সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এখনো অতুলনীয়

২৩শে ডিসেম্বর কলকাতায় সংগীত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়৷ সেদিন তাঁর সুরের জাদুতে মাতিয়েছিলেন সংগীত মেলার দর্শক-শ্রোতাদের৷ বয়সের কাছে হার মানেনি তাঁর কণ্ঠ৷ ৮৬ বছরেও তাই এত নিখুঁত৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে শিল্পীর পাশেই বসেছিলেন৷ তাঁর অনুরোধে গীতশ্রী যখন গান শুরু করলেন ‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা...', পুরো অডিটোরিয়াম মন্ত্রমুগ্ধ৷ তিনি গাওয়ার পর অন্য শিল্পীরা জানালেন এরপর আর কোনো গান আসলে গাওয়া যায় না৷ তাঁর গলার সুরের ওঠানামায় দর্শকরা যেন কয়েক যুগ পেছনে ফিরে গেলেন৷ পুরো গানটা গাননি৷ তাতে কি! উপস্থিত প্রত্যেক শিল্পী এবং শ্রোতা বললেন তাঁর সম্মানেই সংগীত মেলার প্রথম দিনটা উৎসর্গ করা হোক৷

তাই হলো৷ মঞ্চে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রীসহ সব শিল্পীরা গাইলেন ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে...'৷

বাংলা সংগীত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তার পরে শেষই হয়ে যায়৷ সেদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল ইটিভি নিউজ বাংলা৷ সেই প্রতিবেদনটি তারা নিজেদের ফেসবুক পাতায় পোস্ট করার পর ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়৷ এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩০ হাজার বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি৷ প্রায় দুই হাজার বারের মতো শেয়ার হয়েছে৷

মন্তব্যে অনেকেই এই কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন৷ অনেকেই বলেছেন, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ছাড়া সুচিত্রা সেনের ঠোঁটে অন্য কোনো শিল্পীর গান বেমানান৷

আবহমান বাংলার মাটির গান

ভাটিয়ালী

বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের জনপ্রিয় গান ভাটিয়ালী৷ নদ-নদীতে পূর্ণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চলগুলোতেই ভাটিয়ালী গানের মূল সৃষ্টি, চর্চাস্থল৷ ভাটিয়ালী গানের মূল বৈশিষ্টা হলো, এ গান রচিত হয় মূলত মাঝি, নৌকা, দাঁড়, গুন বিষয়ে৷ নদীতে কারও সাথে যোগাযোগে লম্বা টান দিয়ে দিয়ে কথা বলতে হয়৷ এই গানেও তাই এ ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷ ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে’ একটি বিখ্যাত ভাটিয়ালী গান৷

আবহমান বাংলার মাটির গান

ভাওয়াইয়া

উত্তরবঙ্গের লোকগীতি ভাওয়াইয়া৷ উত্তরবঙ্গে নদী-নালা অন্য অঞ্চলের তুলনায় কম থাকায় যাতায়াতের মূল বাহন ছিল গরুর গাড়ি৷ দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে গাড়োয়ানদের ভরসা ছিল বিশেষ ঢংয়ের এই গান৷ উঁচু-নিচু কাঁচা রাস্তায় চলার সময় গাড়িয়ালের গলায় যে ভাঁজ পড়তো, তা এখন এই গানের অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই ইত্যাদি এই ধারার বিখ্যাত গান৷

আবহমান বাংলার মাটির গান

বাউল গান

ধারণা করা হয়, সতেরো শতকে বাউল সম্প্রদায়ের সাথেই বাউল গানের জন্ম৷ কিন্তু এই ধারা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে লালন সাঁইয়ের মাধ্যমে, উনিশ শতক থেকে৷ ধারণা করা হয়, লালন প্রায় দু'হাজারের মতcf গান রচনা করেছিলেন৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বাউল গান দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন৷

আবহমান বাংলার মাটির গান

গম্ভীরা

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে, বিশেষকরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গম্ভীরার প্রচলন রয়েছে৷ ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরার প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে৷ তবে পরবর্তীতে গম্ভীরা সর্বস্তরের মানুষের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে৷ এখন এই গানে সামাজিক নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে সমাধানও দেওয়া হয়৷ গম্ভীরার মুখ্য চরিত্র হিসেবে নানা-নাতি খুবই জনপ্রিয়৷ আঞ্চলিক ভাষায় নানা ও নাতির সংলাপ ও গানের মধ্য দিয়ে এই গান পরিবেশন করা হয়৷

আবহমান বাংলার মাটির গান

যাত্রাপালা

যাত্রা এক ধরনের লোকনাট্য ধারা৷ সাধারণত নানা ধরনের ইতিহাসধর্মী গল্পের আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ এই নাটক উপস্থাপন করা হয় দর্শকদের সামনে৷ তবে উপস্থাপনা, মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা, সংলাপ, সবকিছু মিলিয়ে মঞ্চনাটকের চেয়ে একেবারেই আলাদা যাত্রাপালা৷ যাত্রা পালার বিবেকের গান, বা অন্যান্য গানও উপস্থাপনভঙ্গী এবং সুর-কথা মিলিয়ে বাংলা সংস্কৃতিতে করে নিয়েছে আলাদা স্থান৷

এপিবি/ডিজি


আমাদের অনুসরণ করুন