিত৷ সরাসরি ভাবের আদান-প্রদান, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাই শিশুদের সুস্থ রাখে বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন৷

জার্মানিতে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব 

স্মার্টফোন , ল্যাপটপ বহারের নিয়ম

জার্মানির পরিবার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া পরামর্শদাতা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন৷ এগুলো হচ্ছে, পাঁচ বছর পর্যন্ত দিনে আধ ঘণ্টা আর ছয় থেকে ৯ বছর বয়সিরা দিনে একবার একঘণ্টা করে স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি পাবে৷ আর দশ বছরের বেশি যাদের বয়স, তারা সপ্তাহে নয় ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে৷ তবে যে শিশু তিনদিনে নয় ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করবে, তার ফোন সপ্তাহের বাকি দিনগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে৷

তবে পাঠক রাব্বি রবিনের একটু ভিন্ন মত৷ তিনি মনে করেন, ‘‘আমাদের আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা মোটেই কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নয়৷ বরং উচিত হবে এই স্মার্টফোনকে শিশুদের জন্য উপযোগী করা, যাতে তারা এটার ভালো ব্যবহার শিখে৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

আমাদের অনুসরণ করুন