সোমবারই স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে কাটালুনিয়া

স্পেন ও কাটালুনিয়ার রাজ্য সরকারের মধ্যে সংলাপ বন্ধ থাকায় সংকট কাটছে না৷ এই অবস্থায় সোমবারই একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে কাটালুনিয়া রাজ্য বিধানসভা৷ মাদ্রিদ মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে৷

গণভোটের পর স্পেনের কাটালুনিয়া রাজ্য আগামী সোমবার একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে৷ এই অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সংকট মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছে৷  কিন্তু স্পেনের ফেডারেল সরকার এ নিয় কোনো রকম আপোশ করতে নারাজ৷ কাটালুনিয়ার মুখ্যমন্ত্রী কারলেস পুজেমন মধ্যস্থার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে স্পেনের সরকার৷ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখোই-এর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেআইনি কোনো বিষয় নিয়ে সরকার আলোচনা করবে না, ব্ল্যাকমেল বা হুমকির মুখেও নয়৷ একমাত্র আইনের কাঠামোর মধ্যেই গণতন্ত্রে আলোচনা হতে পারে৷ আলোচনা চাইলে পুজেমনকে আবার আইনের পথে ফিরতে হবে৷

স্পেনের সরকার, সাংবিধানিক আদালত ও রাজা ফেলিপে স্বাধীনতার লক্ষ্যে কাটালুনিয়ার ‘বেআইনি' একতরফা পদক্ষেপেরজোরালো বিরোধিতা করে চলেছেন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নও কাটালুনিয়াকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না৷ ইইউ স্পেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ৷ এমন একঘরে অবস্থা সত্ত্বেও স্বাধীনতাকামী শক্তি সোমবার কাটালুনিয়ার রাজ্য বিধানসভার পূর্ণ অধিবেশন ডেকেছে৷ সেখানে গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে বিতর্ক হবে৷ রাজ্য সরকারের এক প্রতিনিধি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, অধিবেশনের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করবে যে সেদিনই স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে কিনা৷

কাটালুনিয়া রাজ্য সত্যি একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে স্পেনের ফেডারেল সরকার তা মেনে নিতে অস্বীকার করে রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করতে পারে৷ উল্লেখ্য, স্পেনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এমন হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়নি৷ সে ক্ষেত্রে অবশ্য চরম প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে৷ গণভোটের দিন থেকেই কাটালুনিয়ায় বিক্ষোভ চলছে৷ বিশেষ করে ফেডারেল পুলিশ বাহিনীর কড়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বন্ধ হচ্ছে না৷

শুধু স্পেনের সংবিধান ও আইন অমান্য করার কারণে নয়, কাটালুনিয়ার গণভোটের বৈধতা নিয়ে অন্য কারণেও বিতর্ক রয়েছে৷ মাত্র ৪২ শতাংশ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জানানোর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচকরা৷ তাছাড়া এমন একতরফা স্বাধীনতার পরিণাম কাটালুনিয়ার জন্য আদৌ ইতিবাচক হবে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে৷

পরিবেশ

সমুদ্র বন্দর

১৯৯২ সালে অলিম্পিক গেমস উপলক্ষ্যে এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল৷ এর কারণে বন্দরটি অবশ্য লাভবানই হয়েছে৷ ঐ অলিম্পিকের পর থেকে এখানকার বার, রেস্তোরাঁগুলো পর্যটকের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে৷ ১৯৯২ সালের অলিম্পিকের জন্য বিশাল আকৃতির এই ‘স্বর্ণ মৎসটির’ নকশা করেছিলেন বিখ্যাত স্থপতি ফ্রাংক গেহরি৷

পরিবেশ

সমুদ্র সৈকত

নাগরিক জীবন থেকে ছুটি চান বা কয়েকটা দিন সৈকতে কাটাতে চান? এ দু’টোর দারুণ সংমিশ্রণ হলো বার্সেলোনা৷ শহরে থেকেও এক পা বাড়ালেই সমুদ্র, তাই নাগরিক জীবনের সাথে সামঞ্জস্য করা ভীষণ সুবিধা৷ বার্সেলোনাকে ঘিরে আছে সাতটি সমুদ্র সৈকত, যেখান থেকে আপনি ভূ-মধ্যসাগরে সূর্যস্নানের সুযোগ পাবেন৷

পরিবেশ

রাম্বলা

শহরের অদূরে যে সমুদ্র সৈকতটি, তার থেকে খুব কাছেই বার্সেলোনার ঐতিহাসিক এই কেন্দ্রস্থলটি৷ এর আয়তন এক কিলোমিটার৷ ফুটপাতের পাশে ক্যাফেগুলো ফ্রেশ হওয়ার জন্য যেন আপনাকে হাতছানি দিতে থাকে৷ শেরি ওয়াইন, তাপাস, মানে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাক্স’সহ নানারকম সুস্বাদু খাবার পাবেন এখানে৷

পরিবেশ

পুরোনো শহর

লা রাম্বলার উত্তরে বারি গোতিক, পুরোনো শহরের গথিক কোয়ার্টার৷ এখানকার বেশিরভাগ ঐতিহাসিক ভবন ১৪ বা ১৫ শতকে তৈরি৷

পরিবেশ

স্কয়ার

অনেক জায়গায় পুরোনো শহরের রাস্তাগুলো ছোট বা বড় স্কয়ার বা চত্বরে গিয়ে মিলেছে৷ প্লাকা রিয়াল সিটি সেন্টার রাতের পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা৷

পরিবেশ

সাগ্রাদা ফামেলিয়া

আধুনিক বার্সেলোনার গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করেছেন আন্তোনি গাউডি৷ তাঁর নকশায় বানানো সাগ্রাদা ফামেলিয়া চার্চ বার্সেলোনার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান৷ বিশ্বের বিখ্যাত ভবনগুলোর অন্যতম এটি৷

পরিবেশ

গাউডি-র বিশ্ব

আলো আর রঙের এমন অপূর্ব সংমিশ্রণ বিশ্বের আর কোনো চার্চের ভেতরে হয়ত দেখতে পাবেন না৷ গাউডি তাঁর স্থাপত্যে প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন৷ ছাদটা এমনভাবে নির্মিত যে, মনে হবে এর কলামগুলো গাছের মতো আকাশের দিকে মুখ করে আছে৷

পরিবেশ

ফুন্দাসিও জোয়ান মিরো

বার্সেলোনা এমন একটা শহর, যে শহর আপনাকে অনেক কাজে উৎসাহ দেবে৷ মন্টউইক পাহাড়ের উপর জাদুঘরটি জোয়ান মিরোর স্মরণে তৈরি৷ এই শিল্পীর কাজে কাতালান ফোক আর্টের বিষয় ও রং চোখে পড়ে৷ তাঁর তৈরি বর্নিল ভাস্কর্য এবং সেরামিকের কাজ বার্সেলোনা জুড়ে চোখে পড়বে৷

পরিবেশ

ফন্ত মাগিকা

বার্সেলোনার সবচেয়ে রোম্যান্টিক জায়গা ফন্ত মাগিকা৷ ১৯২৯ সালে নির্মিত এই ঝর্ণাটিতে আলোর ৫০ট রকমের বর্ণচ্ছটা আপনাকে অভিভূত করবে৷ শহরের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা এটি৷

পরিবেশ

তিবিদাবো

বার্সেলোনা দু’টো পাহাড় দিয়ে ঘেরা৷ এর একটি মন্টউইক (১৭৩ মিটার) আর অন্যটি তিবিদাবো (৫২০ মিটার)৷ তিবিদাবো থেকে আপনি শহরের বেশিরভাগ অংশটা দেখতে পাবেন৷ বার্সেলোনার একমাত্র ঐতিহাসিক ট্রামলাইন দ্য ট্রামভিয়া ব্লাও-এর সাহায্যে আপনি পাহাড়ের উপরে উঠতে পারবেন৷

এসবি/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ)