স্লোভাকিয়া মুসলমান উদ্বাস্তুদের নিতে চায় না

ইউরোপে উদ্বাস্তু সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করেছে৷ জার্মানিতে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক, প্রায় আট লাখ উদ্বাস্তু আসতে চলেছে৷ ওদিকে ফ্রান্স আর ব্রিটেন মিলে ইউরো-টানেলের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে৷ কিন্তু পূর্ব ইউরোপ?

খবরটা ছোট হলেও ঠিক ছোট নয়৷ কেননা স্লোভাকিয়ার এই মনোভাব শুধু একা স্লোভাকিয়ার নয়: ব্রাতিস্লাভার সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য রাজধানীকেও যোগ করতে হয়, যেমন ওয়ারশ ও প্রাগ, অথবা রিগা এবং ভিলনিয়াস৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি ইটালি ও গ্রিস থেকে উদ্বাস্তু নিতে রাজি হয়েছে; এমনকি সেই ৪০ হাজার উদ্বাস্তুকে কিভাবে ভাগবাঁটোয়ারা করা হবে, তা-ও মোটামুটি নির্দ্দিষ্ট করা হয়েছে৷ কিন্তু এবার আসছে একাধিক নতুন শর্ত৷

যেমন স্লোভাকিয়া সিরিয়া থেকে আগত মোট ২০০ উদ্বাস্তুকে নেবার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে৷ কিন্তু এবার ব্রাতিস্লাভা সরকার বলেছেন যে, স্লোভাকিয়া শুধুমাত্র খ্রিষ্টান উদ্বাস্তুদের নেবে৷ তার কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান মেতিক বলেছেন: ‘‘আমরা ৮০০ মুসলমানদের নিতে পারতাম, কিন্তু স্লোভাকিয়ায় একটিও মসজিদ নেই৷ এখানে ওদের ভালো লাগবে না৷'' অপরদিকে মেতিক-এর বক্তব্য হলো, স্লোভাকিয়া বস্তুত একটি ট্র্যানজিট দেশ, উদ্বাস্তুরা এখানে থাকতে চান না৷

ভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমি

এই যুক্তি ইতিপূর্বে – অর্থাৎ জুলাই মাসেই – পোল্যান্ডের তরফ থেকেও শোনা গেছে৷ পোল্যান্ড-ও মুসলমান কিংবা আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তু নিতে চায় না৷

প্রাণে বাঁচা

২০শে এপ্রিল, ২০১৫: একটি ছোট পালের নৌকা গ্রিসের রোডোস দ্বীপের কাছে চড়ায় আটকালে সীমান্তরক্ষী আর স্থানীয় মানুষেরা বেশ কিছু উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন৷ তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনায় তিনজন উদ্বাস্তু জলে ডুবে মারা যান৷

সীমান্তরক্ষীদের ডিঙিতে

১৩ই এপ্রিল, ২০১৫: উদ্বাস্তুরা কোস্ট গার্ডের ইনফ্ল্যাটেবল বোটে চড়ে সিসিলি-র একটি বন্দরে পৌঁছচ্ছে৷ সীমান্তরক্ষীরা লিবিয়ার উপকূলে একটি ডোবা নৌকা দেখতে পেয়ে ১৪৪ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন – এবং যুগপৎ ন’টি মৃতদেহকে সাগরের জলে ভাসতে দেখেন৷ আবহাওয়া ভালো থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে উদ্বাস্তুরা আরো বেশি সংখ্যায় আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷

বাহন

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

হাঁটাপথে

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তুরা ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের দিকে হেঁটে চলেছেন৷ আশা, এইভাবে ‘খিড়কির দরজা’ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ – যদিও সে প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়৷

ব্রিটেন যাওয়ার শেষ পন্থা

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৪: ফ্রান্সের ক্যালে বন্দর-শহরের কাছের হাইওয়েতে ব্রিটেনগামী লরিতে ওঠার সুযোগের অপেক্ষায় উদ্বাস্তুরা৷ সে আমলে ক্যালে-র পাঁচ-পাঁচটি বেআইনি ক্যাম্পে প্লাস্টিকের ঝুপড়িতে বাস করছিল তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু, শুধুমাত্র ইংল্যান্ড যাবার আশায়৷

‘সেভ আওয়ার সোলস’

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

যারা কোনো বাধা মানে না

১৭ই মে, ২০১৪: আফ্রিকান উদ্বাস্তুরা মরক্কোর উপকূলে স্পেনের এক্সক্লেভ মেলিলা-র চারপাশের উঁচু তারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছে৷ প্রায় ৫০০ মানুষ সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে জনা ত্রিশেক সফলও হয়, কিন্তু পরে তাদের আবার মরক্কোয় ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমান লিবিয়া থেকে আগত আফ্রিকান উদ্বাস্তুদের নেওয়ার বিরুদ্ধে একাধিকবার মতপ্রকাশ করছেন৷ গতমাসে তাঁর মুখপাত্র বলেন: ‘‘একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা উদ্বাস্তুদের পরিস্থিতি চেক প্রজাতন্ত্রে খুব সুখকর হবে না৷''

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

খবরটা ছোট হলেও ঠিক ছোট নয়৷ কেননা স্লোভাকিয়ার এই মনোভাব শুধু একা স্লোভাকিয়ার নয়: ব্রাতিস্লাভার সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য রাজধানীকেও যোগ করতে হয়, যেমন ওয়ারশ ও প্রাগ, অথবা রিগা এবং ভিলনিয়াস৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি ইটালি ও গ্রিস থেকে উদ্বাস্তু নিতে রাজি হয়েছে; এমনকি সেই ৪০ হাজার উদ্বাস্তুকে কিভাবে ভাগবাঁটোয়ারা করা হবে, তা-ও মোটামুটি নির্দ্দিষ্ট করা হয়েছে৷ কিন্তু এবার আসছে একাধিক নতুন শর্ত৷

যেমন স্লোভাকিয়া সিরিয়া থেকে আগত মোট ২০০ উদ্বাস্তুকে নেবার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে৷ কিন্তু এবার ব্রাতিস্লাভা সরকার বলেছেন যে, স্লোভাকিয়া শুধুমাত্র খ্রিষ্টান উদ্বাস্তুদের নেবে৷ তার কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান মেতিক বলেছেন: ‘‘আমরা ৮০০ মুসলমানদের নিতে পারতাম, কিন্তু স্লোভাকিয়ায় একটিও মসজিদ নেই৷ এখানে ওদের ভালো লাগবে না৷'' অপরদিকে মেতিক-এর বক্তব্য হলো, স্লোভাকিয়া বস্তুত একটি ট্র্যানজিট দেশ, উদ্বাস্তুরা এখানে থাকতে চান না৷

ভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমি

এই যুক্তি ইতিপূর্বে – অর্থাৎ জুলাই মাসেই – পোল্যান্ডের তরফ থেকেও শোনা গেছে৷ পোল্যান্ড-ও মুসলমান কিংবা আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তু নিতে চায় না৷

প্রাণে বাঁচা

২০শে এপ্রিল, ২০১৫: একটি ছোট পালের নৌকা গ্রিসের রোডোস দ্বীপের কাছে চড়ায় আটকালে সীমান্তরক্ষী আর স্থানীয় মানুষেরা বেশ কিছু উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন৷ তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনায় তিনজন উদ্বাস্তু জলে ডুবে মারা যান৷

সীমান্তরক্ষীদের ডিঙিতে

১৩ই এপ্রিল, ২০১৫: উদ্বাস্তুরা কোস্ট গার্ডের ইনফ্ল্যাটেবল বোটে চড়ে সিসিলি-র একটি বন্দরে পৌঁছচ্ছে৷ সীমান্তরক্ষীরা লিবিয়ার উপকূলে একটি ডোবা নৌকা দেখতে পেয়ে ১৪৪ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন – এবং যুগপৎ ন’টি মৃতদেহকে সাগরের জলে ভাসতে দেখেন৷ আবহাওয়া ভালো থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে উদ্বাস্তুরা আরো বেশি সংখ্যায় আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷

বাহন

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

হাঁটাপথে

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তুরা ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের দিকে হেঁটে চলেছেন৷ আশা, এইভাবে ‘খিড়কির দরজা’ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ – যদিও সে প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়৷

ব্রিটেন যাওয়ার শেষ পন্থা

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৪: ফ্রান্সের ক্যালে বন্দর-শহরের কাছের হাইওয়েতে ব্রিটেনগামী লরিতে ওঠার সুযোগের অপেক্ষায় উদ্বাস্তুরা৷ সে আমলে ক্যালে-র পাঁচ-পাঁচটি বেআইনি ক্যাম্পে প্লাস্টিকের ঝুপড়িতে বাস করছিল তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু, শুধুমাত্র ইংল্যান্ড যাবার আশায়৷

‘সেভ আওয়ার সোলস’

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

যারা কোনো বাধা মানে না

১৭ই মে, ২০১৪: আফ্রিকান উদ্বাস্তুরা মরক্কোর উপকূলে স্পেনের এক্সক্লেভ মেলিলা-র চারপাশের উঁচু তারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছে৷ প্রায় ৫০০ মানুষ সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে জনা ত্রিশেক সফলও হয়, কিন্তু পরে তাদের আবার মরক্কোয় ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমান লিবিয়া থেকে আগত আফ্রিকান উদ্বাস্তুদের নেওয়ার বিরুদ্ধে একাধিকবার মতপ্রকাশ করছেন৷ গতমাসে তাঁর মুখপাত্র বলেন: ‘‘একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা উদ্বাস্তুদের পরিস্থিতি চেক প্রজাতন্ত্রে খুব সুখকর হবে না৷''

পোল্যান্ডে গত জুলাই মাসের একটি জরিপে উত্তরদাতাদের ৭০ শতাংশ জানান যে, তারা মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আফ্রিকা থেকে উদ্বাস্তু নেওয়ার বিরুদ্ধে৷ লাটভিয়ায় একটি অনুরূপ জরিপে নাগরিকদের ৫৫ শতাংশ উদ্বাস্তুদের লাটভিয়ায় ঢুকতে দেওয়ার বিরুদ্ধে৷ ওদিকে ব্রাসেলস থেকে ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্রী বলেছেন যে, ইইউ-সদস্যদেশগুলিতে সব ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ৷ জাতিসংঘের উদ্বাস্তু ত্রাণ হাইকমিশনারের কার্যালয় ইইউ দেশগুলির প্রতি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব উদ্বাস্তু গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে৷

ব্রিটেনে যেতে আকুল

উদ্বাস্তুরা ইউরোপে আসছে পূর্ব ও দক্ষিণের পথ ধরে৷ উত্তর-পশ্চিমে আরেকটি সংকট দানা বেঁধেছে ফ্রান্সের ক্যালে বন্দরের কাছে, যেখানে প্রধানত আফ্রিকা থেকে আগত উদ্বাস্তুরা ইউরোটানেল হয়ে ব্রিটেনে যেতে আকুল৷ কাজেই এবার ব্রিটেন ও ফ্রান্স মিলে টানেলের প্রবেশপথের চারপাশে নিরাপত্তা আরো কড়া ও আধুনিক করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে: আরো উঁচু বেড়া, পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা, ফ্লাড লাইট, ইনফ্রারেড ডিটেকশন পদ্ধতি, এ সব বসানো হবে৷ সেই সঙ্গে মানুষপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হবে উভয় দেশের গুপ্তচর বিভাগ৷

চ্যালেঞ্জ, কিন্তু অসাধ্য নয়

জার্মানির সমস্যা হলো উদ্বাস্তুদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা – চলতি বছরে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা নাকি আট লক্ষে দাঁড়াতে পারে, বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের৷ এর আগের রেকর্ড ছিল চার লাখ চল্লিশ হাজার – সেটাও ১৯৯২ সালে, অর্থাৎ ২৩ বছর আগে৷ ‘‘এটা আমাদের সকলের পক্ষে একটা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু কোনো অসাধ্য কাজ নয়,'' বলেছেন ডেমেজিয়ের৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, এপি)