২০১৫ সালে ১১০ জন সাংবাদিক নিহত

চলতি বছরে সারা বিশ্বে মোট ১১০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, বলে জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বা আরএসএফ৷ তাদের মধ্যে অনেকে যুদ্ধপীড়িত এলাকায় মারা গেলেও, অধিকাংশ প্রাণ হারিয়েছেন তথাকথিত ‘শান্তির' এলাকায়৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

গত বছর ৬৭ জন সাংবাদিক কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন৷ এক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ ছিল ইরাক ও সিরিয়া, যেখানে যথাক্রমে ১১ জন ও ১০ জন সাংবাদিক মারা গেছেন৷ তার পরেই আসছে ফ্রান্স, প্যারিসের শার্লি এব্দো হত্যাকাণ্ডের কারণে৷

সারা বিশ্বে আরো ৪৩ জন সাংবাদিক মারা যান এমন পরিস্থিতিতে, যা সবসময় খুব স্পষ্ট নয়৷ এছাড়া ২৭ জন অপেশাজীবী ‘‘নাগরিক সাংবাদিক'' আর সাতজন অন্যান্য মিডিয়া কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, বলে আরএসএফ তাদের বাৎসরিক রিপোর্টে জানিয়েছে৷

প্রাথমিক খবর

জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন প্যারিসে হামলার প্রাথমিক খবর আসতে থাকে৷

মানুষের মনে ভয়

খবর পেয়ে প্যারিসের মানুষের মনে ভয় ও আতঙ্ক ছেয়ে যায়৷ কর্তৃপক্ষ মানুষকে বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দিয়েছিল৷

পণবন্দি নাটকের মঞ্চ

বাটাক্লঁ কনসার্ট হলে হেভি মেটাল সংগীত চলাকালীন সন্ত্রাসবাদীরা কিছু মানুষকে পণবন্দি করেছিল৷ রাত একটা নাগাদ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

বিহ্বল প্রেসিডেন্ট

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন৷ ফুটবল ম্যাচের বিরতির সময়ে তিনি স্টেডিয়াম ছেড়ে গিয়েছিলেন৷ তাঁকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়৷

স্টেডিয়ামে চাপা আতঙ্ক

ফ্রান্স ও জার্মানির জাতীয় দল এবং দর্শকরা কিন্তু স্টেডিয়াম ছেড়ে যাবার অনুমতি পাননি৷ সে সময়ে তাঁদের মনের অবস্থা কী ছিল, তা অনুমান করা যায়৷

হামলাকারীদের দশা

প্রায় সব আততায়ী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ একজন সীমান্ত পেরিয়ে বেলজিয়ামে প্রবেশ করেছে৷ পুলিশ সূত্র অনুযায়ী হামলাকারীদের মধ্যে কমপক্ষে দু’জন বেলজিয়ামে বসবাস করতো৷

আহতদের অবস্থা সংকটজনক

প্যারিসে একাধিক হামলায় আহত অনেক মানুষের অবস্থা সংকটজনক৷ ফলে নিহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

কড়া নিরাপত্তার বেড়াজাল

প্যারিসে হামলার পর আন্তর্জাতিক স্তরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ যেমন নিউ ইয়র্কে ফরাসি কনসুলেটের সামনে আরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷

গোটা বিশ্বে সংহতি

নিউ ইয়র্কে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’-এর অ্যান্টেনায় ফরাসি জাতীয় রং ফুটিয়ে তোলা হয়৷ নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো বলেন, ‘‘আমরা ফরাসি জাতির সঙ্গে সংহতির বন্ধনে আবদ্ধ৷’’

রিপোর্টার উইদাউট বর্ডার্স সাংবাদিক হত্যা ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ‘‘অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলির'' ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে, যাদের মধ্যে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস-ও আছে৷ আরএসএফ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, ২০১৪ সালে যে সব সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রাণ হারিয়েছিলেন যুদ্ধপীড়িত এলাকায়৷ ২০১৫ সালে সেই পরিসংখ্যান উলটে দাঁড়িয়েছে: সাংবাদিকদের দুই-তৃতীয়াংশ নিহত হয়েছেন এমন সব দেশে, যেখানে বাহ্যত শান্তি বিরাজ করছে৷

উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পোর মতো শহর সাংবাদিকদের পক্ষে বিশেষভাবে বিপজ্জনক৷ এখানে সাংবাদিকরা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাতের বেড়াজালে আটকে পড়ে ‘‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ'', অর্থাৎ পারিপার্শ্বিকের শিকার হচ্ছেন৷ ইসলামিক স্টেট, আল-নুসরা ফ্রন্ট বা ফ্রি সিরিয়ান আর্মির মতো ‘‘অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীরা'' সাংবাদিকদের পণবন্দি করছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে হত্যা করছে – আইএস যেভাবে জাপানি ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার কেনজি গোতোর শিরশ্ছেদ করে৷

ইরিট্রিয়া

‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচিতে’ শেষ অবস্থানে রয়েছে ইরিট্রিয়া৷ পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে স্বৈরতন্ত্রের কারণে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে৷ অনেক সাংবাদিককে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে৷ রেডিও ইরেনা একমাত্র গণমাধ্যম, যা ইরিট্রিয়ার নিরপেক্ষ সংবাদ প্রদান করে৷ তবে এটি প্রচারিত হয় প্যারিস থেকে৷

স্বৈরশাসকের স্বৈরশাসন

উত্তর কোরিয়াতেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই৷ পুরো বিশ্ব থেকে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন তরে রেখেছেন সে’দেশের স্বৈরশাসক কিম জং উন৷ তিনি যা চান, সেটাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়৷ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল ছাড়া তেমন কোনো গণমাধ্যম নেই৷ যে’সব ব্যক্তি তাঁদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করেন, তাঁদের রাজনৈতিক বন্দি শিবিরে রাখা হয় এবং এক সময় গুম করে ফেলা হয়৷ কখনো কখনো তাঁদের পরিবারের ওপরেও নেমে আসে বিপর্জয়৷

তুর্কমেনিস্তান

প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বেরডিমুহামেদভ প্রায় দেশের সবগুলো গণমাধ্যমের মালিক৷ সংবাদপত্র রিসগাল কেবল ভিন্ন৷ তবে এর প্রতিটি সংস্করণে রাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ছাড়পত্র মেলে৷ এছাড়া ইন্টারনেট এবং ওয়েবসাইটেও হস্তক্ষেপ করে সরকার৷

ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামেও কোনো স্বাধীন গণমাধ্যম নেই৷ ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি বলে দেয় সাংবাদিকরা কী লিখবেন৷ বেশিরভাগ প্রকাশক, সম্পাদক এবং সাংবাদিক ক্ষমতাসীন দলের সদস্য৷ সম্প্রতি কয়েকজন ব্লগার কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করলে তাঁদের জেলে পাঠানো হয়৷

চীন

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্স বলছে, ব্লগার এবং সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় কারগারটি রয়েছে চীনে৷ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেউ কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়৷ এছাড়া বিদেশি সাংবাদিকদের উপর উত্তোরত্তোর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে চীনে৷

সিরিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্স দেশটিকে গত কয়েক বছর ধরে মুক্ত গণমাধ্যমের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেছে৷ বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পর থেকে সিরিয়ায় অনেক সাংবাদিককে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে৷ হত্যা করা হয়েছে অনেকককে৷ অন্যদিকে আল-নুসরা ফ্রন্ট, যারা ইসলামিক স্টেট এবং আসাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তাদের হাতেও বিপন্ন হতে হচ্ছে সরকারি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের৷ এছাড়া সাংবাদিকদের অপহরণের ঘটনাও ঘটে চলেছে অহরহ৷

প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বেরডিমুহামেদভ প্রায় দেশের সবগুলো গণমাধ্যমের মালিক৷ সংবাদপত্র রিসগাল কেবল ভিন্ন৷ তবে এর প্রতিটি সংস্করণে রাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ছাড়পত্র মেলে৷ এছাড়া ইন্টারনেট এবং ওয়েবসাইটেও হস্তক্ষেপ করে সরকার৷

গত বছর ৬৭ জন সাংবাদিক কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন৷ এক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ ছিল ইরাক ও সিরিয়া, যেখানে যথাক্রমে ১১ জন ও ১০ জন সাংবাদিক মারা গেছেন৷ তার পরেই আসছে ফ্রান্স, প্যারিসের শার্লি এব্দো হত্যাকাণ্ডের কারণে৷

সারা বিশ্বে আরো ৪৩ জন সাংবাদিক মারা যান এমন পরিস্থিতিতে, যা সবসময় খুব স্পষ্ট নয়৷ এছাড়া ২৭ জন অপেশাজীবী ‘‘নাগরিক সাংবাদিক'' আর সাতজন অন্যান্য মিডিয়া কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, বলে আরএসএফ তাদের বাৎসরিক রিপোর্টে জানিয়েছে৷

প্রাথমিক খবর

জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন প্যারিসে হামলার প্রাথমিক খবর আসতে থাকে৷

মানুষের মনে ভয়

খবর পেয়ে প্যারিসের মানুষের মনে ভয় ও আতঙ্ক ছেয়ে যায়৷ কর্তৃপক্ষ মানুষকে বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দিয়েছিল৷

পণবন্দি নাটকের মঞ্চ

বাটাক্লঁ কনসার্ট হলে হেভি মেটাল সংগীত চলাকালীন সন্ত্রাসবাদীরা কিছু মানুষকে পণবন্দি করেছিল৷ রাত একটা নাগাদ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

বিহ্বল প্রেসিডেন্ট

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন৷ ফুটবল ম্যাচের বিরতির সময়ে তিনি স্টেডিয়াম ছেড়ে গিয়েছিলেন৷ তাঁকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়৷

স্টেডিয়ামে চাপা আতঙ্ক

ফ্রান্স ও জার্মানির জাতীয় দল এবং দর্শকরা কিন্তু স্টেডিয়াম ছেড়ে যাবার অনুমতি পাননি৷ সে সময়ে তাঁদের মনের অবস্থা কী ছিল, তা অনুমান করা যায়৷

হামলাকারীদের দশা

প্রায় সব আততায়ী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ একজন সীমান্ত পেরিয়ে বেলজিয়ামে প্রবেশ করেছে৷ পুলিশ সূত্র অনুযায়ী হামলাকারীদের মধ্যে কমপক্ষে দু’জন বেলজিয়ামে বসবাস করতো৷

আহতদের অবস্থা সংকটজনক

প্যারিসে একাধিক হামলায় আহত অনেক মানুষের অবস্থা সংকটজনক৷ ফলে নিহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

কড়া নিরাপত্তার বেড়াজাল

প্যারিসে হামলার পর আন্তর্জাতিক স্তরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ যেমন নিউ ইয়র্কে ফরাসি কনসুলেটের সামনে আরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷

গোটা বিশ্বে সংহতি

নিউ ইয়র্কে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’-এর অ্যান্টেনায় ফরাসি জাতীয় রং ফুটিয়ে তোলা হয়৷ নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো বলেন, ‘‘আমরা ফরাসি জাতির সঙ্গে সংহতির বন্ধনে আবদ্ধ৷’’

রিপোর্টার উইদাউট বর্ডার্স সাংবাদিক হত্যা ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ‘‘অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলির'' ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে, যাদের মধ্যে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস-ও আছে৷ আরএসএফ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, ২০১৪ সালে যে সব সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রাণ হারিয়েছিলেন যুদ্ধপীড়িত এলাকায়৷ ২০১৫ সালে সেই পরিসংখ্যান উলটে দাঁড়িয়েছে: সাংবাদিকদের দুই-তৃতীয়াংশ নিহত হয়েছেন এমন সব দেশে, যেখানে বাহ্যত শান্তি বিরাজ করছে৷

উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পোর মতো শহর সাংবাদিকদের পক্ষে বিশেষভাবে বিপজ্জনক৷ এখানে সাংবাদিকরা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাতের বেড়াজালে আটকে পড়ে ‘‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ'', অর্থাৎ পারিপার্শ্বিকের শিকার হচ্ছেন৷ ইসলামিক স্টেট, আল-নুসরা ফ্রন্ট বা ফ্রি সিরিয়ান আর্মির মতো ‘‘অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীরা'' সাংবাদিকদের পণবন্দি করছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে হত্যা করছে – আইএস যেভাবে জাপানি ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার কেনজি গোতোর শিরশ্ছেদ করে৷

ইরিট্রিয়া

‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচিতে’ শেষ অবস্থানে রয়েছে ইরিট্রিয়া৷ পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে স্বৈরতন্ত্রের কারণে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে৷ অনেক সাংবাদিককে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে৷ রেডিও ইরেনা একমাত্র গণমাধ্যম, যা ইরিট্রিয়ার নিরপেক্ষ সংবাদ প্রদান করে৷ তবে এটি প্রচারিত হয় প্যারিস থেকে৷

স্বৈরশাসকের স্বৈরশাসন

উত্তর কোরিয়াতেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই৷ পুরো বিশ্ব থেকে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন তরে রেখেছেন সে’দেশের স্বৈরশাসক কিম জং উন৷ তিনি যা চান, সেটাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়৷ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল ছাড়া তেমন কোনো গণমাধ্যম নেই৷ যে’সব ব্যক্তি তাঁদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করেন, তাঁদের রাজনৈতিক বন্দি শিবিরে রাখা হয় এবং এক সময় গুম করে ফেলা হয়৷ কখনো কখনো তাঁদের পরিবারের ওপরেও নেমে আসে বিপর্জয়৷

তুর্কমেনিস্তান

প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বেরডিমুহামেদভ প্রায় দেশের সবগুলো গণমাধ্যমের মালিক৷ সংবাদপত্র রিসগাল কেবল ভিন্ন৷ তবে এর প্রতিটি সংস্করণে রাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ছাড়পত্র মেলে৷ এছাড়া ইন্টারনেট এবং ওয়েবসাইটেও হস্তক্ষেপ করে সরকার৷

ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামেও কোনো স্বাধীন গণমাধ্যম নেই৷ ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি বলে দেয় সাংবাদিকরা কী লিখবেন৷ বেশিরভাগ প্রকাশক, সম্পাদক এবং সাংবাদিক ক্ষমতাসীন দলের সদস্য৷ সম্প্রতি কয়েকজন ব্লগার কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করলে তাঁদের জেলে পাঠানো হয়৷

চীন

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্স বলছে, ব্লগার এবং সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় কারগারটি রয়েছে চীনে৷ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেউ কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়৷ এছাড়া বিদেশি সাংবাদিকদের উপর উত্তোরত্তোর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে চীনে৷

সিরিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্স দেশটিকে গত কয়েক বছর ধরে মুক্ত গণমাধ্যমের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেছে৷ বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পর থেকে সিরিয়ায় অনেক সাংবাদিককে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে৷ হত্যা করা হয়েছে অনেকককে৷ অন্যদিকে আল-নুসরা ফ্রন্ট, যারা ইসলামিক স্টেট এবং আসাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তাদের হাতেও বিপন্ন হতে হচ্ছে সরকারি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের৷ এছাড়া সাংবাদিকদের অপহরণের ঘটনাও ঘটে চলেছে অহরহ৷

আরএসএফ-এর রিপোর্টে ভারতের কথা বলা হয়েছে, যেখানে ২০১৫ সালের সূচনা যাবৎ ন'জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই সংগঠিত অপরাধবৃত্তির সঙ্গে রাজনীতিকদের যোগাযোগ, অথবা বেআইনি খনি চালানো সম্পর্কে রিপোর্ট দেওয়ার কারণে৷ এই হিসেবে ভারত মিডিয়া কর্মীদের জন্য পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের চেয়েও মারাত্মক, বলছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স৷

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্লগার হত্যার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সকলেই চিন্তিত৷ এক্ষেত্রে আরএসএফ-এর অভিমত: ‘‘এই রক্তপাতের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এমন একটি দণ্ড থেকে রেহাইয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা নাগরিক সাংবাদিকদের পক্ষে খুবই বিপজ্জনক৷''

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

সবচেয়ে বেশি সিরিয়ায়

বর্তমানে গৃহযুদ্ধের কবলে থাকা সিরিয়ায় চলতি বছর সবচেয়ে বেশি নেটিজেন এবং সিটিজেন জার্নালিস্ট খুন হয়েছেন৷ প্যারিসভিত্তিক ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ বা আরএসএফ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে পহেলা জানুয়ারি, খুন হন দিরার মুসা আল জাহিদ৷ আর সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর জুম্মা আল-আহমেদ৷

বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে

বাংলাদেশে সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধ না চললেও খুন হয়েছেন চার ব্লগার, আহত কয়েকজন৷ এদের সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় খুন হন লেখক, ব্লগার অভিজিৎ রায়৷ সর্বশষে সাত আগস্ট খুন হন ব্লগার নিলয় চট্টোপাধ্যায়৷ নিহতরা সবাই নাস্তিক এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন৷

ব্রাজিলে নিহত এক

ব্রাজিলে ১৮ মে খুন হন ব্লগার ইভানি জোসে মেৎসকার৷ ধারণা করা হয়, তাঁকে হত্যার আগে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছিল৷ নিহত হওয়ার আগে শিশু পতিতাবৃত্তি নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন তিনি৷

ইসলামিক স্টেট-এর হাতে খুন জুহায়ের

ইরাকের মসুলের সিটিজেন জার্নালিস্ট জুহায়ের কিনান আল-নাহাস৷ আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিমান হামলায় দগ্ধ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’-এর একটি গাড়ির ছবি তোলায় তাঁকে হত্যা করে জঙ্গি গোষ্ঠীটি৷

পাকিস্তানে নিহত মানবাধিকার কর্মী

পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী সাবিন মাহমুদ গত ২৪ এপ্রিল করাচিতে খুন হন৷ অজ্ঞাত বন্দুকধারী তাঁকে গুলি করে হত্যা করে৷ এ সময় ব্যক্তিগত গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি৷ পাকিস্তানের বালুচিস্তানে সেনাবাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মাহমুদ৷ এ কারণে একাধিকবার হুমিকও পান তিনি৷

তরুস্কে নিহত সিটিজেন জার্নালিস্ট

গত ৩০ অক্টোবর তুরস্কে খুন হন সিটিজেন জার্নালিস্ট ইব্রাহিম আব্দ আল-কাদের৷ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’-এর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিরিয়ার এই ব্লগার৷ তাঁর জবাই করে হত্যা করা হয়৷

নিহত ৬৫ সাংবাদিক

আরএসএফ-এর ওয়েবসাইটে নিহত সাংবাদিকদের তালিকা আলাদাভাবে দেয়া হয়েছে৷ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট সংগঠনটির হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ সাংবাদিক, কারাবন্দি আছেন ১৫৩ জন৷ এছাড়া ১৬২ নেটিজেনও কারাবন্দি রয়েছেন৷

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের অবস্থা আদতে কেমন? আপনার জানা ঘটনা আমাদের জানান, লিখুন নীচের ঘরে৷

গত বছর ৬৭ জন সাংবাদিক কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন৷ এক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ ছিল ইরাক ও সিরিয়া, যেখানে যথাক্রমে ১১ জন ও ১০ জন সাংবাদিক মারা গেছেন৷ তার পরেই আসছে ফ্রান্স, প্যারিসের শার্লি এব্দো হত্যাকাণ্ডের কারণে৷