২৪ বার এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়লেন রিতা

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে ২৪ বারের মতো চড়ে নিজেরই রেকর্ড ভেঙ্গেছেন নেপালি শেরপা কামি রিতা৷ আরো একবার এভারেস্ট জয় করে ক্ষান্ত দিতে চাচ্ছেন তিনি৷

মঙ্গলবার ২৪তম বারের মতো ৮,৮৫০ মিটার (২৯,০৩৫ ফুট) এভারেস্ট চূড়া জয় করেন রিতা৷ এর আগে ২৩ বার এভারেস্টে ওঠায় সবচেয়ে বেশিবারের রেকর্ডও রয়েছে তাঁর দখলে৷

বিশ্ব | 19.05.2012

চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এভারেস্ট চূড়া জয় করলেন রিতা৷ ১৫ মে আরেকবার এভারেস্টে চড়ে বেজক্যাম্পে ফেরেন তিনি৷ এরপর পুনরায় উপরের দিকে যাত্রা শুরু হয় তাঁর৷

নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা মিরা আচার্য জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় ভারতীয় এক অভিযাত্রী দলের সঙ্গে পুনরায় এভারেস্ট চূড়ায় উঠে যান রিতা৷

মঙ্গলবারের সামিটের মাধ্যমে ২৫ বার এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি৷ তাঁর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আপা শেরপা ও পূর্বা তাশি শেরপার রয়েছে ২১ করে বার এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

প্রথম জয়, প্রথম মৃত্যু

২০১০ সালের ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্টের সর্বোচ্চ শেখরে পা রাখেন মুসা ইব্রাহীম (বামে)৷ সেই জয়ের খবরে আনন্দের বন্যা নামে বাংলাদেশে৷ আর ২০১৩ সালে এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে মারা যান সজল খালেদ৷ এই ছবিঘরে মানবজাতির এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে৷ একেবারে সেই ১৯৫৩ সাল থেকে৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

কোড ম্যাসেজ

‘‘স্নো কন্ডিশনস ব্যাড স্টপ অ্যাডভান্সড বেস এবানডন্ড মে টোয়েন্টিনাইন স্টপ অ্যাওয়েটিং ইমপ্রুভমেন্ট স্টপ অল ওয়েল’’ এই ম্যাসেজের অর্থ হচ্ছে: ‘‘হিলারি এবং তেনজিং ২৯ মে এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়া জয় করেছে৷’’ ১৯৫৩ সালের পহেলা জুন এই তথ্য লন্ডনে পৌঁছায়৷ এভারেস্টের সর্বোচ্চ শিখরে মানুষের পদচিহ্নের খবর শুনে উৎসবে মেতে ওঠে সবাই৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

কে আগে চূড়ায় উঠেছিল?

নিউজিল্যান্ডের এডমান্ড হিলারি আর শেরপা তেনজিং নোরগে (ছবিতে বামে) এভারেস্ট জয়ের পর এক নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়৷ এই দু’জনের মধ্যে কে আগে চূড়ায় পা রেখেছিলেন তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক৷ নেপাল এবং ভারত এই জয় তাদের দাবি করে৷ তবে এভারেস্ট জয়ের কয়েক বছর পর হিলারি জানান, চূড়ায় ওঠার সময় তিনি তেনজিং এর থেকে কয়েক পা সামনে ছিলেন৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয়

হিলারি ও তেনজিং-এর সেই ঐতিহাসিক অভিযানের পরের তিন দশকে বহু পর্বতারোহী বিভিন্ন পথ ধরে এভারেস্টে উঠেছেন৷ ১৯৭৮ সালে সাউথ টাইরোলিয়ান রাইনহোল্ড মেসনার (ডানে) এবং অস্ট্রেলিয়ান পিটার হেবেলার (বামে) অক্সিজেনের বাড়তি জোগান ছাড়াই এভারেস্ট জয় করেন৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

দলে দলে এভারেস্ট জয়

১৯৯০ দশকের দিকে দল বেধে পর্বতারোহীরা এভারেস্ট জয় শুরু করেন৷ সেই সময় থেকে প্রতিবছর শত শত পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় উঠছেন৷ রেকর্ড বলছে, এখন অবধি কমপক্ষে ৬,০০০ বার সফলভাবে এভারেস্টের চূড়া জয় করেছে মানুষ৷ আবহাওয়া ভালো থাকলে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এভাবেই এভারেস্টের চূড়ার দিকে যাত্রা করেন পর্বতারোহীরা৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

চূড়ায় পর্বতারোহীদের ভিড়

সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে চূড়ান্ত পর্যায়ে অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্প থেকে কমপক্ষে চারদিন সময় লাগে আর এই সময়টা আবহাওয়া অবশ্যই ভালো থাকতে হবে৷ সাধারণত একইসময়ে অনেক অভিযাত্রী চূড়ার দিকে যাত্রা করেন, কেননা সবাই আবহাওয়ার পূর্বাভাষের উপর নির্ভরশীল৷ ফলে একদিনে অনেক পর্বতারোহীকে চূড়ায় এভাবে ভিড় করতে দেখাটা স্বাভাবিক৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

শেরপারা পথ দেখান

শেরপাদের সহায়তা ছাড়া কারো পক্ষে এভারেস্টের চূড়া জয় করা কার্যত অসম্ভব৷ তাঁরা এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার পথের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সদা তৎপর৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

৮০ বছরে এভারেস্ট জয়

এভারেস্ট প্রতি বছরই চলে রেকর্ড গড়ার এবং ভাঙার খেলা৷ এই বসন্তে আশি বছর বয়সি জাপানি বৃদ্ধ ইউচিরো মিউরা এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রেখেছেন৷ এর আগে ২০১০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে এভারেস্ট জয় করেন জর্ডান রেমেরো৷ দুটোই রেকর্ড৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

উদ্ধার তৎপরতা

২০০৩ সালে এভারেস্ট বেসক্যাম্পে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই ব্যক্তি৷ দশ বছর পর মানে এখন এভারেস্ট বেসক্যাম্প পর্যন্ত হেলিকপ্টারে যাতায়াত স্বাভাবিক ব্যাপার৷ এখন অবধি সর্বোচ্চ ৭,৮০০ মিটার উচ্চতায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়েছে৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

এভারেস্টে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এভারেস্টেরও ক্ষতি হচ্ছে৷ গত পঞ্চাশ বছরে সেখানকার বরফের পরিমাণ কমেছে ১৩ শতাংশ৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

গর্বের এভারেস্ট

এভারেস্টের অধিকাংশ অংশই নেপালের আওতায় রয়েছে৷ ফলে এভারেস্টকেন্দ্রিক পর্যটন খাত থেকে বিপুল অর্থ আয় করে দেশটির সরকার৷ প্রতি বছরের ২৯ মে ‘আন্তর্জাতিক মাউন্ট এভারেস্ট দিবস’ উদযাপন করে নেপাল৷ ১৯৫৩ সালের এই দিনে এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিল মানুষ৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

পর্যটক কমাতে অনাগ্রহী নেপাল

এভারেস্টের চূড়ায় আরোহনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন বিধিনিষেধ আরোপ করার পক্ষে নয় নেপাল৷ বরং প্রয়োজনীয় টাকা থাকলে যেকেউ চেষ্টা করতে পারে এভারেস্ট জয়ের৷

এভারেস্ট জয়ের ষাট বছর

বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়

২০১০ সালের ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম৷ এরপর আরো চারজন বাংলাদেশি এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন৷ এদের মধ্যে দু’জন মেয়ে৷ আর ২০১৩ সালে চূড়া জয় করে নামার পথে ‘ডেথ জোনে’ মারা যান সজল খালেদ৷

এভারেস্টের কাছের একটি গ্রামে বেড়ে ওঠেন ৪৯ বছর বয়সি শেরপা রিতা৷ ১৯৯৪ সালে প্রথম এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছিলেন তিনি৷ এরপর প্রতি বছরই অনেকটা নিয়ম করে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে চড়েন৷ এভারেস্টের পাশাপাশি কে-২, চো-ওইউ, মানাসলু ও লোতসে পর্বত জয় করেছেন রিতা৷

হিমালয়ের নেপালি এলাকায় বসবাস করেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শেরপারা৷ অনবরত পাহাড়ে চড়ায় উপরে ওঠার ক্ষেত্রে এক ধরনের সক্ষমতা তৈরি হয় তাঁদের৷ অন্য এভারেস্ট আরোহীদের গাইড হিসাবে কাজ করে থাকেন তাঁরা৷

এমবি/এসিবি (ডিপিএ, এপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আমাদের অনুসরণ করুন