হজযাত্রা শুরু, জমজমের পানি সরবরাহ করবে বিমান

শুরু হয়েছে হজযাত্রা৷ এরই মধ্যে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইটটি পৌঁছেছে জেদ্দায়৷ চার শতাধিক হাজি নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি পৌঁছায়৷ জানা গেছে, এবারও জমজমের পানি বহনে কিছুটা কড়াকড়ি থাকছে৷

৪১৮ জন হজযাত্রীকে নিয়ে সোমবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে যাত্রা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১০১১৷ স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ১১টায় বিমানটি জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরের হজ টার্মিনালে পৌঁছায়৷ বিমানবন্দরে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের প্রথম দলটিকে স্বাগত জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ এবং দুই দেশের কয়েকজন কর্মকর্তা৷

এর আগে, বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান৷

এদিকে, গেল কয়েক বছর ধরেই বিমানে জমজমের পানি বহনে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে৷ বিমানে করে তাঁরা ১০০ মিলিলিটার পানি বহন করতে পারবেন৷ তবে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে এলে বিমানবন্দরে তাঁদের হাতে পাঁচ লিটার করে পানি তুলে দেয়া হবে৷

মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশি এ বছর হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন৷ এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ১০ হাজার এবং বেসরকারিভাবে এক লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন৷ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দু'টি প্যাকেজে যাচ্ছেন হাজীরা৷ একটি প্যাকেজে খরচ পড়ছে তিন লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা এবং অন্যটিতে তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা৷ আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সর্বনিম্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭ টাকা৷

Saudi-Arabien Hadsch Massenpanik in Mina

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবার হজযাত্রীদের জেদ্দায় শুধু পৌঁছে দিতে ১৭৭টি এবং ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে ১৬৯টি বিশেষ ফ্লাইট সুনির্দিষ্ট করে রেখেছে৷ এছাড়া আরো ৩০ থেকে ৩৩টি নিয়মিত ফ্লাইটেও যাত্রীদের আনা নেয়া করা হবে৷ এগুলোতে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত যাত্রীদের জেদ্দায় পৌঁছে দেয়া হবে৷ ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর৷ চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত৷ এছাড়া, সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনস পরিবহন করবে বাকি ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী৷

ইকনোমি ক্লাসের প্রত্যেক হজযাত্রী সর্বোচ্চ হাতব্যাগ বা কেবিন ব্যাগ ছাড়া সর্বোচ্চ দু'টি ব্যাগ বোর্ডিংয়ে দিতে পারবেন, যেখানে সর্বোচ্চ ৪৬ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসে সর্বোচ্চ ৫৬ কেজি মালামাল নিতে পারবেন৷ সঙ্গে নিতে পারবেন না কোন ধারালো বস্তু – যেমন ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব দাঁত খিলান, তাবিজ বা গ্যাস জাতীয় বস্তু –যেমন অ্যারোসল এবং ১০০ মিলি লিটারের বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না৷ তবে বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, যাত্রীরা ঢাকায় ফিরে এলে তাঁদের হাতে পাঁচ লিটার করে জমজমের পানি তুলে দেয়া হবে৷ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছর ১ সেপ্টেম্বর হজ হতে পারে৷

ধর্মীয় অনুভূতি

হজ এমন এক অভিজ্ঞতা, যা ধরে রাখতে চান সকলে৷ বহু মুসলমানের কাছে হজ যাত্রা হলো তাঁদের ধর্মীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়৷ স্বাস্থ্যগত ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেক মুসলমানেরই জীবনে একবার হজ পালন করার কথা৷ হজ আয়োজনের সাংগঠনিক দায়িত্ব সৌদি আরবের উপর ন্যস্ত৷

কাবা পরিক্রমা

আরবি ভাষায় যার নাম তাওয়াফ আল ইফাদা৷ মুসল্লিরা কাবার চারপাশে সাতবার ঘোরেন, ঘড়ির কাঁটার উল্টোমুখ করে৷ পরে মুসল্লিরা মিনাতেই রাত্রি যাপন করেন৷

দুর্ঘটনা

বিশ লাখ মানুষের সমাবেশ যেখানে, সেখানে দুর্ঘটনা ঘটা অসম্ভব কিছু নয়৷ ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হজ শুরু হওয়ার স্বল্প আগে আবহাওয়ার দুর্যোগে একটি বড় ক্রেন ভেঙে পড়ায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান৷

মানুষের পায়ে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু

ক্রেন ভেঙে পড়ার মাত্র দু’সপ্তাহ পরে আবার ট্র্যাজেডি৷ তারিখটা ছিল ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫৷ মিনায় মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে অনেক মানুষ পদদলিত হয়ে মারা যান৷

ইরানিদের হজযাত্রা উপর নিষেধাজ্ঞা

মিনায় নিহতদের মধ্যে ৪৬৯ জনই ছিলেন ইরানের নাগরিক৷ দুর্ঘটনার পর ইরানিরা তেহরানে সৌদি আরবের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেন৷ ইরান সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ করেন৷ উভয় দেশের সম্পর্কে তিক্ততা ও উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়৷ এ বছর ইরানি নাগরিকদের হজ যাত্রা নিষিদ্ধ করেছে তেহরান৷

হজযাত্রীদের নিরাপত্তায় উচ্চ প্রযুক্তি

পর পর দু’টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর সৌদি আরব নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে৷ হজযাত্রীদের জন্য ইলেকট্রনিক আর্মব্যান্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য জমা থাকে৷ ওই আর্মব্যান্ড মুসল্লিকে নামাজের সময়ও জানিয়ে দেয়৷

আরাফাতের ময়দানে

হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আরাফতের ময়দানে যাত্রা৷ এর পরের দিনই আসে ঈদ উল আজহা, যা সারা বিশ্বেই উদযাপিত হয়৷