সন্দেহভাজন বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাবে জার্মানি

সন্দেহভাজন বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাবে জার্মানি

আদালতের রায়

বৃহস্পতিবার কার্লসরুয়াতে সাংবিধানিক আদালত বলেছেন যে, যদি কোনো সন্ত্রাসের ঝুঁকি থাকে, তাহলে কোনো বিদেশিকে ফেরত পাঠাতে আইনি কোনো বাঁধা দেখছেন না৷ বিচারকদের রায় অনুযায়ী, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে৷

সন্দেহভাজন বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাবে জার্মানি

অভিবাসী আইনেই আছে

দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজনদের ফেরত পাঠানোর জন্য জার্মান অভিবাসী আইনের একটি অনুচ্ছেদের রেফারেন্স দিয়ে বিচারকরা বলেছেন যে, ‘জার্মানির নিরাপত্তায় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হলেই’ তা ঠেকাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে৷

সন্দেহভাজন বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাবে জার্মানি

ওয়ান ইলেভেনের প্রভাব

২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর জার্মানির সংবিধানে এই ধারাটি ঢোকানো হয়েছিল৷ এতদিন এটি নিয়ে কোনো কথা হয়নি৷ গত ডিসেম্বর মাসে বার্লিনে ক্রিস্টমাস মার্কেটে হামলার পর বিষয়টি আবারো সামনে আসে৷

সন্দেহভাজন বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাবে জার্মানি

জার্মানিতে জন্ম, কিন্তু বিদেশি

গেল ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ জার্মানির স্যাক্সনি রাজ্যে এক আলজেরিয়ান ও এক নাইজেরিয়ানকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করে৷ তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হলে আইনের আশ্রয় নেন তারা৷ তারা লাইপসিগে ফেডারেল প্রশাসনিক কোর্টে আবেদন করলে সাময়িক আইনি সুরক্ষা পান৷

সন্দেহভাজন বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাবে জার্মানি

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

গেল মার্চে লোয়ার স্যাক্সনির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, যারা সন্ত্রাসী হামলার মতো উন্মাদ আচরণ করতে চায়, তাদের এক সেন্টিমিটারও ছাড় দেয়া হবে না৷ তিনি আরো বলেন যে, তারা যে দেশেরই হোন না কেন, আইনের কড়া প্রয়োগ করা হবে তাদের বিরুদ্ধে৷

সন্দেহভাজন বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাবে জার্মানি

ফেরত পাঠানোর পরিসংখ্যান

গত নভেম্বরে প্রকাশ হওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের প্রথম নয় মাসে ১৯,৯১৪ জনকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে জার্মানি৷ পুরো ২০১৫ সালে ২০,৮৮৮ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল৷

সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যে কোনো বিদেশিকে দেশে ফেরত পাঠাতে কোনো আইনি বাঁধা নেই বলে রায় দিয়েছে জার্মানির সর্বোচ্চ আদালত৷ তবে সমালোচকরা একে সংবিধানবিরোধী বলছেন৷

আমাদের অনুসরণ করুন