সাংবাদিকতায় কিছু ভুল, কিছু ‘চালাকি’

সাংবাদিকতার কিছু ভুল নিয়ে অনেক আলোচনা, বিতর্ক হয়েছে৷ আবার কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে সাংবাদিকরা খুব একটা কথা বলেন না বা হয়ত বলতে চান না৷ কিন্তু বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার দরকার আছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

শুধু ধর্ষিতা বা যৌন নিপীড়নের শিকারের নাম প্রকাশেই বাধা?

সাংবাদিকতার প্রাথমিক স্তরেই সবার জানা হয়ে যায় যে, সংবাদে কোনো অবস্থাতেই ধর্ষিতা বা যৌন নিপীড়নের শিকারের নাম প্রকাশ করা যাবে না৷ এটা মোটামুটি সবাই জানেন বলে ধর্ষিতা বা যৌন নিপীড়নের শিকারের নাম প্রকাশিত হতে খুব একটা দেখা যায় না৷ কিন্তু অনেকক্ষেত্রে ধর্ষিতার এলাকার নাম বা তাঁর কোনো আত্মীয়ের নাম বা পরিচয় প্রকাশিত হতে দেখা যায়৷ যাঁরা প্রকাশ করেন, তাঁদের আসলে নাম, পরিচয় প্রকাশ না করার পেছনের কারণগুলো সম্পর্কেই হয়ত ধারণা নেই৷ নইলে তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতেন, এলাকা, বিশেষ করে আত্মীয়ের নাম প্রকাশ করলে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের শিকারের নাম জানাজানি হতে বিশেষ কিছু বাকি থাকে না৷

এ বিষয়টি ‘কমন সেন্স' থাকলেই বোঝা সম্ভব৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, অনেকেরই যেন সেই সেন্স বা সেন্স খাটানোর সময় নেই৷ এ যুগেও কোনো সাংবাদিকের এমন ভুল সত্যিই মর্মান্তিক৷

ইরিত্রিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রকাশিত ২০১৬ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী, যে দেশটিতে গণমাধ্যমের কোনোই স্বাধীনতা নেই, সেটি হচ্ছে ইরিত্রিয়া৷ গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বৈরশাসকের কবলে থাকে দেশটির কমপক্ষে ১৫ সাংবাদিক এই মুহূর্তে জেলে আছেন৷ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে সবার নীচে আছে ইরিত্রিয়া৷

উত্তর কোরিয়া

ইরিত্রিয়ার পরই নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া৷ কিম জুন-উনের নেতৃত্বাধীন দেশটি গত ১৫ বছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের একেবারে নীচের দিকে অবস্থান করছে৷ দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা তেমন দেয়া হয় না, যদিও বা কেউ ভিসা পান, তাঁকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে৷

তুর্কমেনিস্তান

এই দেশটিকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম তথ্য কৃষ্ণ গহ্বর৷ স্বাধীনভাবে কোনো সাংবাদিক কাজ করতে চাইলে তাঁর জন্য মোটামুটি কারাভোগ এবং নির্যাতন নিশ্চিত দেশটিতে৷ ইনডেক্সে তাদের অবস্থান নীচের দিক থেকে তৃতীয়৷

ফিনল্যান্ড

এবার যাওয়া যাক, তালিকার উপরের দিকের অবস্থা৷ গত পাঁচবছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের শীর্ষে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড৷ দেশটির গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ তবে সেদেশের অধিকাংশ পত্রিকা দু’টি মিডিয়া গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে৷

নেদারল্যান্ডস

প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে গত একবছরে দু’ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে নেদারল্যান্ডস৷ দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গতবছর চারজন ব্লগার এবং প্রকাশক খুন হওয়ার পরও প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে কিঞ্চিৎ উন্নতি ঘটেছে৷ আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ১৪৪তম, তবে গ্লোবাল স্কোর কমেছে মাইনাস ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ৷

ধর্ষণের অভিযোগই কি শেষ কথা?

সবসময় কথিত ‘ধর্ষক' বা ‘নিপীড়কের' নাম প্রকাশ করাও উচিত কিনা, এটাও ভেবে দেখা দরকার৷ সবক্ষেত্রে তো অভিযোগই শেষ কথা হতে পারে না৷ স্রেফ অভিযোগের ভিত্তিতেই তার নাম প্রকাশ করার মাঝেও নিরপরাধকে সামাজিকভাবে হেয় করার ক্ষীণ একটা ঝুঁকি থেকে যায় বৈকি৷ সুতরাং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কিঞ্চিত সন্দেহ থাকলেও কাউকে কাগজেকলমে পুরোপুরি ধর্ষক বানিয়ে না ফেলাই ভালো৷

পুলিশ যেভাবে চায় সেভাবেই কেন?

এক টেলিভিশন টক শো-তে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘ডিজিএফআই-এর সরবরাহ করা দুর্নীতির খবর' যাচাই না করেই প্রকাশ করে ‘বিরাট ভুল করেছিলেন' বলে আওয়ামী লীগের তোপের মুখে পড়েছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম৷ সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ৮৪টি মামলা হয়েছে৷ দেরিতে হলেও ভুল স্বীকারের সাহসিকতা দেখিয়ে মাহফুজ আনাম সাহস নিয়েই আইনি লড়াই লড়ছেন৷

ইন্টারনেটে এ সংক্রান্ত দুটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার মুখে মঙ্গলবারই ঐ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করে হাঙ্গেরির এনওয়ানটিভি৷ চ্যানেলটির প্রধান সম্পাদক ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেন৷

শুধু ধর্ষিতা বা যৌন নিপীড়নের শিকারের নাম প্রকাশেই বাধা?

সাংবাদিকতার প্রাথমিক স্তরেই সবার জানা হয়ে যায় যে, সংবাদে কোনো অবস্থাতেই ধর্ষিতা বা যৌন নিপীড়নের শিকারের নাম প্রকাশ করা যাবে না৷ এটা মোটামুটি সবাই জানেন বলে ধর্ষিতা বা যৌন নিপীড়নের শিকারের নাম প্রকাশিত হতে খুব একটা দেখা যায় না৷ কিন্তু অনেকক্ষেত্রে ধর্ষিতার এলাকার নাম বা তাঁর কোনো আত্মীয়ের নাম বা পরিচয় প্রকাশিত হতে দেখা যায়৷ যাঁরা প্রকাশ করেন, তাঁদের আসলে নাম, পরিচয় প্রকাশ না করার পেছনের কারণগুলো সম্পর্কেই হয়ত ধারণা নেই৷ নইলে তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতেন, এলাকা, বিশেষ করে আত্মীয়ের নাম প্রকাশ করলে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের শিকারের নাম জানাজানি হতে বিশেষ কিছু বাকি থাকে না৷

এ বিষয়টি ‘কমন সেন্স' থাকলেই বোঝা সম্ভব৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, অনেকেরই যেন সেই সেন্স বা সেন্স খাটানোর সময় নেই৷ এ যুগেও কোনো সাংবাদিকের এমন ভুল সত্যিই মর্মান্তিক৷

ইরিত্রিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রকাশিত ২০১৬ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী, যে দেশটিতে গণমাধ্যমের কোনোই স্বাধীনতা নেই, সেটি হচ্ছে ইরিত্রিয়া৷ গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বৈরশাসকের কবলে থাকে দেশটির কমপক্ষে ১৫ সাংবাদিক এই মুহূর্তে জেলে আছেন৷ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে সবার নীচে আছে ইরিত্রিয়া৷

উত্তর কোরিয়া

ইরিত্রিয়ার পরই নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া৷ কিম জুন-উনের নেতৃত্বাধীন দেশটি গত ১৫ বছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের একেবারে নীচের দিকে অবস্থান করছে৷ দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা তেমন দেয়া হয় না, যদিও বা কেউ ভিসা পান, তাঁকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে৷

তুর্কমেনিস্তান

এই দেশটিকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম তথ্য কৃষ্ণ গহ্বর৷ স্বাধীনভাবে কোনো সাংবাদিক কাজ করতে চাইলে তাঁর জন্য মোটামুটি কারাভোগ এবং নির্যাতন নিশ্চিত দেশটিতে৷ ইনডেক্সে তাদের অবস্থান নীচের দিক থেকে তৃতীয়৷

ফিনল্যান্ড

এবার যাওয়া যাক, তালিকার উপরের দিকের অবস্থা৷ গত পাঁচবছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের শীর্ষে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড৷ দেশটির গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ তবে সেদেশের অধিকাংশ পত্রিকা দু’টি মিডিয়া গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে৷

নেদারল্যান্ডস

প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে গত একবছরে দু’ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে নেদারল্যান্ডস৷ দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গতবছর চারজন ব্লগার এবং প্রকাশক খুন হওয়ার পরও প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে কিঞ্চিৎ উন্নতি ঘটেছে৷ আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ১৪৪তম, তবে গ্লোবাল স্কোর কমেছে মাইনাস ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ৷

ধর্ষণের অভিযোগই কি শেষ কথা?

সবসময় কথিত ‘ধর্ষক' বা ‘নিপীড়কের' নাম প্রকাশ করাও উচিত কিনা, এটাও ভেবে দেখা দরকার৷ সবক্ষেত্রে তো অভিযোগই শেষ কথা হতে পারে না৷ স্রেফ অভিযোগের ভিত্তিতেই তার নাম প্রকাশ করার মাঝেও নিরপরাধকে সামাজিকভাবে হেয় করার ক্ষীণ একটা ঝুঁকি থেকে যায় বৈকি৷ সুতরাং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কিঞ্চিত সন্দেহ থাকলেও কাউকে কাগজেকলমে পুরোপুরি ধর্ষক বানিয়ে না ফেলাই ভালো৷

পুলিশ যেভাবে চায় সেভাবেই কেন?

এক টেলিভিশন টক শো-তে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘ডিজিএফআই-এর সরবরাহ করা দুর্নীতির খবর' যাচাই না করেই প্রকাশ করে ‘বিরাট ভুল করেছিলেন' বলে আওয়ামী লীগের তোপের মুখে পড়েছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম৷ সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ৮৪টি মামলা হয়েছে৷ দেরিতে হলেও ভুল স্বীকারের সাহসিকতা দেখিয়ে মাহফুজ আনাম সাহস নিয়েই আইনি লড়াই লড়ছেন৷

জরুরি অবস্থার সেই সময়টায় সংবাদমাধ্যমের ওপর ভয়ানক চাপ ছিল৷ অনেকের মতো মাহফুজ আনামও সেই চাপের কাছে ‘নত' হয়েছিলেন৷ তবে সেই তুলনায় অনেক ভালো পরিস্থিতিতেও কিন্তু সংবাদমাধ্যমকে প্রতিনিয়ত নতি স্বীকার করতে, অতিরিক্ত আপোশকামী হতে দেখা যায়৷ ক্রসফায়ারের খবরে তো তবু কৌশলে বোঝানো হয় যে, ‘বন্দুকযুদ্ধের' বিবরণটি সম্পূর্ণ ব়্যাব বা পুলিশের দেয়া, কিন্তু যখন ধৃত ব্যক্তিদের বুকে ‘চোর', ‘ডাকাত', ‘আদম পাচারকারী' বা অন্য কোনো অসম্মানসূচক শব্দ লিখে হাজির করা হয়, তখন সেই অবস্থার ছবি হুবহু কেন প্রকাশ করতে হবে? অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কাউকে এভাবে ‘চোর', ‘ডাকাত' বানানোয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার কী আদৌ কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি আছে?

লাথি ও ল্যাং

ঘৃণ্য এই কাজটিই করেছেন হাঙ্গেরির এক টেলিভিশন ক্যামেরাম্যান৷ হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্তে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পলায়নরত শরণার্থীদের লাথি ও ল্যাং মেরেছেন তিনি৷ ছবিতে ঐ সাংবাদিকের ল্যাং খেয়ে কোলে থাকা সন্তান সহ এক বাবাকে পড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে৷ ভিডিও দেখতে উপরে ডানপাশে থাকা ‘আরো’ লেখায় ক্লিক করুন৷

চাকরি শেষ

ইন্টারনেটে এ সংক্রান্ত দুটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার মুখে মঙ্গলবারই ঐ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করে হাঙ্গেরির এনওয়ানটিভি৷ চ্যানেলটির প্রধান সম্পাদক ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেন৷

প্রায় দেড় লক্ষ

হাঙ্গেরি দিয়েই সেঙগেন এলাকা শুরু হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশে যেতে শরণার্থীরা হাঙ্গেরিকে বেছে নিচ্ছেন৷ চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লক্ষ শরণার্থী হাঙ্গেরি পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে৷

শরণার্থীরা হুমকি?

হাঙ্গেরির ডানপন্থি সরকার মনে করে শরণার্থীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নতি ও ‘খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধে’-র জন্য হুমকিস্বরূপ৷

হাঙ্গেরিতে নিবন্ধিত হতে চায় না

শরণার্থীরা হাঙ্গেরিতে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে থাকতে চান না৷ তাই নিবন্ধনও হতে চান না সে দেশে৷ কারণ তাঁদের ভয়, ইইউর নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত হলে তাদের হাঙ্গেরিতেই আশ্রয় নিতে হতে পারে৷ উল্লেখ্য, ইইউর নিয়ম বলছে শরণার্থীরা ইইউর যে দেশে প্রথমে প্রবেশ করবে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য তাদের সে দেশেই আবেদন করতে হবে৷

ইয়ুংকারের জোর আহ্বান

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্যঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার ইউরোপীয় সংসদে দেয়া এক বক্তৃতায় ইটালি, গ্রিস ও হাঙ্গেরিতে থাকা প্রায় এক লক্ষ ৬০ হাজার শরণার্থীকে ইইউর বিভিন্ন দেশে সরিয়ে নিতে একমত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান তিনি৷

ম্যার্কেলেরও একই সুর

ইউরোপীয় সংসদে যখন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান শরণার্থী গ্রহণে ইইউর সকল দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঠিক একই সময়ে প্রায়ই একই ধরণের আহ্বান জানিয়ে জার্মান সংসদে বক্তব্য রেখেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তিনি শরণার্থী গ্রহণে কোটা ব্যবস্থায় রাজি হতে সব ইইউ দেশের প্রতি আহ্বান জানান৷

ভোটকেন্দ্রের ছবিতে শাখা-সিঁদুর পরা হিন্দু নারী থাকতেই হবে?

ভোট কেন্দ্রের ছবি মানেই ভোটারদের লম্বা লাইন এবং সেই লাইনে শাখা এবং সিঁদুর পরা এক বা একাধিক হিন্দু নারী দাঁড়ানো৷ দেশের সব দৈনিকেই এই নিয়মই প্রতিষ্ঠিত৷ এই নিয়ম অনুসরণ করতে গিয়ে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকও ফটোশপে ছবি বানিয়ে প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ এমন ছবি থাকতেই হবে কেন? বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা খুব ভালো আছে, খুব শান্তিতে ভোট দিচ্ছে – এটা বোঝাতে হবে এভাবে? খবরের কাগজগুলোতে কোনো প্রদর্শনীর ছবি দেখলে মনে হবে বাংলাদেশে প্রদর্শনীতে শুধু নারীরাই যান৷ এটাই বা কেমন?

কোনটা প্রচারযোগ্য খবর?

খবরের জন্য এখন সবসময় মাঠে-ঘাটে যেতে হয় না৷ ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে আরাম কেদারায় বসেও সহজেই লিখে দেয়া যায় বড় বড় খবর৷ রাজন হত্যা থেকে শুরু করে বেশ কিছু খবর তো মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আগে সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই আমরা পেয়েছি৷

কিন্তু আজকাল নির্ভরযোগ্যতার বাছবিচর ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে৷ ফলে ভুল সংবাদ প্রচারের দায়ও নিতে হয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকে৷ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নামও কিন্তু এই তালিকায় আছে৷ ‘সাংবাদিকের চোখ' এবং বিবেচনাবোধ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যা খুশি তাই প্রচার করে দেয়া নিশ্চয়ই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে অনেক ক্ষেত্রে সংবাদের উৎস বা সূত্র ভাবা যেতে পারে, কিন্তু পরিপূর্ণ এবং প্রশ্নাতীতভাবে ঠিক খবরের পরিবেশক ভাবা কখনোই ঠিক নয়৷

এক তরফা বা খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার

অনেকক্ষেত্রেই বড় বড় ইস্যুতে এক তরফা বক্তব্য প্রচার করতে দেখা যায়৷ কোনো বিষয়ে পক্ষের বা বিপক্ষের বক্তব্যই প্রচার করা আংশিক সত্য প্রকাশ এবং বাকি অংশের সত্য চাপা দেয়ার শামিল৷ কারো বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিতর্ক জন্ম দেয়ার অভিযোগও আছে সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে৷ এ সব কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না৷

Deutsche Welle DW Ashish Chakraborty

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

হাসপাতাল বা দুর্ঘটনাস্থলে ‘উৎপাত'

এ বিষয়টি প্রধানত টেলিভিশন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷ প্রায়ই দেখা যায় খবর সংগ্রহে হাসপাতাল বা কোনো দুর্ঘটনাস্থলে ক্যামেরাসহ সাংবাদিকদের ছুটোছুটি৷ এভাবে চিকিৎসা বা উদ্ধারকার্যে সমস্যা তৈরি করা একেবারেই ঠিক নয়৷ বিশ্বের অনেক দেশেই সাংবাদিকরা এমন পরিস্থিতিতে রোগী বা দুর্ঘটনাগ্রস্থের স্বার্থ সবার ওপরে রেখেই কাজ করছেন৷

ব্যক্তির মর্যাদা, নিরাপত্তা সবার আগে

এ বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আগেই অনেক কথা হয়েছে৷ এসএসসি-তে ‘জিপিএ ৫' পাওয়া শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি যাচাইয়ের নামে তাদের একরকম নাজেহালই করেছিল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল৷ প্রতিবেদনটি প্রথমে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এবং তারপর সাংবাদিকতার মান নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়৷ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এবং টিভি চ্যানেলটির বিরুদ্ধে কয়েকটি কিশোরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ ওঠে৷ অভিযোগ ভিত্তিহীন বা অযৌক্তিক নয়৷ শিক্ষার্থীদের এমন সাক্ষাৎকার প্রচারের আগে তাদের অভিবাবকদের অনুমতি নিলে প্রতিবেদনটি আইন এবং আধুনিক সাংবাদিকতার মানদণ্ডে নিশ্চয়ই উৎরে যেত৷ সবারই মনে রাখা দরকার যে, শুধু শিশু-কিশোর নয়, যে কোনো ব্যক্তির ‘মর্যাদা' রক্ষা এবং তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করাই ‘সুস্থ' সাংবাদিকতা আর এ সবের গুরুত্ব অস্বীকার করা একেবারেই অমানবিক৷

আপনি কি আশীষ চক্রবর্ত্তীর সঙ্গে একমত? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

শুধু ধর্ষিতা বা যৌন নিপীড়নের শিকারের নাম প্রকাশেই বাধা?