সমর প্রাঙ্গণে সুরের সুধা

আফগানিস্তানে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ছেলেদের পাশাপাশি ছিল নারী সংগীতশিল্পীদের সরব উপস্থিতি৷

১২ বছর আগে তালেবান সরকার আফগানিস্তানে বামিয়ান বৌদ্ধ ভাস্কর্য ধ্বংস করার পর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল সব ধরনের সংগীত, এমনকি জনসমক্ষে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনে নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হয়ে যায়৷

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের জবাব হিসেবে বৃহস্পতিবারের কনসার্টে শিল্পীদের প্রধান অস্ত্র ছিল গানের কথা বা লিরিক৷ নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৫ জন আফগান শিল্পী অংশ নিয়েছিল এতে৷ ১০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে চমক ছিল ১২ বছরের এক কিশোরীর গান৷

গত তিন দশক ধরে যে গৃহযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশটি৷ তাদের সব ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সুর যেন সেখানে শান্তি আর ঐক্যের বাণী নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল৷

কাবুলে বলিউডের ছবিও বিক্রি হয়

স্থানীয় দারি ভাষায় দেশের দুর্দশার কথা গানের ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরছিলেন দুজন শিল্পী৷ এমনকি হিপহপ আর পপ মিউজিকের তালে ব্রেক ড্যান্সও করেছে তরুণদের একটি দল৷

সমাজ সংস্কৃতি | 24.07.2013

বামিয়ান এলাকাটি তালেবান সহিংসতা থেকে মুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে একটি৷ জাতিসংঘের সহায়তায় আন্তর্জাতিক যুব দিবসের আয়োজনে কনসার্টটি করা হয়েছিল দেশের যুবকদের উদ্দেশ্যে৷

জাতিসংঘের আফগানিস্তান বিষয়ক এক কর্মকর্তা ডিপিএ কে জানান, দেশকে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে যুব সম্প্রদায়ের কী করার আছে তা তুলে ধরাই এ কনসার্টর উদ্দেশ্য৷

শিল্পীরা জানালেন, তাঁরা যাতে এই কনসার্টে অংশ না নেন এ জন্য মোল্লারা তাদের বিরত করার চেষ্টা করছিলেন, বলছিলেন, এ ধরনের কনসার্ট ইসলাম সমর্থন করে না৷

কনসার্টের অন্যতম সংগঠক রাওইল সিং জানালেন, তারা মোল্লাদের বলেছিলেন, জনগণই ঠিক করবে তারা কনসার্টে আসবে কিনা৷

আফগান শিল্পী আরিয়ানা সাঈদ জানালেন, মোল্লাদের হুমকির কারণে কনসার্ট ঠিক মত হবে কিনা তা নিয়ে তার সংশয় ছিল৷ কিন্তু দর্শকদের সাড়া পেয়ে তিনি অভিভূত৷

সাঈদি এখনকার যুব সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়৷ বাদ্যযন্ত্র ছাড়া ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে গাওয়া তার একটি গান মোল্লাদের নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বড় জবাব ছিল৷

এপিবি / এসবি (ডিপিএ)

আরো প্রতিবেদন...

আমাদের অনুসরণ করুন