সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি নিয়ে বলছেন এক মনঃচিকিৎসক

বর্তমানে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছেন৷ এতে তাদের শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতিই বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক মনঃচিকিৎসক ডা. তারিকুল আলম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে ধরণের বন্ধন ছিল, এখন তা নেই৷ ফলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অনেকে সময় কাটাতে বেশি বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পথ বেছে নিচ্ছে৷ এই মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক, কীভাবে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, এ ক্ষেত্রে বাবা-মাদের করণীয় কী হতে পারে – এমন নানান বিষয়ে কথা বলেছেন ডাঃ আলম৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ডয়চে ভেলে: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কারণে একজন মানুষের তো শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষতির দিকটা কীরকম?

ডাঃ তারিকুল আলম: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কারণে শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতি বেশি হচ্ছে৷ মোবাইল ফোন আর কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য চোখ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মেরুদণ্ডেও ব্যথা হতে পারে৷ হতে পারে ঘুমের সমস্যাও৷ তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মূল যে সমস্যাটা হয় সেটা হলো ‘বিহেভিয়ার এডিকশন' অর্থাৎ ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি৷ আসক্তি যখন হয়ে যায়, তখন সে চাইলেই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না৷ তার কারণে দীর্ঘসময় ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়৷

অডিও শুনুন 09:11
এখন লাইভ
09:11 মিনিট
বিষয় | 01.08.2016

‘শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতিই বেশি’

এই ধরনের কোনো রোগী কি এখন পর্যন্ত পেয়েছেন?

আমাদের কাছে এই ধরনের অনেক রোগী আসে৷ বিশেষ করে টিনএজারদের বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে আসছেন৷ তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গেছে৷ তার আচরণ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে৷ তার সামাজিক যোগাযোগে পরিবর্তন হচ্ছে৷

এই রোগীদের প্রতি আপনাদের কী পরামর্শ থাকে?

প্রত্যেকটা জিনিসের একটা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক থাকে৷ এই সোস্যাল মিডিয়া মানুষ যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার শুরু করেছিল এখন অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সেটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমরা কখনই বলি না যে এগুলো ব্যবহার করা যাবে না৷ তবে ব্যবহারের একটা লিমিট আছে৷ সেটা মেনে চলতে হবে৷ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে৷ নির্দিষ্ট সময় থাকবে৷ যাতে তার মধ্যে আসক্তি তৈরি না হয়৷ এটাই আমাদের পরামর্শ৷

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কিছু মানুষের মধ্যে স্মার্টফোনের আসক্তির এমন তীব্রতা লক্ষ্য করেছেন যা রীতিমতো বিস্ময়কর৷ তাঁরা দেখেছেন, কিছু লোক মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, যেন মোবাইল বন্ধ হয়ে গেলে জীবনই অচল৷ এমন হলে বুঝতে হবে আপনিও নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বা অচিরেই হবেন৷

ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে প্রতিদিন ‘স্ট্যাটাস’ না লিখলেও অনেকের একদমই চলে না৷ মনে হয়, খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করা হয়নি৷ এমন হওয়াটাও খারাপ কথা, তখন বুঝতে হবে ‘নোমোফোবিয়া’ আপনাকেও পেয়েছে৷

স্মার্টফোনে মানুষ এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে যে কারো কারো রাতে মোবাইল ফোনে একটা হাত না রাখলে ঠিকমতো ঘুমই হয় না৷ নোমোফোবিয়া-র চূড়ান্ত লক্ষণ এটা৷ সুতরাং এই অভ্যাস ছাড়ুন৷

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক মনঃচিকিৎসক ডা. তারিকুল আলম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে ধরণের বন্ধন ছিল, এখন তা নেই৷ ফলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অনেকে সময় কাটাতে বেশি বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পথ বেছে নিচ্ছে৷ এই মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক, কীভাবে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, এ ক্ষেত্রে বাবা-মাদের করণীয় কী হতে পারে – এমন নানান বিষয়ে কথা বলেছেন ডাঃ আলম৷

ডয়চে ভেলে: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কারণে একজন মানুষের তো শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষতির দিকটা কীরকম?

ডাঃ তারিকুল আলম: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কারণে শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতি বেশি হচ্ছে৷ মোবাইল ফোন আর কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য চোখ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মেরুদণ্ডেও ব্যথা হতে পারে৷ হতে পারে ঘুমের সমস্যাও৷ তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মূল যে সমস্যাটা হয় সেটা হলো ‘বিহেভিয়ার এডিকশন' অর্থাৎ ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি৷ আসক্তি যখন হয়ে যায়, তখন সে চাইলেই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না৷ তার কারণে দীর্ঘসময় ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়৷

অডিও শুনুন 09:11
এখন লাইভ
09:11 মিনিট
বিষয় | 01.08.2016

‘শারীরিকের চেয়ে মানসিক ক্ষতিই বেশি’

এই ধরনের কোনো রোগী কি এখন পর্যন্ত পেয়েছেন?

আমাদের কাছে এই ধরনের অনেক রোগী আসে৷ বিশেষ করে টিনএজারদের বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে আসছেন৷ তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গেছে৷ তার আচরণ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে৷ তার সামাজিক যোগাযোগে পরিবর্তন হচ্ছে৷

এই রোগীদের প্রতি আপনাদের কী পরামর্শ থাকে?

প্রত্যেকটা জিনিসের একটা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক থাকে৷ এই সোস্যাল মিডিয়া মানুষ যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার শুরু করেছিল এখন অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সেটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমরা কখনই বলি না যে এগুলো ব্যবহার করা যাবে না৷ তবে ব্যবহারের একটা লিমিট আছে৷ সেটা মেনে চলতে হবে৷ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে৷ নির্দিষ্ট সময় থাকবে৷ যাতে তার মধ্যে আসক্তি তৈরি না হয়৷ এটাই আমাদের পরামর্শ৷

এই যে লিমিটের কথা আপনি বলছেন৷ সেটা নিয়ে কি কোনো গবেষণা আছে যে, দিনে কত ঘণ্টা ব্যবহার করলে চোখ বা মস্তিষ্ক ভালো থাকবে?

এই ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই৷ তবে যাঁরা কম্পিউটারে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন আছে৷ যেমন একটানা ৩০ মিনিটের বেশি কাজ করা যাবে না৷ একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ একটা অ্যাঙ্গেল থেকে ব্যবহার করতে হবে৷ এখন নির্ভর করছে কোন বয়সে ব্যবহার করছে৷ একজন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর৷ আসলে বিষয়টা হলো, এটা তার প্রয়োজন কিনা৷ আজকাল তো অনেকে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে৷ ইন্টারনেট দিয়ে অনেকে উপার্জনও করছেন৷ আমাদের মতে, যার যতটা প্রয়োজন ততটা ব্যবহার করতে হবে৷

ব্যাটারির চার্জ ফুরালেই আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কিছু মানুষের মধ্যে স্মার্টফোনের আসক্তির এমন তীব্রতা লক্ষ্য করেছেন যা রীতিমতো বিস্ময়কর৷ তাঁরা দেখেছেন, কিছু লোক মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, যেন মোবাইল বন্ধ হয়ে গেলে জীবনই অচল৷ এমন হলে বুঝতে হবে আপনিও নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বা অচিরেই হবেন৷

ইন্টারনেট-নির্ভরতা

কিছু লোক ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে নারাজ৷ স্মার্টফোনের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জানলেই ওয়াই-ফাই জোন-এ যাওয়ার জন্য তাঁরা হা-হুতাশ শুরু করেন৷ এমন সবারও মোবাইল আসক্তি বাড়তে বাড়তে ‘নোমোফোবিয়া’-র সীমা ছুঁয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়৷

ইন্টারনেট থাকতেই হবে?

কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে সবার আগে কী কী জানতে চান? ‘‘ওখানে ইন্টারনেট আছে?-’’এই প্রশ্ন করেন? যদি মনে হয়, যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই সেখানে বেড়াতে যাওয়া একদম উচিত নয়, তাহলে ‘নোমোফোবিয়া’ আপনাকেও গ্রাস করছে৷

‘স্ট্যাটাস’ না দিতে পারলে হতাশ

ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে প্রতিদিন ‘স্ট্যাটাস’ না লিখলেও অনেকের একদমই চলে না৷ মনে হয়, খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করা হয়নি৷ এমন হওয়াটাও খারাপ কথা, তখন বুঝতে হবে ‘নোমোফোবিয়া’ আপনাকেও পেয়েছে৷

আরেক ‘সর্বনাশ’

ধরুন, ফোন করতে পারছেন না, এসএমএস-ও না, ফোন বা এসএমএস আসছেনওনা আপনার কাছে৷ কী হয় তখন? স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও খুব অসহায় লাগে? তাহলে আপনাকে নিয়েও চিন্তা আছে৷

রিচার্জ করাতে পারেননি....

প্রি-পেইড সিম ব্যবহার করেন এমন অনেকে ফোনের ‘ক্রেডিট’ শেষ হলে, অর্থাৎ ফোন বা এসএমএস করার উপায় না থাকলেই মহাদুশ্চিন্তায় পড়ে যান৷ তখন মনে রাখতে হবে, মোবাইল ফোন ছাড়া এক সময় পৃথিবীর সবারই জীবন চলতো, এ যুগেও কয়েক ঘণ্টা বা কয়েকটা দিন নিশ্চয়ই চলবে৷

ঘুমের সময় অন্তত অন্য কিছু ভাবুন.....

স্মার্টফোনে মানুষ এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে যে কারো কারো রাতে মোবাইল ফোনে একটা হাত না রাখলে ঠিকমতো ঘুমই হয় না৷ নোমোফোবিয়া-র চূড়ান্ত লক্ষণ এটা৷ সুতরাং এই অভ্যাস ছাড়ুন৷

আপনাদের কাছে সাধারণত কেমন বয়সের রোগী আসেন?

আমাদের কাছে যারা আসে তাদের রোগী বলব না, তারা পরামর্শ নিতে আসে৷ এদের মধ্যে ক্লাস সেভেন থেকে শুরু করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছে৷ সন্তানদের মধ্যে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, তারা তো আর বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে না৷ বেশি যারা আসে তাদের বয়স ২০ বছরের মধ্যে৷ বড়দের ক্ষেত্রে রিলেশনে সমস্যা হতে পারে৷ পারিবারিক সমস্যা হতে পারে৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকে উপার্জন করছেন৷ তারাও তো অনেক সময় এগুলো ব্যবহার করছেন৷ তাহলে তাদের ক্ষতির দিকটা কেমন?

এখানে এটা যে করছে সে কিন্তু অ্যাবিউজ করছে না৷ তার ক্ষতির দিকটাও আছে৷ তার শারীরিক ক্ষতি হতে পারে, চোখের সমস্যা হতে পারে৷ কিন্তু মানসিক ক্ষতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই৷ তবে তারও কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে বৈজ্ঞানিক নিয়মকানুন আছে সেটা মেনে চলা উচিত৷ কেউ যদি কোনো জিনিস বেশিও ব্যবহার করে তবে সেটা যদি ‘প্রপার’ হয় তাহলে তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা কম৷

আপনাদের কাছে যারা পরামর্শ নিতে আসছে তাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির দিকটা কী?

বাবা-মা বিষয়টা বুঝতে পারেন যখন তাঁদের সন্তানদের অ্যাকাডেমিক দিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এখন পারিবারিক বন্ধনটা দুর্বল হয়ে গেছে৷ বাবা-মা সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করেন না৷ স্কুল-কলেজ থেকে সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা শুরু করলে বা রেজাল্ট ভালো হচ্ছে না – এমন পরিস্থিতি হলে বাবা-মা নোটিশ করছেন৷ তখন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছেলে সারাদিনই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত আছে৷ এই ধরনের সম্পর্ক রিলেটেড সমস্যা নিয়েই অভিভাবকরা বেশি আসেন৷

যারা সমস্যা নিয়ে আসছে, তাদের সমস্যায় পড়ার কারণ কী বলে?

পয়েন্ট যত কম তত ভালো

একজন ধূমপায়ী ধূমপানে কতটা আসক্ত তা ঠিকমতো খুঁজে বের করতে এই পরীক্ষাটি তৈরি করেছেন সুইডিশ ডাক্তার কার্ল ওলাফ ফাগেরস্ট্র্যোম৷ প্রথম প্রশ্ন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার কতক্ষণ পর প্রথম সিগারেটটি ধরান? পাঁচ মিনিটের মধ্যে হলে আপনার জন্য ৩ পয়েন্ট, ৬ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে হলে ২ পয়েন্ট৷ আর এক ঘণ্টার ভেতর হলে ১ পয়েন্ট৷ যে এক ঘণ্টার পর প্রথম সিগারেট ধরাবেন, তার জন্য ০ পয়েন্ট৷ পয়েন্ট যত কম স্বাস্হ্যের জন্য তত ভালো৷

ধূমপান নিষেধ

যেসব জায়গায় ধূমপান নিষিদ্ধ, অর্থাৎ সিনেমা হল, রেস্তোরাঁ, প্লেন, ট্রেন – এ সব জায়গায় ধূমপান না করতে পেরে কি আপনি অসুবিধা বোধ করেন? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে পয়েন্ট ১ আর ‘না’ হলে ০৷

পছন্দের সময়

ঠিক কোন সময়ের সিগারেটটি আপনি কিছুতেই বাদ দিতে চান না বা না খেয়ে থাকতে পারবেন না? সকালে ঘুম থেকে উঠে না খেয়ে না থাকতে পারলে ১ পয়েন্ট, আর অন্য সময়ের জন্য ০ পয়েন্ট৷

মোট সিগারেটের সংখ্যা

আপনি দিনে মোট কতবার ধূমপান করেন? ৩০টির বেশি সিগারেট হলে পয়েন্ট পাবেন ৩ আর ২১ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে পয়েন্ট ২৷ ১১ থেকে ২০ বার ধূমপান করলে পয়েন্ট ১ আর ১০টি সিগারেটের কম হলে পয়েন্ট ০৷

কখন বেশি খান?

সকালের দিকে বেশি সিগারেট খান? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে পয়েন্ট ১ আর ‘না’ হলে পাবেন পয়েন্ট ০৷ আপনি যখন অসুস্থ অথবা অন্য কোনো কারণে যখন আপনাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়, তখনও কি ধূমপান করেন? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে পয়েন্ট ১ আর ‘না’ হলে পয়েন্ট ০৷

যোগফল কত?

এবার পয়েন্টগুলো যোগ করে ফেলুন৷ উত্তর যদি ২ পর্যন্ত হয়, তাহলে আপনি ধূমপানে আসক্ত নন৷ আর ৩ থেকে ৪ হলে কিছুটা আসক্ত৷ পয়েন্টের সংখ্যা ৫ হলে মাঝামাঝি৷ ৬ থেকে ৭ হলে বেশ আসক্ত৷ আর উত্তর বা পয়েন্ট যদি হয় ৮ থেকে ১০, তাহলে আপনি ধূমপানে খুবই আসক্ত৷ যাই হোক না কেন, আপনি সাবধান বা সচেতন না হলে কিন্তু ধূমপানের মাত্রা বেড়ে যাবে, যার ফল হতে পারে ভয়ংকর৷

ক্যানসারের ঝুঁকি

আপনার পয়েন্ট যখন ৬ থেকে ১০, তখন এর অর্থ হলো নিজের ওপর আর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই৷ তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিন৷ তা না হলে ধূমপান থেকে বিরত হওয়া হয়ত সম্ভব নয়৷ কারণ ক্যানসার রোগীদের প্রতি পাঁচজনের একজনই ধূমপায়ী৷ তামাকের বিষাক্ত ধোঁয়া ফুসফুসের ক্যানসার ছাড়াও অন্যান্য ক্যানসারও ছড়ায়৷

বাবা হতে চান?

ধূমপান শুধু ক্যানসার বা হৃদরোগের ঝুঁকি নয়, জার্মানির সারলান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, তামাকের ধোঁয়া পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে৷ অর্থাৎ যে পুরুষ সন্তানের বাবা হতে চান, তাঁর ধূমপান করা একেবারেই উচিত নয়৷

আগে যেমন পারিবারিক বন্ধন ছিল৷ বাবা-মা, ভাই-বোনের মধ্যে একটা সু-সম্পর্ক ছিল, এখন সেটা অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে৷ এখন আর পারিবারিক বন্ধন নেই, যে যার মতো হয়ে গেছে৷ যে ছেলেটা সারাদিন ফেসবুক ব্যবহার করছে, সে আসলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সময় কাটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে৷ পরিবারের সঙ্গে বন্ধন কমে যাওয়ার কারণে এই ধরনের মাধ্যমে তার যোগাযোগটা বেড়ে যাচ্ছে৷

অভিভাবকদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

স্বাধীনতা সবারই দরকার৷ কিন্তু আমরা যারা বাবা-মা আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে৷ যখন কোনো সমস্যা হচ্ছে তখন আমরা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি৷ একটা বাচ্চা যে কীভাবে বড় হচ্ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কীভাবে বড় হওয়া উচিত এই জায়গাগুলোতে ছোটবেলা থেকেই মনোযোগ দিতে হবে৷ একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর চাইলেও অনেক কিছু হয় না৷ কারণ যে বাবা-মা আপনাকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অভ্যস্ত করছেন, তিনি কিন্তু আপনার লিমিট ঠিক করে দিচ্ছেন না৷ এই জায়গায় প্রথম থেকেই বাবা-মাকে সতর্ক হতে হবে৷ প্রযুক্তি ব্যবহারে খুব বেশি বাড়াবাড়ি হওয়া উচিত না৷ এটা বাবা-মাকে বুঝতে হবে৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চান? তাহলে নীচে মন্তব্যের ঘরে লিখতে পারেন...

সংশ্লিষ্ট বিষয়