শুধু মুসলমান বলেই শরণার্থীদের না নেয়া ঠিক নয়: ম্যার্কেল

অভিবাসন নীতি নিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখোমুখি আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ এবং আবারও তাঁর কণ্ঠে সেই প্রত্যয়৷ জার্মান টেলিভিশন চ্যানেল এআরডি-কে ম্যার্কেল আবারও বলেছেন, ‘‘অনেক কিছু অর্জন করেছি আমরা, তবে এখনো অনেক কিছু করার বাকি৷''

শরণার্থী সংকট নিরসনে ম্যার্কেল যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন সেসবের অধিকাংশই ‘বুমেরাং' হয়ে জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে আঘাত করেছে – এমন জনমত দিন দিন জোরালো হচ্ছে৷ ইউরোপ এবং ইউরোপের বাইরে বিভিন্ন দেশে তথাকথিত ইসলামি জঙ্গিদের হামলার কারণেই মূলত জনমনে দেখা দিয়েছে সংশয়, বেড়ে চলেছে আতঙ্ক৷ এমনই এক পরিস্থিতিতে আবার জার্মান টেলিভিশন চ্যানেল এআরডি-র মুখোমুখি হয়েছিলেন চ্যান্সেল আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

সাম্প্রতিক সময়ের সাক্ষাৎকারগুলোর মতো এআরডির উপস্থাপকের প্রশ্নের মুখেও একই রকমের অবিচল মনোভাব দেখিয়েছেন তিনবার জার্মানির চ্যান্সেলর হওয়া ম্যার্কেল৷ সরকারের অভিবাসন নীতির সমর্থনে তাঁর একটাই কথা, ‘‘আমি গত বছরই বলেছিলাম, শরণার্থী সংকট মোকাবিলা করা খুব কঠিন হবে৷ সেই থেকে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি, তবে আমাদের অনেক কিছুই এখনো করার বাকি৷''

তবে তিনি মনে করেন, সংকট নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সব দেশের সমানুপাতিক উদ্যোগ থাকা দরকার, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সব দেশ এখনো উদ্যোগী নয়৷ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব সদস্য দেশ এখনো শরণার্থী গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলেছে, তাদের সমালোচনা করে ম্যার্কেল বলেছেন, প্রত্যেক সদস্য দেশকেই দায়িত্ব নিতে হবে৷ কোনো দেশ শরণার্থীরা মুসলমান বলেই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে, তা হতে পারে না৷

এছাড়া গত এক বছরে শরণার্থী সংকট নিরসনের জন্য নেয়া বেশ কিছু পদক্ষেপের উল্লেখ করে জার্মান চ্যান্সেলর বলেছেন, জার্মানিতে আগত শরণার্থীদের নিশ্চয়ই জার্মান সমাজের অংশ হওয়ার জন্য ভাষা শিখতে হবে৷ তিনি জানান, যারা জার্মানিতে থাকার উপযুক্ত নন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনেক কঠোর করা হয়েছে এবং সেসব আইন প্রয়োগও করা হচ্ছে৷

আরেক প্রশ্নের জবাবে ম্যার্কেল বলেন, তিনি জার্মানিতে বসবাসরত ‘তুর্কিদেরও চ্যান্সেলর'৷ কিন্তু তুরস্কে এর্দোয়ানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ ‘কু' বা সামরিক অভ্যুত্থানের সময় যে তুর্কিরা জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু করেছিল – সেই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘তুরস্কের বিরোধ জার্মানিতে নিয়ে না আসাই ভালো৷''

সাক্ষাৎকারে ম্যার্কেল চতুর্থবারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর পদের প্রার্থী হবেন কিনা তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ ম্যার্কেল অবশ্য এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি৷

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানিতে ম্যার্কেলের জনপ্রিয়তা অনেক কমেছে৷ জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৫০ ভাগ জার্মানই বলেছেন, ম্যার্কেল আবার চ্যান্সেলর প্রার্থী হন, তা তাঁরা চান না৷

এদিকে আরেক বড় দুশ্চিন্ত হয়ে উঠছে জার্মানিতে আসা শরণার্থী শিশুদের খুব বড় একটি অংশের উধাও হয়ে যাওয়া৷ জার্মানির কেন্দ্রীয় পুলিশ বলছে, গত এক বছরে শরণার্থী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার হার দিগুণ বেড়েছে৷ তাদের মতে, গত ১ জুলাইয়ে নিখোঁজ শরণার্থী শিশুর সংখ্যা ৮ হাজার ৯৯১-তে ঠেকেছে৷

এসিবি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ, ইপিডি, কেএনএ)

জার্মানির শরণার্থী নীতি নিয়ে আপনার মতামত জানতে আগ্রহী আমরা৷ তাই লিখুন নীচের ঘরে৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

জার্মানিকে চাই...

সেই ছবি৷ বুদাপেস্টে তখন শরণার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে৷ অস্ট্রিয়া বা জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে না পারায় তাঁরা ক্ষুব্ধ৷ সবাই ছুটছিলেন প্ল্যাটফর্মের দিকে৷ পুলিশ ফিরিয়ে দিলো৷ স্টেশনের বাইরে শুরু হলো বিক্ষোভ৷ কারো কারো হাতে তখন ট্রেনের টিকিট৷ কেউ ক্ষোভ জানালেন কোলের সন্তানকে নিয়ে৷ অনেক শিশুর হাতে দেখা গেল, ‘উই ওয়ান্ট জার্মানি’ লেখা কাগজ৷ ইউরোপে এত দেশ থাকতে কেন জার্মানি?

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

আছে নব্য নাৎসি, পুড়েছে শরণার্থী শিবির, তবুও...

জার্মানির কোথাও কোথাও শরণার্থীবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে৷ অনেক জায়গায় রাতের অন্ধকারে আশ্রয় শিবিরে লেগেছে আগুন৷ তারপরও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জার্মানিকেই বেছে নিতে চায়৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

বড় কারণ ম্যার্কেল এবং...

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে শুরু থেকেই উদার জার্মানি৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল সবসময়ই অভিবাসী এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাশে ছিলেন৷ পেগিডা আন্দোলনের সময়ও সরকারের অভিবাসীদের পাশে থাকার কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন ম্যার্কেল৷ পাশে থেকেছেও৷ জার্মানির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও ছিল তাঁর পাশে৷ এখনও আছে৷ এই বিষয়গুলোও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মনে জার্মানির প্রতি আরো আস্থাশীল করেছে৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

তোমাদের স্বাগত

অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জার্মানিতে পা রেখেই দেখেছে অবাক হওয়ার মতো দৃশ্য৷ এখানে তাঁরা অনাহূত নয়৷ নিজের দেশ থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসে জার্মানিতে পাচ্ছেন সাদর সম্ভাষণ!

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

জার্মানির নেতৃত্বে ম্যার্কেল, ইউরোপের নেতৃত্বে জার্মানি

বৃহস্পতিবার আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, শরণার্থীদের বিষয়ে জার্মানির ভূমিকা হতে হবে অনুসরণীয়, দৃষ্টান্তমূলক৷ জার্মানির সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগে বক্তব্য রাখার সময় তিনি আরো বলেন, অভিবাসন সংকট মোকাবেলায় ইউরোপকেও সফল হতে হবে৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

শরণার্থীদের পাশে ম্যার্কেল

বৃহস্পতিবার কয়েকদিন আগেই জার্মানিতে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের দেখতে গিয়েছিলেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

শরণার্থীর ‘বন্ধু’ ম্যার্কেল

দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটিকে শরণার্থীরা নিজেদের একজন হিসেবেই বরণ করে নিয়েছিলেন৷ শরণার্থীদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই সময় কাটিয়েছেন ম্যার্কেল৷ কয়েকজন শরণার্থী তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন৷ সানন্দে তাঁদের আশা পূরণ করেছেন ম্যার্কেল৷

আমাদের অনুসরণ করুন