সমকামীদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ‘কোনো জায়গা নেই'

ইন্দোনেশিয়া বৃহস্পতিবার জানালো যে, সেদেশে সমকামীদের জন্য ‘কোনো জায়গা নেই'৷ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম প্রধান দেশটিতে সমকামীদের উপর নির্যাতন বড়ছে বলে অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করার পর, এ কথা জানায় সরকার৷

চলতি বছরের প্রথম থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিষিদ্ধকরাসহ সমকামীদের ওপর নানারকম নিষেধাজ্ঞা জারি করতে শুরু করে সরকার৷ এমনকি সরকারের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ে সমকামীদের উদ্দেশ্যে নানারকম আপত্তিকর ও আক্রমণাত্বক মন্তব্য করতেও দেখা যায়৷ বলা বাহুল্য, সমকামীদের ওপর দায়িত্বশীলদের এমন আচরণকে ধিক্কার জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷

নেদারল্যান্ডস

২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে সমকামী বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়৷ ছবিতে সমকামী দম্পতিকে বিয়ের পর কেক কাটতে দেখা যাচ্ছে৷ ২০১১ সালে দেশটিতে সমকামী বিয়ে বৈধ হওয়ার ১০ বছর পূর্তিতে তাঁরা বিয়ে করেন৷

ইংল্যান্ড

২০১৩ সালের জুলাইতে সমকামী বিয়ে বৈধ করে আইন পাস হয়৷ এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এলটন জন তাঁর সঙ্গীকে বিয়ে করেন৷

ফ্রান্স

দেখছেন দেশটির প্রথম সমকামী জুটির বিয়ের ছবি৷ ২০১৩ সালের মে মাসে ফ্রান্সে এই বিয়ের বৈধতা দেয়া হয়৷

লুক্সেমবুর্গ

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেয়া হয়৷ এর চার মাস পর সঙ্গীকে বিয়ে করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাভিয়ের বেটেল (ডানে)৷

আয়ারল্যান্ড

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আয়ারল্যান্ডে ২০১৫ সালের মে মাসে গণভোটের মাধ্যমে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়৷

ইউরোপের অন্যান্য দেশ

২০০৩ সালে বেলজিয়াম, ২০০৫ সালে স্পেন, ২০০৯ সালে নরওয়ে, একই বছর সুইডেন, ২০১০ সালে পর্তুগাল, একই সময়ে আইসল্যান্ড, ২০১২ সালে ডেনমার্ক, ২০১৪ সালে ফিনল্যান্ড এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রিসে সমকামী বিয়ের বৈধতা দেয়া হয়৷

দক্ষিণ আফ্রিকা

আফ্রিকার প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০০৬ সালে থেকে সমকামী বিয়ে বৈধ৷ একই সময় থেকেই তাঁরা সন্তানেরও অভিভাবক হওয়ার অনুমতি পায়৷

আর্জেন্টিনা

ল্যাটিন অ্যামেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে ২০১০ সালে এরকম বিয়ের বৈধতা দেয় আর্জেন্টিনা৷ এরপর ঐ মহাদেশের ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ায় সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়েছে৷

ব্রাজিল

ল্যাটিন অ্যামেরিকার তৃতীয় দেশ হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ব্রাজিলে সমকামী বিয়ে বৈধ৷ ছবিটি ঐ বছরের ৮ ডিসেম্বর তোলা৷ সেদিন প্রায় ১৩০ সমকামী জুটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন৷ এক অনুষ্ঠানে এতজন সমকামীর বিয়ে করার ওটিই ছিল তখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদাহরণ৷

যুক্তরাষ্ট্র

দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সমকামী বিয়ে বৈধ ঘোষণা করে৷ উত্তর অ্যামেরিকার ক্যানাডা ও মেক্সিকোর পাঁচটি রাজ্যেও এখন এই বিয়ে বৈধ৷

নিউজিল্যান্ড

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের একমাত্র দেশ যেখানে ২০১৩ সালের এপ্রিলে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়৷ ছবিতে নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউন থেকে অকল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে এমন একটি বিয়ে পড়ানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে৷

আসলে মুসলিমপ্রধান এই দেশটিতে উগ্র ইসলামপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরেই সমকামীদের ওপর বিভিন্নভাবে হামলা চালাচ্ছিল৷ কিন্তু সরকারের তরফ থেকে তাঁদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণের ঘটনা দেখা গেল সাম্প্রতিককালে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, ইন্দোনেশিয়ায় সংগঠনটির মুখপাত্র জোহান বুডি জানান, ‘‘স্কুলে যাওয়া বা আইডি কার্ড পাওয়ার মতো অধিকার সব নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু সমকামী মুভমেন্টে গতি আনার কোনো সুযোগই এখন ইন্দোনেশিয়ায় নেই৷''

সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়ার উচ্চশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অনেকেই সমকামীদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন৷ গে অ্যাক্টিভিস্টদের ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমকামীদের বিয়ের বৈধতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন মন্ত্রীরা৷ ফলে সমকামীদের ওপর নির্যাতন আরো বাড়তে শুরু করে৷

এদিকে, সমকামীদের মধ্যকার যৌন সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করতেও কাজ করছে ধর্মীয় মৌলবাদীরা৷ দেশটির সাংবিধানিক আদালতে এই বিষয়ে এ মুহূর্তে শুনানি চলছে৷

তুরস্ক

১৮৫৮ সালে অটোমান সাম্রাজ্য সমকামিতাকে বৈধতা দেয়৷ এরপর তুরস্ক স্বাধীন হলে সেই আইন বলবৎ রাখে৷ তবে সে দেশের সংবিধানে সমকামীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা না থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে যেমন তেমনি সামাজিকভাবেও সমকামীদের এখনও বৈষম্যের শিকার হতে হয়৷

মালি

পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির সংবিধানে সমকামী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়নি৷ তবে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সমকামিতা পছন্দ করে না৷ তাই বৈধ হলেও মালির সমকামীরা বেশ ভালোই বৈষম্যের শিকার হন৷

জর্ডান

১৯৫১ সালে দেশটিতে সমকামিতাকে বৈধতা দেয়া হয়৷ অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশের তুলনায় সেখানকার সমকামীরা বেশ ভালোই আছে৷ সরকারও আইন করে সমকামীদের ‘অনার কিলিং’-এর হাত থেকে রক্ষা করেছে৷

ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস এই দেশটিতে৷ সেখানকার আইনে সমকামিতাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়নি৷ ২০০৩ সালে একবার সেরকম উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটি ব্যর্থ হয়৷

আলবেনিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিতে সমকামিতা বৈধ৷ এমনকি আইন করে সমকামীদের বৈষম্যের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে৷

বাহরাইন

১৯৭৬ সালে সেখানে সমকামিতাকে আইনগত বৈধতা দেয়৷ তবে দেশটিতে এখনও প্রকাশ্যে ছেলেরা মেয়েদের, কিংবা মেয়েরা ছেলেদের পোশাক পরতে পারে না৷

ফিলিস্তিন (পশ্চিম তীর)

পশ্চিম তীরের জর্ডান অংশে ১৯৫১ সাল থেকে সমকামিতা বৈধ৷ তবে গাজাতে নয়৷ মজার ব্যাপার হচ্ছে, গাজায় যে আইনের কারণে সমকামিতা নিষিদ্ধ সেটা বলবৎ হয়েছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে৷

ইরাক

দেশটি সমকামিতাকে বৈধতা দিলেও বিষয়টি এখনও সেখানে ‘ট্যাবু’ হয়েই আছে৷

এআই/ডিজি (এএফপি, ডিপিএ)

চলতি বছরের প্রথম থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিষিদ্ধকরাসহ সমকামীদের ওপর নানারকম নিষেধাজ্ঞা জারি করতে শুরু করে সরকার৷ এমনকি সরকারের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ে সমকামীদের উদ্দেশ্যে নানারকম আপত্তিকর ও আক্রমণাত্বক মন্তব্য করতেও দেখা যায়৷ বলা বাহুল্য, সমকামীদের ওপর দায়িত্বশীলদের এমন আচরণকে ধিক্কার জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷

নেদারল্যান্ডস

২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে সমকামী বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়৷ ছবিতে সমকামী দম্পতিকে বিয়ের পর কেক কাটতে দেখা যাচ্ছে৷ ২০১১ সালে দেশটিতে সমকামী বিয়ে বৈধ হওয়ার ১০ বছর পূর্তিতে তাঁরা বিয়ে করেন৷

ইংল্যান্ড

২০১৩ সালের জুলাইতে সমকামী বিয়ে বৈধ করে আইন পাস হয়৷ এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এলটন জন তাঁর সঙ্গীকে বিয়ে করেন৷

ফ্রান্স

দেখছেন দেশটির প্রথম সমকামী জুটির বিয়ের ছবি৷ ২০১৩ সালের মে মাসে ফ্রান্সে এই বিয়ের বৈধতা দেয়া হয়৷

লুক্সেমবুর্গ

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেয়া হয়৷ এর চার মাস পর সঙ্গীকে বিয়ে করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাভিয়ের বেটেল (ডানে)৷

আয়ারল্যান্ড

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আয়ারল্যান্ডে ২০১৫ সালের মে মাসে গণভোটের মাধ্যমে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়৷

ইউরোপের অন্যান্য দেশ

২০০৩ সালে বেলজিয়াম, ২০০৫ সালে স্পেন, ২০০৯ সালে নরওয়ে, একই বছর সুইডেন, ২০১০ সালে পর্তুগাল, একই সময়ে আইসল্যান্ড, ২০১২ সালে ডেনমার্ক, ২০১৪ সালে ফিনল্যান্ড এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রিসে সমকামী বিয়ের বৈধতা দেয়া হয়৷

দক্ষিণ আফ্রিকা

আফ্রিকার প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০০৬ সালে থেকে সমকামী বিয়ে বৈধ৷ একই সময় থেকেই তাঁরা সন্তানেরও অভিভাবক হওয়ার অনুমতি পায়৷

আর্জেন্টিনা

ল্যাটিন অ্যামেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে ২০১০ সালে এরকম বিয়ের বৈধতা দেয় আর্জেন্টিনা৷ এরপর ঐ মহাদেশের ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ায় সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়েছে৷

ব্রাজিল

ল্যাটিন অ্যামেরিকার তৃতীয় দেশ হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ব্রাজিলে সমকামী বিয়ে বৈধ৷ ছবিটি ঐ বছরের ৮ ডিসেম্বর তোলা৷ সেদিন প্রায় ১৩০ সমকামী জুটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন৷ এক অনুষ্ঠানে এতজন সমকামীর বিয়ে করার ওটিই ছিল তখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদাহরণ৷

যুক্তরাষ্ট্র

দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সমকামী বিয়ে বৈধ ঘোষণা করে৷ উত্তর অ্যামেরিকার ক্যানাডা ও মেক্সিকোর পাঁচটি রাজ্যেও এখন এই বিয়ে বৈধ৷

নিউজিল্যান্ড

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের একমাত্র দেশ যেখানে ২০১৩ সালের এপ্রিলে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়৷ ছবিতে নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউন থেকে অকল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে এমন একটি বিয়ে পড়ানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে৷