সামরিক অভিযানের মুখে ফের আসছে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারে আবারো সামরিক অভিযান শুরুর কারণে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে৷ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নেতা ও কক্সবাজারের এক ইউপি চেয়ারম্যান এই তথ্য জনালেও বিজিবি এই খবর অস্বীকার করেছে৷

চলতি মাসের ১২ তারিখ মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের একটি অঞ্চলে নতুন করে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেয় সেখানকার সরকার৷ নতুন করে অভিযান চালাতে সেখানে সেনা সমাবেশ বাড়ানো হয়৷ গত বৃহস্পতিবার ৩৩তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের মোতায়েন শুরু হয়৷ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও হেলিকপ্টারে করে এসব সৈন্যকে রাজ্যের রাজধানী সিটওয়েতে নামানো হয়৷ পরদিন তাদের মোতায়েন করা হয় মংডুতে৷ এরপর থেকেই ঐ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে মিয়ানমার থেকে আরও কয়েকশ' রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা৷

সম্প্রতি অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসেছে বলে জানান তাঁরা৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের কারণে অনেকেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন৷ জাতিসংঘের আশঙ্কা, মিয়ানমার ‘এথনিং ক্লিনজিং' করতে পারে৷

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে৷ তবে তারা সংখ্যায় এখনো খুব বেশি নয়৷ তারা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘুমঘুম ইউনিয়নের কমরু এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেছে৷ তারা বালুখালি, কুতুপালং ও ঘুমঘুম অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে৷'' তিনি আরো জানান, ‘‘আগে থেকেই তাদের আত্মীয়স্বজন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখানে আছেন৷ তাদের আশ্রয়েই প্রাথমিকভাবে তারা উঠছে৷''

ডিজিটাল বিশ্ব | 14.08.2017

কুতুপালং ক্যাম্পের তরুণ রোহিঙ্গা শরণার্থী নেতা ইউনুস আরমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ছোট ছোট গ্রুপে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন৷

কোনো গ্রুপে ৬-৭ জন রোহিঙ্গা আবার কিছু গ্রুপে ৫০ জনও থাকছে৷ রাখাইনে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে৷ আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে সদ্য আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে পাচ্ছি৷ বিশেষ করে লেদা, বালুখালি ও কুতুপালং ক্যাম্পে তারা বেশি আশ্রয় নিচ্ছে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়৷ সেনারা সেখানে ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছে৷ সেখান থেকে যারা পালিয়ে এসেছে তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি নির্যাতনে কেউ হাত, কেউ পা হারিয়েছে৷ অনেকে আহত অবস্থায়ও বাংলাদেশে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে৷''

গত কয়েকদিনে ঠিক কত রোহিঙ্গা মুসলিম রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তা এই দু'জনের কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি৷ তবে বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিক বলছে সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে৷

বিজিবি'র অস্বীকার

তবে টেকনাফে বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২ এর কমান্ডার লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত নতুন করে মিয়ানমার থেকে কোনো রোহিঙ্গা প্রবেশ করেনি৷ অন্য কোনো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে কিনা আমার জানা নাই৷'' তিনি বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগে থেকেই আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে আমাদের সীমান্তের উলটো দিকে মিয়ানমার সেনা সমাবেশ করেছে৷ এরপর থেকেই আমরা সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছি৷ আমরা সবসময়ই সতর্ক থাকি৷ এখন ভিজিলেন্স আরো বাড়িয়েছি৷ মিয়ানমার সেনাবাহিনী বর্ডার ক্রস করে কিনা অথবা রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে কিনা আমরা তার ওপর সতর্ক নজর রাখছি৷''

গত বছর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছিল৷ অক্টোবরের সেই অভিযানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার খবরে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ আর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়৷ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় নিপীড়নের শিকার প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা৷

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এখন রেজিষ্টার্ড ২৪ হাজারসহ তিন লাখের মত রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন৷

সমাজ

স্বামীর খবর জানেন না তিনি

রামিদা বেগমের স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী৷ এরপর তাঁদের বাড়িঘরও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ তার সপ্তাহখানেক পর পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যান তিনি৷ ফলে স্বামীর খবর এখন জানেন না রামিদা৷ ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখে যখন ছবিটি তোলা হয় তখন তাঁর কন্যার বয়স ছিল ১০ দিন৷ তখনও মেয়ের কোনো নাম দেয়া হয়নি রামিদার৷

সমাজ

এই শিশুর বাবাকে হত্যা করা হয়েছে

স্বামীকে মিয়ানমারের সেনারা হত্যা করায় বাবামা-র সঙ্গে বাংলাদেশে চলে যান ১৮ বছরের নূর কায়েস৷ কোলে তাঁর ২৬ দিনের সন্তান, যার এখনও কোনো নাম দেননি তিনি৷ ছবিটি ৯ ফেব্রুয়ারি তোলা৷

সমাজ

সাত দিনের মেয়ে

ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে যখন ছবিটি তোলা হয় তখন আসমত আরার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র সাত দিন৷ মাসখানেক আগে তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যান৷ বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার আগে তাঁর শ্বশুরকেও হত্যা করা হয়৷

সমাজ

সন্তানদের বাঁচাতে বাংলাদেশে

একমাস বয়সি ছেলে সন্তানের সঙ্গে রাজুমা বেগম৷ যখন বাংলাদেশে আসছিলেন তখন গর্ভবতী ছিলেন তিনি৷ সঙ্গে ১১ মাসের আরেকটি সন্তানও ছিল৷ ‘‘আমি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি কারণ মিয়ানমারের ভয়ের মধ্যে ছিলাম৷ আমার সন্তানদের বাঁচাতে চেয়েছি আমি’’, রয়টার্সকে বলেন বেগম৷ ছবিটি ১২ ফেব্রুয়ারি তোলা৷

সমাজ

দেশে ফিরতে আগ্রহী সানোয়ারা

৯ ফেব্রুয়ারি তোলা এই ছবিতে ২৫ দিনের কন্যা কোলে ২০ বছর বয়সি মা সানোয়ারা বেগমকে দেখা যাচ্ছে৷ প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন তিনি৷ এখন আছেন কক্সবাজারের কুতুপালাং আশ্রয়কেন্দ্রে৷ মিয়ানমারের পরিস্থিতি ভাল হলে নিজ ঘরে আবারও ফিরে যেতে চান সানোয়ারা৷

সমাজ

বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে

ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে তোলা এই ছবিতে মারিজানকে তাঁর ২৫ দিন বয়সি কন্যা সন্তান সহ দেখা যাচ্ছে৷ পাশে তাঁর ছেলে৷ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ঘর পুড়িয়ে দেয়ায় মাসখানেক আগে তাঁরা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান৷

সমাজ

কন্যার জ্বর

দু’মাস বয়সি মেয়ের জ্বর কিন্তু মা আরাফা বেগম জানেন না ক্লিনিক কোথায়৷ আড়াই মাস আগে স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেনি তিনি৷

সমাজ

বাচ্চা পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে না

মিনারা বেগমের এক মাস বয়সি সন্তান পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে না, কারণ তার মা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে পান না৷ ফলে স্বাস্থ্যকর না হলেও স্থানীয় বাজার থেকে গুঁড়া দুধ কিনে খাওয়াতে হচ্ছে তাকে৷ ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি তোলা৷

সমাজ

এলোপাথাড়ি গুলি

১৬ দিনের সন্তান কোলে মা আমিনা৷ ‘‘মাস দেড়েক আগে মিয়ামারের সেনাবাহিনী আমাদের গ্রামে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে৷ আমি কোনোরকমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে বেঁচেছি৷ তারা আমার চাচা আর ছোটভাইকে ধরে নিয়ে গেছে৷ তারা বেঁচে আছে কিনা জানিনা’’, ৮ ফেব্রুয়ারি রয়টার্সকে কথাগুলো বলেন তিনি৷

সমাজ

বয়স মাত্র একদিন

ফাতেমার সন্তানের বয়স মাত্র একদিন৷ ছবিটি ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে তোলা৷ মিয়ানমারে তাদের ঘর পুড়িয়ে দেয়ায় মাস দুয়েক আগে স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন৷ এখন তাঁর স্বামী দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন৷

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কি? মতামত লিখুন নীচের ঘরে৷