হিজাব পরা তিন মুসলিম কিশোরীর হেভি মেটাল ব্যান্ড

ব্যান্ডের নাম ভিওবি বা ভয়েস অফ বাচেপ্রট অথবা ‘নয়েজি ভয়েস'৷ মাথায় হিজাব পরে স্টেজে উঠে নেচে-গেয়ে-বাজিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এই টিনেজাররা মুসলিম মহিলাদের প্রথাগত বাধ্য ও নির্বিবাদী ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জ করতে চায়৷

১৫-১৬ বয়সের এই তিনটি মেয়ে গিটার ও ড্রামস বাজিয়ে মেটালিকা ও স্লিপনট-এর মতো নামকরা পশ্চিমি হেভি মেটাল ব্যান্ডগুলির গান গেয়ে থাকে৷ আবার শিক্ষা ইত্যাদি সামাজিক বিষয় নিয়ে তাদের নিজেদের লেখা গানও আছে – বাহাসা ইন্দোনেশিয়া বা ইন্দোনেশীয় ভাষায়৷

পশ্চিম জাভার গারুট শহরের একটি স্কুলে ওদের পরিচয়৷ ব্যান্ডটি তৈরি হয় ২০১৪ সালে৷ ১৬ বছরের ফির্দা কুর্নিয়া বলে, হিজাব পরে বলেই যে তারা হেভি মেটাল ‘স্টার' হতে পারবে না, এমন কোনো কথা নেই৷ ফির্দা নিজে গিটার বাজায় ও গান গায়৷ ভিডি রহমাওয়াতি বাজায় বেস গিটার, এছাড়া কণ্ঠ দেয়৷ আর আছে ইউয়িস সিতি, যে ড্রামস বাজায়৷

ওরা যে কিশোর-কিশোরী ও যুবজনতার কাছে খুবই জনপ্রিয়, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই; ওদের কনসার্টের ভিডিও দেখলেই তা বোঝা যায়৷ তবে ইন্দোনেশিয়ার মতো একটি মুসলিম প্রধান দেশে – দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ যেখানে মুসলিম – সেখানে ভিওবি যা করছে, তা যে সর্বত্র সমর্থন পাবে, এমন ভাবাটা বোধহয় ভুল হবে৷

তবে ওদের বয়স কম, উৎসাহ অসীম এবং ওরা রেড হট চিলি পেপার্স, এমিনেম, লিনকিন পার্ক ইত্যাদির আদর্শে উদ্বুদ্ধ৷ হিজাব পরিহিত এই কিশোরীদের হাতে গিটার ও কণ্ঠে পশ্চিমি হেভি মেটাল মিউজিকের হিট গান শুনলে বোঝা যায় – বিশ্বায়নের একটা নতুন সংজ্ঞা আবিষ্কৃত নয়, সৃষ্টি হতে চলেছে৷

সমাজ

নিঃশব্দ প্রতিবাদ

ইরানের বেশিরভাগ পুরুষ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের হিজাব পরা ছবি শেয়ার করেছেন, যা এই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জগতের সর্বত্র৷ ‘মাই স্টিলথি ফ্রিডম’ নামে এই প্রচারণার অংশ হিসেবে তারা এটা করছেন৷

সমাজ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল

নারী অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেরা মাথা ঢেকে নারীদের সঙ্গে ছবি তুলে তা পোস্ট করছেন ফেসবুক-টুইটারে৷ এভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন পুরো দেশে৷ তাঁরা বলছেন, হিজাব নারী স্বাধীনতার লঙ্ঘনের প্রতীক৷

সমাজ

হিজাববিরোধী আন্দোলনের উদ্যোক্তা

এই প্রচারণা শুরু হয় সাংবাদিক ও নারী আন্দোলন কর্মী মসিহ আলিনেজাদের উদ্যোগে৷ তিনি ইরানের পুরুষদের হিজাব পরার এই বাধ্যতামূলক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেন৷

সমাজ

নিউ ইয়র্ক থেকে আন্দোলন

পুরুষদের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাসরত আলিনেজাদ বলেছেন, পুরুষদের নিজেদের হিজাব পরে দেখা উচিত তাদের কেমন লাগে৷

সমাজ

মাথা না ঢাকলে শাস্তি

ইরানে নারীদের মাথা ঢাকার বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়৷ বিশেষ করে সেখানকার নৈতিক পুলিশ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখে৷ হিজাব না পরলে বা মাথায় কাপড় না দিলে জেল-জরিমানা হতে পারে৷

সমাজ

নারী স্বাধীনতার লঙ্ঘন

সম্প্রতি ইরানের নারীরা এই কঠোর নিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক লেখালেখি করছেন৷ তাদের দাবি, এটা নারী স্বাধীনতার লঙ্ঘন৷ তাদের স্বাধীনতা যেন ফিরিয়ে দেয়া হয়৷

সমাজ

‘মেন ইন হিজাব’

২০১৪ সালে আলিনেজাদ ফেসবুকে একটি পাতা বানিয়েছিলেন যার নাম ‘মেন ইন হিজাব’৷ সেই থেকে ফেসবুক ও টুইটারে ইরানি পুরুষেরা মাথায় হিজাব পরে ছবি তুলে পোস্ট করতে থাকেন৷

সমাজ

সমালোচনা

পুরুষের হিজাব পরা বা না পরাটা কোনো বিষয় নয়, যদিও এটাকে সমাজ ভালো চোখে দেখে না৷ ইরানেও পুরুষের এ ধরনের কাজের সমালোচনা করেছেন আইন প্রণেতারা৷

সমাজ

মডেলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সম্প্রতি ইরানের সরকার ইন্টারনেটে ইসলামবিরোধী পোস্টের জন্য দেশের কয়েকজন নামি-দামি মডেলের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিয়েছে৷ এই মডেলরা ইন্টারনেটে এমন কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যেগুলোতে তাদের মাথায় কাপড় ছিল না৷

এসি/ডিজি