শেঙেন চুক্তির দিন কি শেষ হতে চলেছে?

প্যারিস সন্ত্রাসের পর ইইউ-তে ভিসা ছাড়া এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং শুধু ফ্রান্সের তরফ থেকেই নয়৷ তথাকথিত বলকান রুটের দেশগুলিও সব উদ্বাস্তুকে ঢুকতে দিতে রাজি নয়৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করা নিয়ে কথাবার্তা বলছেন৷ এর পটভূমিতে রয়েছে প্যারিস সন্ত্রাস ও তার পরবর্তী ঘটনাবলী৷ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি – নেবার প্রশ্নও ওঠে না – তবুও মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেঙেন চুক্তির অন্ত নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেই সঙ্গে আইনমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের ডাক আসে ফ্রান্সের তরফ থেকে, এমনকি ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বের্নার কাজন্যোভ বহু ‘‘সময় নষ্ট'' হওয়ার কথা বলেছেন৷ তাঁর ক্ষোভের কারণ একটি নয়, দু'টি: প্রথমত, সন্ত্রাসীদের আগমন, উপস্থিতি বা গতিবিধি সম্পর্কে বিভিন্ন ইইউ সদস্যদেশগুলির মধ্যে খবরাখবর বা তথ্যের আদানপ্রদান দৃশ্যত ত্রুটিযুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ নয়৷ দ্বিতীয়ত, উদ্বাস্তু সংকটের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা ইইউ-তে ঢুকছে কিনা, তা-ও নিশ্চিত নয়৷ কাজেই ইউরোপকে আবার ‘‘দুর্গে'' পরিণত করার দাবি – অথবা দুশ্চিন্তা – দেখা দেবে বৈকি৷

প্যারিসের স্যাঁ ডেনি এলাকায় বুধবার ফরাসি পুলিশ যে অভিযান চালায়, সেখানে মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে ঘোষিত সন্ত্রাসী আবদেলহামিদ আবাউদ নিহত হয়৷ অথচ আবাউদ সিরিয়ায় আছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছিল৷ গত জুলাই মাসে বেলজিয়ামের একটি আদালত আবাউদকে তার অনুপস্থিতিতে ২০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে৷ তার প্যারিসে থাকার হদিশটা আসে দৃশ্যত মরক্কোর গুপ্তচর বিভাগের কাছ থেকে৷

নয়ত ২০১৪ সালের গোড়ায় জার্মানির কোলোন-বন বিমানবন্দর থেকে সে ইস্তানবুল যাত্রা করে, যেখানে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরেও বিমানে উঠতে দেওয়া হয়৷ এর সঙ্গে যদি যোগ করা যায় যে, ইউরোপে বিগত কয়েক বছরের অধিকাংশ সন্ত্রাসী আক্রমণের নায়ক ছিল ইউরোপে যাদের জন্ম ও বাস, এমন সব সন্ত্রাসীরা, তাহলে বোঝা যায়: শেঙেন ইউরোপের সমস্যা নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজন তাদের বহির্সীমান্তে বাস্তবিক ও কার্যকরি নিয়ন্ত্রণ৷

বৃত্তের মধ্যে আইফেল টাওয়ারের এই ছবিটি এঁকেছেন শিল্পী জঁ জুলিয়েন৷ ছবির শিরোনাম, ‘পিস ফর প্যারিস’৷ প্যারিসের আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পরই আঁকা এই ছবিটি #PeaceForParis নামে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে৷ অনেকেই উল্কি এঁকে শরীরে রাখছেন #PeaceForParis, কেউ কেউ আবার পড়ছেন #PeaceForParis সম্বলিত টি-শার্ট৷

#JeSuisParis নাম দিয়ে রক্তাক্ত পতাকার এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন আরেক ক্যারিকেচার শিল্পী কার্লোস লাটুফ৷ এটিও ভীষণ সাড়া জাগিয়েছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করা নিয়ে কথাবার্তা বলছেন৷ এর পটভূমিতে রয়েছে প্যারিস সন্ত্রাস ও তার পরবর্তী ঘটনাবলী৷ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি – নেবার প্রশ্নও ওঠে না – তবুও মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেঙেন চুক্তির অন্ত নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে৷

ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেই সঙ্গে আইনমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের ডাক আসে ফ্রান্সের তরফ থেকে, এমনকি ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বের্নার কাজন্যোভ বহু ‘‘সময় নষ্ট'' হওয়ার কথা বলেছেন৷ তাঁর ক্ষোভের কারণ একটি নয়, দু'টি: প্রথমত, সন্ত্রাসীদের আগমন, উপস্থিতি বা গতিবিধি সম্পর্কে বিভিন্ন ইইউ সদস্যদেশগুলির মধ্যে খবরাখবর বা তথ্যের আদানপ্রদান দৃশ্যত ত্রুটিযুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ নয়৷ দ্বিতীয়ত, উদ্বাস্তু সংকটের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা ইইউ-তে ঢুকছে কিনা, তা-ও নিশ্চিত নয়৷ কাজেই ইউরোপকে আবার ‘‘দুর্গে'' পরিণত করার দাবি – অথবা দুশ্চিন্তা – দেখা দেবে বৈকি৷

প্যারিসের স্যাঁ ডেনি এলাকায় বুধবার ফরাসি পুলিশ যে অভিযান চালায়, সেখানে মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে ঘোষিত সন্ত্রাসী আবদেলহামিদ আবাউদ নিহত হয়৷ অথচ আবাউদ সিরিয়ায় আছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছিল৷ গত জুলাই মাসে বেলজিয়ামের একটি আদালত আবাউদকে তার অনুপস্থিতিতে ২০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে৷ তার প্যারিসে থাকার হদিশটা আসে দৃশ্যত মরক্কোর গুপ্তচর বিভাগের কাছ থেকে৷

নয়ত ২০১৪ সালের গোড়ায় জার্মানির কোলোন-বন বিমানবন্দর থেকে সে ইস্তানবুল যাত্রা করে, যেখানে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরেও বিমানে উঠতে দেওয়া হয়৷ এর সঙ্গে যদি যোগ করা যায় যে, ইউরোপে বিগত কয়েক বছরের অধিকাংশ সন্ত্রাসী আক্রমণের নায়ক ছিল ইউরোপে যাদের জন্ম ও বাস, এমন সব সন্ত্রাসীরা, তাহলে বোঝা যায়: শেঙেন ইউরোপের সমস্যা নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজন তাদের বহির্সীমান্তে বাস্তবিক ও কার্যকরি নিয়ন্ত্রণ৷

বলতে কি, দিমিত্রিস আভ্রামোপুলোস, ইইউ-এর অভিবাসন, স্বরাষ্ট্র ও নাগরিকত্ব বিভাগের কমিশনার তাঁর টুইটে দু'টিকে যুক্ত করে লিখেছেন: ‘‘মুক্ত চলাফেরার শেঙেন এলাকা ঠিকমতো কাজ করতে পারে শুধুমাত্র যদি বহির্সীমান্ত সুরক্ষিত থাকে৷''

ইউরোপীয় পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্তের আগেই ক্রোয়েশিয়া জানিয়েছে যে, তারা শুধু সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধপীড়িত দেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ঢুকতে দেবে৷ সার্বিয়া ও মেসিডোনিয়া থেকেও অনুরূপ বিবৃতি এসেছে৷

প্যারিসের জন্য শান্তি কামনা

বৃত্তের মধ্যে আইফেল টাওয়ারের এই ছবিটি এঁকেছেন শিল্পী জঁ জুলিয়েন৷ ছবির শিরোনাম, ‘পিস ফর প্যারিস’৷ প্যারিসের আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পরই আঁকা এই ছবিটি #PeaceForParis নামে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে৷ অনেকেই উল্কি এঁকে শরীরে রাখছেন #PeaceForParis, কেউ কেউ আবার পড়ছেন #PeaceForParis সম্বলিত টি-শার্ট৷

প্যারিস মানেই জীবন

প্যারিসের কমিক শিল্পী ইয়োহান স্ফার হামলার রাতেই ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন #ParisIsAboutLife৷ প্যারিস অনেকের কাছেই জীবনের মতো৷ স্বাভাবিকভাবেই এই হ্যাশট্যাগটিও সবাই লুফে নিয়েছে৷

প্যারিস রক্তাক্ত, ক্ষুব্ধ

ফ্রান্সের কেরিক্যাচার শিল্পী #Baudry-ও তাঁর প্রিয় শহরে শত মানুষের আর্তনাদ দেখে ব্যথিত৷ তাঁর তুলিতে প্যারিস তাই রক্তে আবৃত৷ রক্তাক্ত প্যারিসের মাঝখান দিয়ে ক্ষীণ রেখা হয়ে বয়ে চলেছে সেন নদী৷ এ নদী অনমনীয়তার প্রতীক৷ শিল্পী যেন বোঝাতে চেয়েছেন সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলায় যত রক্তই ঝরাক প্যারিসের জীবন নদীর মতো বয়ে যাবেই৷

রক্তাক্ত পতাকা

#JeSuisParis নাম দিয়ে রক্তাক্ত পতাকার এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন আরেক ক্যারিকেচার শিল্পী কার্লোস লাটুফ৷ এটিও ভীষণ সাড়া জাগিয়েছে৷

দৈত্যের কবলে...

আলাদীনের চেরাগের সেই দৈত্যও উঠে এসেছে শিল্পীর আঁকা ছবিতে৷ প্যারিসের আর কিছু না হোক আইফেল টাওয়ারটা তো সবাই চেনে৷ প্যারিসের প্রতীকই আইফেল টাওয়ার৷ গল্পের দৈত্যকে প্রদীপ ঘষে ডেকে আনলে সে তার মনিবের আদেশ পালন করতো৷ ছবিতে শিল্পী #MarianKamensky অশুভ শক্তি হিসেবে আইএস-কেই বানিয়েছেন দৈত্য৷ সেই দৈত্য গলা টিপে ধরেছে আইফেল টাওয়ারের৷

শোকে নুয়ে পড়া আইফেল টাওয়ার

শিল্পী চাউনু-র আঁকা এই ছবিতে সকল প্যারিসবাসীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে আইফেল টাওয়ারও নুয়ে পড়েছে শোকে৷ নুয়ে এক প্যারিসবাসীকে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানাচ্ছে৷ নারীর মাথায় জ্যাকোবিন টুপি৷ ফরাসি বিপ্লবের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে ফরাসিদের উদ্বুদ্ধ করে এই টুপি৷

শেঙেন চুক্তির দিন কি সত্যিই শেষ হতে চলেছে? জানান আপনার মতামত, নীচের ঘরে৷

এসি/জেডএইচ (এএফপি, এপি)