সমালোচনার মুখে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

কাতালানদের দাবি মেনে নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস৷ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে সানচেসের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে৷

শুধু বিরোধী দল নয়, নিজ দলেও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন সানচেস৷ বিরোধীরা দাবি করছেন, ২০১৯ সালের বাজেট পাস করাতে সানচেসের কাতালান রাজনীতিকদের সমর্থন লাগবে, তাই তিনি তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছেন৷

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কাতালান বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও কাতালান ভাইস প্রেসিডেন্ট ওরিল জুনেভারাস বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন৷ ইতোমধ্যে বিদ্রোহের কারণে তাঁর যাবজ্জীবন দাবি করেছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী৷ পাশাপাশি স্পেনের বাজেট আসন্ন৷ এ অবস্থায় রীতিমতো উভয় সংকটে সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস৷

কাতালানদের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে যে নিরপেক্ষ মধ্যস্ততাকারীর উপস্থিতি দাবি করেছিল কাতালান বিদ্রোহীরা, সেটি মেনে নিয়েছেন তিনি৷ সেখানে কাতালান নেতার বিচার প্রসঙ্গেও আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় সংকটে রয়েছেন সানচেস৷ বাজেটের পূর্বমুহূর্তে কাতালানদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে পারছেন না তিনি, একইসঙ্গে অখণ্ড স্পেনের দাবিকে অস্বীকার করতে পারছেন না৷

স্পেনের বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা পাবলো কাসাদো ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসকে৷ তিনি বলেন, কাতালানদের বিচ্ছিন্নতার দাবিকে আস্কারা দিচ্ছেন সানচেস৷ এটি অখণ্ড স্পেনের দাবির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা৷ শুধুমাত্র বাজেট পাস ও নিজের প্রধানমন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি এমন করছেন৷

তিনি আরো বলেন, সানচেস একজন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব সীমা অতিক্রম করেছেন৷ কাসাদো স্পেনের সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন৷

 পিপলস পার্টি ছাড়াও ডানপন্থি দল ‘ফার রাইট ভক্স’ও আগামী রবিবার এক বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে দেশজুড়ে৷ অখণ্ড স্পেনের নিশ্চয়তায় আগাম নির্বাচনের দাবি উত্থাপিত হবে সেই বিক্ষোভ মিছিলে৷

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন যাবত কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার দাবি নিয়ে বিপাকে রয়েছে স্পেনের সরকার৷ কাতালুনিয়ায় দুটি পক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে৷ তাদের একপক্ষ অখণ্ড স্বাধীনতা দাবি করে৷ আরেকপক্ষ স্পেনের সঙ্গে থেকে স্বায়ত্ব শাসনের দাবিদার৷

এফএ/এসিবি (ইএফই/এএফপি/ইরোপা প্রেস)

আমাদের অনুসরণ করুন