‘শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পায় এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না'

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৮ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি কুটির শিল্প রয়েছে৷ সেই শিল্পে সরকারের উদ্যোগ, সহায়তাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার৷

ডয়চে ভেলে: এই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সেক্টরে একটা বিশৃঙ্খলা আছে, অনেক জায়গায় অনেক নারী এই শিল্পে কাজ করছেন, এটাকে কীভাবে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব?

মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার: দেশব্যাপী যে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প আছে, তাদের নিবন্ধনের জন্য আমাদের একটা চেষ্টা আছে, কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না৷ শিল্পনগরীতে যেগুলো আছে, সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেছে৷ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ করতে হলে রেজিস্ট্রেশন লাগে, যেমন বিদ্যুৎ নিতে গেলে রেজিস্ট্রেশন লাগে, সেগুলো হচ্ছে৷ এছাড়া আমাদের কিছু লোক আছে যারা গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে বেড়ায়৷ সেভাবেও রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে৷ এর বাইরেও বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়ে গেছে৷ এর প্রথম অন্তরায় হলো, আমাদের কার্যক্রম জেলা পর্যায় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ৷ জেলার বাইরে আমাদের যেতে হলে সেই পরিমাণ রিসোর্স দরকার এবং প্ল্যানিংটাও সেভাবেই নিতে হবে৷ এখানে আমাদের একটা দুর্বলতা আছে৷ আর কাজের পরিবেশ, যেটা হলো, শিল্প নগরীতে যে প্লটগুলো আছে সেখানে কেউ কিছু করতে চাইলে আমাদের কাছে অনুমোদন চায়৷ আমরা তখন তাঁদের কীভাবে ভবন হবে, পানির লাইন বা সুয়ারেজ লাইন কী হবে সেটা আমরা বলে দেই৷ কিন্তু শ্রমিকরা কীভাবে কাজ করবে সেটা দেখভাল করার কাজটি আমাদের কাজের আওতায় পড়ে না৷

পুরো সেক্টরকে কীভাবে মনিটরিং বা সমন্বয় করা সম্ভব?

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

এসএমই সেক্টরটা এত ব্যাপক যে, এটা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আছে৷ এটাকে তো অবশ্যই একটা মনিটরিংয়ের মধ্যে আনতে হবে৷ আসলে এটার জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেয়া দরকার৷ আমাদের একটা সেমিনার হয়েছিল ২০০৫ সালে৷ সেখানে অনেক পরামর্শ উঠে এসেছিল৷ সেটার ভিত্তিতে আমাদের একটা ভালো পরিকল্পনা নিতে হবে৷ শুধু যে বিসিক এটা করবে, এমন নয়৷ সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই এটা করা দরকার, কারণ, অন্যদেরও তো জনবল আছে, সেগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করে আমরা কীভাবে গ্রাম-উপজেলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, সেটা দেখতে হবে৷ এটা এখনও হয়নি৷ আমাদের যে এসএমই ফাউন্ডেশন আছে, তারাও কিন্তু কাজ করে চলেছে৷ তারা, আমরা ও সিভিল সোসাইটি মিলে খুব দ্রুতই আমাদের একটা প্ল্যানিং করা দরকার৷

এটার সঙ্গে তো বিপুল সংখ্যক মানুষ, প্রচুর প্রতিষ্ঠান জড়িত৷ এর মধ্যে কত ভাগকে আপনারা আপনাদের নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্যে আনতে পেরেছেন?

এটা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো ধারণাও আমি দিতে পারব না, কারণ, এটার কোনো পরিসংখ্যান আমার সামনে নেই৷

আপনাদের বা এসএমই ফান্ডেশন একসঙ্গে বা পৃথকভাবে কাজ করছেন, এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কি কোনো সমন্বয় আছে? 

সমাজ

যেভাবে এলো জামদানি

জনশ্রুতি আছে অতীতে সোনারগাঁও সংলগ্ন এ এলাকার মানুষরা বিশ্বখ্যাত মসলিনের কারিগর ছিলেন৷ ইংরেজরা এ শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়ার পর, এ সব এলাকার মানুষেরা ফিরে যান কৃষি পেশায়৷ ইংরেজদের শাসনের অবসানের পর মসলিন শিল্পীদের বংশধররা আবারও শুরু করেন মসলিন তৈরি৷ কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হন৷ মসলিনের আদলেই তাঁরা তৈরি করেন নতুন এক কাপড়, যা পরিচিত পায় জামদানি হিসেবে৷

সমাজ

ঘরে ঘরে জামদানি

নারায়ণগঞ্জে মূল জামদানিপল্লি আসলে বিসিক শিল্প এলাকায়৷ তবে এর বাইরেও নোয়াপাড়ার বাড়িতে বাড়িতে আছে বেশ কিছু জামদানির কারখানা৷ সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি এ সব কারখানায় চলে জামদানি তৈরির কাজ৷

সমাজ

জামদানি শিল্পী

একেকটি জামদানি কারখানায় চার থেকে ২৪ জন পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করেন৷

সমাজ

যত শাড়ি তত মজুরি

জামদানি কারখানাগুলোর সার্বক্ষণিক দেখভাল করেন মহাজন৷ বেশিরভাগ জামদানি শ্রমিক মজুরি পান শাড়ি প্রতি চুক্তি হিসেবে৷

সমাজ

শিশুশ্রম

সাধারণত একটি শাড়ি তৈরি করতে দু’জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়৷ একজন কারিগর ও অন্যজন তাঁর সাহায্যকারী৷ সাহায্যকারীর ভূমিকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শিশুরাদের৷

সমাজ

৮০ হাজার টাকা মজুরি

একটি জামদানি শাড়ি তৈরিতে ন্যূনতম তিন দিন সময় লাগে৷ নকশা আর কারুকাজভেদে কোনো কোনো শাড়িতে তিন মাসও লেগে যায়৷ একটি শাড়ি তৈরি করে দু’জন শ্রমিক দুই হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পান৷

সমাজ

নারীদের দক্ষতা

জামদানি তৈরিতে নারিরাও বেশ দক্ষ৷ বেশিরভাগ কারখানাতেই নারী শ্রমিকের উপস্থিতি দেখা যায়৷

সমাজ

পরিবারের সবাই মিলে..

বিভিন্ন মহাজনী কারখানা ছাড়াও বিসিক শিল্প নগরী ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে দু-একটি করে তাঁত আছে৷ পরিবারের সবাই মিলে এ সব তাঁতে জামদানি তৈরি করেন৷

সমাজ

তাঁত চালু থাকে সারাক্ষণ

জামদানি পল্লীর তাঁতগুলো সপ্তাহের সাত দিনই সকাল থেকে রাত অবধি চালু থাকে৷ তবে শুক্রবার বাজারের দিন এ পল্লীতে কাজ কম হয়৷

সমাজ

প্রাচীন জামদানি হাট

সারা সপ্তাহের বোনা জামদানি নিয়ে মহাজন ও কারিগররা জড়ো হন শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরের প্রাচীন জামদানি হাটে৷ প্রতি শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে নয়টার মধ্যেই হাটের কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়৷ এ হাটে সাধারণত সারা দেশের পাইকাররাই আসেন৷

সমাজ

শিল্পনগরীতেও হাট

জামদানি শিল্পীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন বিসিক জামদানি শিল্পনগরীতেও একটি হাট স্থাপন করে দিয়েছে৷ এ হাটটিও প্রতি শুক্রবার একই সময়ে বসে, তবে দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়৷

সমাজ

বিক্রয়কেন্দ্র

জামদানি হাট ছাড়াও নোয়াপাড়ার বিসিক জামদানি শিল্পনগরীতে আছে বেশ কিছু ছোট বড় বিক্রয় কেন্দ্র৷ এ সব দোকান থেকেও পাইকারি ও খুচরা মূল্যে জামদানি বিক্রি হয়৷

সমাজ

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি

বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি আর শিল্পমানের কারণে জামদানি ইউনেস্কো কর্তৃক ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেইজ’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে৷

সমাজ

হরেক রূপে জামদানি

জামদানি বলতে সবাই সাধারণত শাড়ি বুঝলেও বর্তমান সময়ে জামদানি দিয়ে পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ এমন কি সোফার কভার, কুশন কভার, ঘরের পর্দা ইত্যাদিও তৈরি হচ্ছে৷

সাধারণ অর্থে বলা যায় সমন্বয় আছে৷ বিসিক-এর চেয়ারম্যান এসএমই ফাউন্ডেশনের সদস্য, অর্থাৎ বোর্ড মেম্বার৷ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির (নাসিব) সাধারণ সম্পাদক এটার বোর্ড মেম্বার৷ আমাদের কাজ-কর্মে যাতে ডুপ্লিকেশন না হয় সেটার একটা সমন্বয় হয়৷ আর ক্রেডিট (ঋণ) যেটা তারাও দেয়, আমরাও দেই, কিন্তু এখানে ডুপ্লিকেশন যাতে না হয়, সেটা এড়ানোর কোনো মেকানিজম আমাদের নেই৷ এটার যদি একটা ডেটাবেজ থাকত, তাহলে দেখা যেত, তারা কাদের ঋণ দিচ্ছে, আমরা কাদের দিচ্ছি৷ তাহলে এই ডুপ্লিকেশনটা বোঝা যেত৷ এখন আমরা বুঝতে পারি না কে কাকে ঋণ দিচ্ছে৷ এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা যখন জেলা পর্যায়ে যান, তখন কিন্তু আমাদের অফিসের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেন৷ তারপরও ওভারল্যাপিং হচ্ছে কিনা, সেটা আমি বলতে পারব না৷

পুরো সেক্টরকে এক ছাতার নীচে আনার ব্যাপারে আপনার কী পরামর্শ?

এই সেক্টরে এতগুলো ‘প্লেয়ার' আছে যে, তাদের কিভাবে সমন্বয় করা যায় সেটাই একটা প্রশ্ন৷ আমার মনে হয়, প্রথমত আইনের দিকে দেখতে হবে৷ আমাদের যে কটেজ ইন্ডাস্ট্রি অ্যাক্ট আছে সেটা একটু দেখতে হবে৷ সেখানে তাঁত বোর্ড আছে, এসএমই ফাউন্ডেশন আছে, এনজিওরা আছে, স্কিল টেনিং দিচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর৷ আর ফান্ড আসছে বিভিন্ন দিক দিয়ে৷ কিন্তু ওদের এককভাবে পৃষ্ঠপোশকতা করার দায়িত্ব কিন্তু বিসিক-এর৷ এদের সবাইকে নিয়ে একটা পদ্ধতি বের করার চিন্তাভাবনা করতে হবে আমাদের৷ আর আইনের যে কথা বললাম, আইনে বাধ্যবাধকতা দিলে তখন কিন্তু এটা সবাইকে করতে হবে৷ দ্বিতীয়ত হলো, ২০১৫ সালে আমাদের একটা বিশাল সম্মেলন হয়েছিল৷ সেখানে কিছু সাজেশন এসেছে৷ সেগুলো নিয়েও কিছু অ্যাকশন প্ল্যান করতে হবে৷ তাহলেও কাভারেজ বেড়ে যাবে এবং সমন্বয়টা বাড়বে৷ আর সাধারণভাবে তো বলাই যায়, বিসিকের অফিস যদি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নেয়া যায়, তাহলেও সমন্বয়টা বাড়বে, কারণ, এটা বড় রোল হলো বিসিকের৷ কারণ অন্যের উপর ভরসা করলে অনেক কাজ হয়, আবার অনেক কাজই হয় না৷ এভাবে আমরা ভাগাভাগি করে কিছু কাজ তো করতেই পারি৷

সংস্কৃতি

বাঁকুড়ার ঘোড়া

বাংলার হস্ত শিল্প মানেই বাঁকুড়ার পোড়ামাটির ঘোড়া, হাতি, মনসার পট৷ আজকাল আধুনিক শিল্পভাবনাও দেখা যায় এই সৃষ্টিতে৷

সংস্কৃতি

কারুশিল্প

প্রথম দর্শনে আফ্রিকা মহাদেশের কাঠখোদাই শিল্পের বিভ্রম তৈরি হতে পারে, কিন্তু এই দারুশিল্পও আদতে বাংলারই আরেক শিল্পরীতির নমুনা৷

সংস্কৃতি

ঘরোয়া টেরাকোটা

শুধু ঘর সাজানোর সামগ্রী নয়, টেরাকোটা শিল্পীরা এখন তৈরি করছেন গেরস্থালির নানা সরঞ্জাম৷ চায়ের কাপ-প্লেট, মোমবাতিদান, গয়নার কৌটো৷

সংস্কৃতি

নবীন উৎসাহ

যাঁরা ভাবেন হস্তশিল্পে আধুনিক প্রজন্মের উৎসাহ নেই, তাঁরা ভুল ভাবেন৷ হস্তশিল্প মেলার ক্রেতাদের এক বড় অংশ কিন্তু নবীন প্রজন্ম৷

সংস্কৃতি

মাদুর, আসন

হস্তশিল্প মেলার পশরার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে হাতে বোনা মাদুর, নকশা করা কাপড়ের আসন, যা নিত্য ব্যবহারের কাজে লাগে৷

সংস্কৃতি

সূক্ষ্ম সূচিশিল্প

হাতে বোনা কার্পেটের আসন ছাড়াও এখন ক্রেতাদের আকর্ষণ করে দেওয়াল চিত্র, যা অনুপম সূচিশিল্পের সেরা নমুনা৷ এসবের বিক্রি বেশ ওপরের দিকে৷

সংস্কৃতি

নকল ফুল

নকল হলেও প্রকৃতির সমস্ত রঙ, রূপ আর উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে এই ফুলের সম্ভারে৷ উপকরণ হলো বাংলার চিরন্তন শোলা এবং শুকনো খেজুরপাতা৷

সংস্কৃতি

পাটের বাহার

পণ্যের বস্তা, থলে ইত্যাদিতে পাটের ব্যবহার আজ আর প্রায় নেই৷ পাটশিল্প যেটুকু টিকে আছে, তা এই বাহারি ব্যাগ, বটুয়া, টেবিলম্যাট আর টুপিতে৷

সংস্কৃতি

উত্তুরে হাওয়া

কাঠ আর বেতের কাজ মানেই উত্তরবঙ্গ৷ দৃষ্টিনন্দন কাঠখোদাই ভাস্কর্য থেকে বেতের বাতিদান, বাঁশের কোঁড় দিয়ে তৈরি চায়ের কাপ, পানীয়ের গেলাস, এক বিপুল সম্ভার৷

সংস্কৃতি

বেতের বাহার

চিরকালীন চুবড়ি, ধামা, কুলো৷ কিন্তু ক্রেতার মন পেতে তাতেও লেগেছে রঙের ছোঁয়া৷ এর কারিগররা আসেন মূলত দক্ষিণবঙ্গ থেকে৷

সংস্কৃতি

মিশ্র শিল্প

বাংলায় পটের আঁকা আছে, আর পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বা আরও পশ্চিমে আছে রঙবাহারি নকশা করা কেটলি৷ দুইয়ের মিলমিশ ঘটেছে দিব্যি৷

সংস্কৃতি

মহিলা শিল্পী

এই একটি ব্যাপারে এখনও মেয়েরাই এগিয়ে৷ অলঙ্করণ থেকে শুরু করে হস্তশিল্পের সব কাজেই এখনও মহিলা শিল্পীদেরই কদর বেশি৷

এই সেক্টরে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অধিকাংশই নারী৷ তাঁরা বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে, সুতা নিচ্ছে, কাপড় নিচ্ছে, তারপর ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে তাঁদের তৈরি প্রোডাক্টগুলো বেচতে বাধ্য হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে তারা কি ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে? এখানে বিসিক কি কোনো ভুমিকা রাখতে পারে?

কিছু কিছু এনজিও কিন্তু শেয়ার ট্রেড ভিত্তিতে কাজটা করে৷ ওই এনজিওগুলো লভ্যাংশ ভাগাভাগি করে নেয়৷ আবার দাদন পদ্ধতিতেও ঋণ দেয়া হয়৷ সেই ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জড়িতরা ন্যায্য মজুরি যে পায় সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না৷ বিসিক এক্ষেত্রে কতটা ভুমিকা নিতে পারে? বিসিককে তো এ ব্যাপারে ম্যান্ডেট দিতে হবে৷ আমি একটু আগে যে আইনের কথা বললাম, তার কারণ আমরা সাউথ ইস্ট এশিয়া বা ইন্টার্ন রিজিয়নের যে দেশগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে স্টাডি করছি৷ সেখানে আমরা দেখলাম, বিভিন্ন দিকে প্রোটেকশনের জন্য রেগুলেশন করতে হবে৷ আইন তো আছে৷ এ কারণে আমরা এখন আইনটা রিভিউ করছি৷ বিসিক যদি পৃষ্ঠপোষক হয়, কিন্তু সাপোর্ট না পায়, তাহলে তো কাজগুলো করতে পারবে না৷ বিসিককে যদি দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহলে এনজিওরা কী করছে, কারা দাদন দিচ্ছে, সব কিছু মিলিয়ে আমরা প্রোটেকশন দিতে পারব৷

এই সেক্টরের সঙ্গে জড়িত অবহেলিত নারীদের নিয়ে বিসিক-এর কোনো ভাবনা কি আছে?

আমরা তো আসলে নারীকে নারী বিবেচনা করি না৷ আমরা তাঁদের এন্টারপ্রেনর হিসেবে দেখি৷ এরপর তাঁকে আমরা প্রশিক্ষণ দেই৷ তাতে তিনি ক্ষুদ্রশিল্প নিয়েই কাজ করুক বা মাঝারি বা কুটির শিল্প নিয়েই কাজ করুক৷ তবে সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে, আমাদের ক্ষমতা কিন্তু এতদূর বাড়ানো হয়নি৷ এ কারণে তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন কিনা, ন্যায্য লভ্যাংশ পাচ্ছেন কিনা, তা তো আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না৷ ইদানীং যে হস্তশিল্প নীতিমালা হয়েছে, সেখানে সরকার ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে৷ এটা নিয়ে আমরা ব্যাপক একটা প্রকল্প গ্রহণ করব৷ ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে৷ এবং সরকারের কাছেও লবিং করব যাতে আমাদের সামর্থটা বাড়ে৷ তাহলে হয়ত আমরা অচিরেই সেখানে যেতে পারব৷

বন্ধু, সাক্ষাৎকারটা কেমন লাগলো? আপনার মন্তব্য জানান নীচের ঘরে৷