সুইডিশ রান্নার কারিকুরি

সুইডেনের রান্না খেয়েছেন কখনো? ‘‘প্রভিয়ান্ট'' রেস্তোরাঁর শেফ ফ্রেড্রিক আন্ডার লাল বিট আর ওলন্দাজ সস দিয়ে পাইক মাছের পিঠে রাঁধেন৷ রান্নার পদ্ধতি ফ্রেড্রিকের কাছেই শিখতে পাবেন৷

বাড়ির রান্নায় রেস্তোরাঁর স্বাদ এনে ফেলা, সেটাই হল ফ্রেড্রিক আন্ডার-এর বিশেষত্ব৷ তিনি হলেন রেস্তোরাঁর রন্ধনশিল্পী, পেশাদারি ভাষায় যাকে বলা হয় কিনা ‘শেফ'৷ ফ্রেড্রিক তাঁর রান্নায় নানা ধরনের হার্বস বা জড়িবুটি ব্যবহার করে থাকেন৷

অন্বেষণ | 02.05.2014

তাঁর ‘‘প্রভিয়ান্ট'' রেস্তোরাঁয় শুধু টাটকা জিনিস ব্যবহার করা হয়, যার অধিকাংশ এসে পৌঁছায় ভোরবেলা৷ ফ্রেড্রিক বলেন: ‘‘জড়িবুটি দেওয়া টাটকা স্যালাডের মতো আর কিছু নেই৷ সব কিছু সদ্য মাঠ থেকে, গাছ থেকে তোলা হয়েছে কিনা, তা অনুভব করা যায়৷ যেন সূর্যের স্বাদ পাওয়া যায়, সবুজ প্রকৃতির স্বাদ পাওয়া যায়৷''

রান্না শেখার কয়েকটি বাংলা ওয়েবসাইট

পত্রপত্রিকার রেসিপি

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খাবারের রেসিপিগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে এই ব্লগে (http://bengalirecipes4u.wordpress.com/)৷ সঙ্গে পাওয়া যাবে কিছু ভিডিও ক্লিপও৷

রান্না শেখার কয়েকটি বাংলা ওয়েবসাইট

দেশি-বিদেশি রেসিপির সমাহার

বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান সহ অন্যান্য বিদেশি খাবারের রেসিপি পেতে যেতে পারেন এই ব্লগে (http://www.ebanglarecipe.com/)৷ রেসিপির পাশাপাশি পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য, খাদ্য সংরক্ষণের উপায় এবং রান্না বিষয়ক নানা পরামর্শ পাওয়া যাবে সেখানে৷

রান্না শেখার কয়েকটি বাংলা ওয়েবসাইট

ফেসবুকে ‘রান্না-বান্না’

মজাদার সব খাবারের রেসিপি পেতে ফেসবুকে আপনি ‘রান্না-বান্না’ পেজটি লাইক করে রাখতে পারেন৷ লিংক: https://www.facebook.com/Rannabanna

রান্না শেখার কয়েকটি বাংলা ওয়েবসাইট

একজন গৃহিনীর রান্নার ব্লগ

রুমানা আজাদ তাঁর রান্নার ব্লগে (http://rumana.net.bd) লিখেছেন, ‘‘আমি ভেবেছি এমন কিছু করার যেটা সাধারণ মানুষের কাজে লাগে৷ একজন আলুভর্তা করবে কিন্তু স্টেপগুলি সঠিকভাবে জানে না, আমি তাকে সেটা হাতে কলমে শেখাতে চাই৷ এমন হতে পারে একটা মেয়ে বা ছেলে নুডুলস রান্না করবে, কিন্তু সাহস করে করতে পারছে না, আমি তাদের সাধারণভাবে নুডুলস রান্না শেখাতে চাই৷’’

রান্না শেখার কয়েকটি বাংলা ওয়েবসাইট

ভূলু’স রেসিপি

নিজের ওয়েবসাইট (http://www.vulusrecipe.com/) সম্পর্কে ভূলু লিখেছেন, ‘‘আমার এই ব্লগের রেসিপিগুলোয় বাংলাদেশি রান্না আর স্বাদের আসল রূপ দেখতে পাবেন৷ সেই সাথে থাকবে আঞ্চলিক রান্নার রেসিপি – যেগুলো বাংলাদেশের রান্না-বান্নার অনন্য স্বাদে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা৷’’

রান্না শেখার কয়েকটি বাংলা ওয়েবসাইট

প্রবাসী রওনকের ব্লগ

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রওনক জাহান তাঁর ব্লগে (www.banglarecipes.com.au) বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রান্নার রেসিপি দিয়েছেন৷ সাধারণ রান্নার পাশাপাশি ঈদ ও ইফতারের বিশেষ খাবার-দাবারের রেসিপি পাওয়া যাবে সেখানে৷

রান্না শেখার কয়েকটি বাংলা ওয়েবসাইট

দিবা’স রেসিপি

চকলেট, রসমালাই থেকে শুরু করে ঘি, ভর্তা, বিরিয়ানি, রোস্ট – এমন সব মুখরোচক রান্নার উপায় জানতে যেতে পারেন ইউটিউবের এই চ্যানেলে৷ ঠিকানা: http://www.youtube.com/user/deebasrecipe

ফ্রেড্রিক আন্ডার তাঁর স্যালাড, জড়িবুটি, শাকসবজি নেন অটো নভো কোম্পানির কাছ থেকে: স্থানটি স্টকহোম থেকে গাড়িতে ৪৫ মিনিট৷ এখানকার গ্রিনহাউসে সারা বছরই সবজি গজায়, গজায় জড়িবুটি, যেমন সাত ধরনের বেসিল, অর্থাৎ তুলসিপাতা, যা কিনা ইউরোপে ধনেপাতার মতোই রোজকার রান্নায় ব্যবহার করা হয়৷

পাইক মাছের পিঠে

লাল বিটের তরকারির সাথে পাইক মাছের পিঠে – সুইডেনের এই প্রথাগত রান্নাটির একটি সম্মার্জিত সংস্করণ বের করেছেন ফ্রেড্রিক: ‘‘ডাম্পলিং অর্থাৎ পিঠে তৈরির জন্য আমরা পাইক মাছ ব্যবহার করি৷ একটু নুন, কিছুটা ফেটানো ক্রিম, আর কয়েকটা ডিম৷ পিঠেগুলোর সাথে আমরা লাল বিট পরিবেশন করি: টাটকা লাল বিটগুলোকে একটু জিরে, চিনি আর নুন দিয়ে সেদ্ধ করে নিই৷''

ফ্রেড্রিক আন্ডার ছ'শো গ্রাম পাইক মাছের সঙ্গে ৫০০ গ্রাম ক্রিম আর একটু নুন মিশিয়ে পুরোটা ফেটিয়ে ঘন করে ফেলেন: ‘‘বেশি ফেটালে অথবা আস্তে আস্তে ফেটালে চলবে না, কেননা তাহলে পরে পিঠেগুলো ভেঙে যেতে পারে৷ বেশিক্ষণ মেশালে কিংবা বেশি গরম হলে মাছ আর ক্রিম আলাদা হয়ে যেতে পারে৷''

খুব সুস্বাদু খাবার

ডাম্পলিং-গুলো একটি চামচ দিয়ে গড়ে নিয়ে গরম জলে ছাড়তে হয়: ‘‘তিন মিনিট ধরে সেদ্ধ করার পর ওগুলো উল্টে দিতে হয়, যাতে অন্য দিকটাও তিন মিনিট ধরে সেদ্ধ হয়৷''

লাল বিটগুলো একটু জিরে, নুন আর ভিনিগার দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হয়৷

কাঠি দিয়ে ফুটো করে দেখতে হয়, বিট সেদ্ধ হয়েছে কিনা৷ কাঠি থেকে বিট পড়ে যাওয়ার মানে বিট সেদ্ধ হয়েছে৷ তবে বিট ছাড়া অন্যান্য নানা ধরনের কন্দ ও আলুও খেয়ে থাকেন সুইডরা: ‘‘আমরা বিট ছাড়া অন্যান্য নানা ধরনের কন্দ জাতীয় সবজি খাই, সুইডেনে যার খুবই চল, কেননা এ ধরনের সবজি সারা বছরই গজায়৷ সেগুলোকে শীতের জন্য আবার ভাঁড়ারে জমিয়ে রাখা চলে, কেননা আমাদের দেশটা তো শীতের৷''

লাল বিট আর ওলন্দাজ সস দিয়ে পাইক মাছের পিঠে৷ ওপরে টাটকা জড়িবুটি ছড়ালে তা শুধু স্বাদই বাড়ায় না, দেখতেও ভালো লাগে৷

আরো প্রতিবেদন...

আমাদের অনুসরণ করুন