সিরিয়ার উপর মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

শুক্রবার ভোররাতে মার্কিন রণতরি থেকে সিরিয়ার এক বিমানঘাঁটির উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো৷

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি মত পরিবর্তন করতে প্রস্তুত৷ বিশেষ করে হামলায় শিশুদের ভয়াবহ পরিণিতির ছবি তাঁকে নাড়িয়ে দিয়েছিল৷ তারপর সামরিক পদক্ষেপ নিতে আর দেরি করেননি তিনি৷ তিনি জানিয়েছেন, সিরিয়ার যে সামরিক ঘাঁটি থেকে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে সিরিয়া তার অঙ্গীকার পূরণ করেনি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ডাকেও সাড়া দেয়নি৷ ফলে অ্যামেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই হামলা চালানো হলো৷

শুক্রবার ভোরে ভূমধ্যসাগরের পূর্বাংশে মার্কিন রণতরি থেকে সিরিয়ার হোমস এলাকায় শায়রাত বিমানঘাঁটির উপর ৫০টিরও বেশি টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷ সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় কমপক্ষে ৪ জন সিরীয় সামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে৷ বিমানঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও দাবি করেছেন এই সংগঠনের প্রধান রামি আবদেল রহমান৷ তবে এই হামলার ঝুঁকি নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে৷

তবে সিরিয়ার প্রশ্নে ট্রাম্প বার বার পূর্বসূরি বারাক ওবামার নীতির সমালোচনা করে চলায় তাঁর নিজের অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে৷ কারণ, অতীতে ট্রাম্প নিজে প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ না করার ডাক দিয়ে এসেছেন৷

রাসায়নিক হামলা সম্পর্কে সন্দেহ না থাকলেও সেই হামলা কে চালিয়েছিল, তা নিয়ে সংশয়এখনো দূর হয়নি৷ জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার মতে, সরকারবিরোধী বাহিনী এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে৷

বলা বাহুল্য, এমন আচমকা সামরিক হামলার পর দেশে-বিদেশে নানা প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে একাই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি জগতে বিতর্কের আভাস পাওয়া যাচ্ছে৷

আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে৷ সিরিয়ায় সক্রিয় রুশ সৈন্যদের প্রাণহানি এড়াতে হামলার আগে রাশিয়াকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছিল৷ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন এই হামলার সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং এই ঘটনা রুশ-মার্কিন সম্পর্কে আঘাত হানবে৷

অন্যদিকে সিরিয়া এই একক পদক্ষেপের নিন্দা করে বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে৷

মেয়ের ক্যানভাসে যুদ্ধের বিভীষিকা

বাড়িটা যেমন ছিল

সিরিয়ার এক শরণার্থী মেয়ে কলম আর কাগজ বেছে নিয়েছে তার জীবনের গল্প বলতে৷ এই ছবির ক্যাপশনে সে লিখেছে, ‘‘এটা সিরিয়া, মৃত্যু দূত৷ সিরিয়ার রক্ত ঝড়ছে৷’’ মেয়েটির আঁকা ছবিতে দেখা যাচ্ছে ট্যাঙ্ক থেকে একটি শহরের দিকে গোলা ছোড়া হচ্ছে৷ একইসঙ্গে আকাশ পথে চলছে হামলা৷ ফলে বাড়িগুলো আগুনে পুড়ে যাচ্ছে আর একটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে একজন তা দেখছে৷

মেয়ের ক্যানভাসে যুদ্ধের বিভীষিকা

মৃত্যু এবং হতাশা

‘‘এটা আমার বাবা, মা এবং পরিবারের - এবং সিরিয়ার সকল পরিবারের কবর,’’ মেয়েটা লিখেছে৷ তার কথায়, ‘‘সিরিয়ার শিশুদের অবস্থা এমন৷’’ তার হাতে থাকা ছবিটিতে তিনটি কবর এবং শুয়ে থাকা কয়েকজনকে দেখা যাচ্ছে৷

মেয়ের ক্যানভাসে যুদ্ধের বিভীষিকা

শিশুরা মারা যাচ্ছে

এখানে এজিয়ান সাগরে ডুবে প্রাণ হারানো আয়লান কুর্দির মরদেহ আঁকার চেষ্টা করেছে মেয়েটি৷ তার মৃত্যু গোটা ইউরোপকে নাড়িয়ে দিয়েছিল৷ সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের কারণে শিশুদের চরম দুর্দশা ফুটে উঠেছিল কুর্দির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে৷

মেয়ের ক্যানভাসে যুদ্ধের বিভীষিকা

‘এটা সিরিয়ার মানুষের আসল ট্রাজেডি’

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রে ডুবে মারা গেছে৷ অনেক শিশু হারিয়েছে তাদের অভিভাবক৷ অবৈধ পথে সিরিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা খুবই বিপজ্জনক৷

মেয়ের ক্যানভাসে যুদ্ধের বিভীষিকা

থমকে যাওয়া জীবন

গ্রিসের ইডোমেনি শরণার্থী শিবিরে কিছু শিশু ছিল যারা তাদের অভিভাবকের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আশায় ছিল৷ তাদের বাবা-মা সীমান্ত বন্ধ হওয়ার আগেই ইউরোপে প্রবেশে সক্ষম হয়েছিল৷ কিন্তু বাকিদের আশা ধীরে ধীরে ক্ষীন থেকে ক্ষীনতর হচ্ছে৷ ছবির ক্যাপশন, ‘‘শিশুদের সব আশা, স্বপ্ন এখন ময়লার বাক্সের মধ্যে আছে৷’’

মেয়ের ক্যানভাসে যুদ্ধের বিভীষিকা

হারানো স্বপ্ন

‘‘শিশুদের ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন হারিয়ে গেছে-’’ লিখেছে মেয়েটি৷ তার কথায়, শরণার্থী শিবিরে থাকা অনেক শিশু ইউরোপে শান্তিতে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল৷ কিন্তু তারা বুঝতে পেরেছে, সেই স্বপ্ন শীঘ্রই বাস্তব হওয়ার আশা নেই৷

মেয়ের ক্যানভাসে যুদ্ধের বিভীষিকা

‘তাদের বুঝতে হবে যে তারা শিশু’

দশ বছর বয়সি এই শিশুটির মতো আরো অনেক শিশু ইডোমেনি ক্যাম্পে রয়েছে৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করে, শরণার্থী শিবিরে শিশুদের দিকে আলাদাভাবে খেয়াল রাখা হচ্ছে না৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)

আমাদের অনুসরণ করুন