৭০ বছর পুরনো ফ্যাসিবাদ বিরোধী মুভি ক্লিপ ভাইরাল

হঠাৎ করেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে ৭০ বছর আগে তৈরি করা একটি মার্কিন সিনেমার ভিডিও ক্লিপ৷ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সচেতনতার এই সিনেমাটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থার বেশ মিল আছে বলে মনে করছে অনেকেই৷

১৯৪৭ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘ডোন্ট বি আ সাকার' নামের একটি ১৭ মিনিটের শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করে৷ ফ্যাসিবাদ কীভাবে ছড়ায়, কেনই বা তা দ্রুত জনপ্রিয় হয়, এই বিষয়ে নিজ দেশের জনগণকে সচেতন করাই ছিল লক্ষ্য৷

কিন্তু হঠাৎ করেই ৭০ বছর আগের এই ছবিটির কিছু অংশ আবার ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে৷ অনেকেই মনে করছেন, এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থা, তার সাথে সিনেমাটিতে বর্ণনা করা পরিস্থিতি বেশ মিলে যায়৷ বিশেষ করে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল শহরে ‘হোয়াইট সুপ্রিম্যাসির' পক্ষে সমাবেশ এবং তারপর সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন নিহত হওয়ার পর, অনেকেই এই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন৷

হিটলার কে ছিলেন?

শিশু অ্যাডলফ হিটলার (১৮৯০)

‘‘পরিবারের অন্য সবার চেয়ে সে ব্যতিক্রম ছিল৷’’ – মা ক্লারা হিটলারকে উদ্বৃত করে অ্যাডলফ হিটলার সম্পর্কে এ কথা জানিয়েছিলেন তার ছোটবেলার বন্ধু অগুস্ট ক্যুবিসেক৷

হিটলার কে ছিলেন?

লিন্সে ক্লাসের ছবি, ১৯০০/০১

‘‘সে নিঃসন্দেহে মেধাবী ছিল, ভারসাম্যহীনও ছিল, তবে সহিংস ছিল না৷ অবশ্য অবাধ্য হিসেবে বিবেচিত ছিল৷ আর সে কঠোর পরিশ্রমীও ছিল না’’ – বলেছেন হিটলারের ফরাসি শিক্ষক ড. এডওয়ার্ড হুয়েমার৷ (ছবিতে একেবারে উপরের সারির ডানদিকের কোণায় হিটলারকে দেখা যাচ্ছে৷)

হিটলার কে ছিলেন?

অ্যাডলফ হিটলারের নিজের পোট্রেট

‘‘আত্মীয়স্বজনরা তাকে এমন ফালতু মনে করতো, যে কিনা সব ধরনের কঠিন কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতো,’’ অ্যাডলফ হিটলারের ছোটবেলার বন্ধু অগুস্ট কুবিসেক৷

হিটলার কে ছিলেন?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কর্পোরাল হিটলার

‘‘ইহুদিদের প্রতি হিটলারের তীব্র ঘৃণা কেন ছিল তার কারণ আমি কখনো প্রকাশ করিনি৷ বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা হয়ত এতে সামান্য অবদান রেখেছিল,’’ লিস্ট রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট ফ্রিৎস ভিডারমান৷

হিটলার কে ছিলেন?

অ্যাডলফ হিটলার (১৯৩৩)

‘‘উচ্চশ্রেণির মানুষেরা হিটলারের কাছে ঘেঁষতে চেয়েছে৷ এ রকম পরিবর্তনশীল মানুষদের জন্য আমার দাদার এক জুতসই ফর্মুলা ছিল: আপনি তাদের চোখে থুতু ছিটাবেন আর তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে বৃষ্টি হচ্ছে কিনা’’, জার্মান ইহুদি সাংবাদিক বেলা ফ্রম৷ (জানুয়ারি ২৯, ১৯৩২)

হিটলার কে ছিলেন?

প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবুর্গের কাছ থেকে ক্ষমতা নিচ্ছেন চ্যান্সেলর হিটলার, ১৯৩৩

‘‘আমি ক্ষণিকের জন্যও ভুলিনি যে, নাৎসিরা শত্রু – আমার শত্রু এবং আমার প্রিয় সবার শত্রু৷ তবে আমি একটা ক্ষেত্রে ভুল করেছিলাম, তা হচ্ছে, তারা কতটা ভয়াবহ শত্রু হবে সেটা আন্দাজ করতে পারিনি৷’’ – সেবাস্তিয়ান হাফনার, সাংবাদিক৷

হিটলার কে ছিলেন?

ব্যাইরুথে হিটলার (১৯৩৮)

‘‘আমি এটা নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি যে, সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার আগে আমি হিটলারের যুদ্ধ চলাকালে অনারোগ্য রোগীদের ধ্বংস করে দেয়ার আকাঙ্খা সম্পর্কে জেনেছিলাম৷ তিনি বলেছিলেন তারা নাকি অপ্রয়োজনীয় ভক্ষক৷’’ – ফ্রিৎস ভিডারমান, ১৯৩৯ সালের ১৯ জানুয়ারি অবধি অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি পার্টির অ্যাডজুটেন্ট৷

হিটলার কে ছিলেন?

ওবারসাল্সবার্গে হিটলার

‘‘আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে, ইংল্যান্ড বা ফ্রান্স একটি সাধারণ যুদ্ধে জড়াবে না৷’’ ১৯৩৯ সালের ১৩ আগস্ট ওবারসাল্ফবার্গে আর্মি জেনারেলদের বলেছিলেন হিটলার৷

হিটলার কে ছিলেন?

আলবার্ট স্পিয়ার এবং অ্যাডলফ হিটলার, ১৯৩৮

‘‘যুদ্ধের পুরো সময়টাতে হিটলার কখনো বোমাবর্ষণের শিকার কোনো শহর দেখতে যাননি৷’’ আলবার্ট স্পেয়ার, রাইশ মিনিষ্টার অফ আর্মামেন্টস অ্যান্ড ওয়ার প্রোডাকশন৷

হিটলার কে ছিলেন?

ভোল্ফ’স লেয়ারে গুপ্তহত্যা চেষ্টা ব্যর্থ হবার পর হিটলার, ১৯৪৪

‘‘আমি সেখানে হিটলারকে দেখেছি, যিনি কিনা আমার বিক্ষিপ্ত অভিব্যক্তির দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন৷ তিনি শান্তভাবে বলেছিলেন, ‘লিঙ্গে, কেউ একজন আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল৷’’’ – অ্যাডলফ হিটলারের খানসামা হাইন্স লিঙ্গে৷

হিটলার কে ছিলেন?

অ্যাডলফ হিটলার এবং হ্যারমান গ্যোরিং, ১৯৪৪

‘‘আমি জানি, যুদ্ধে আমরা পরাজিত হয়েছি৷ তাদের শ্রেষ্ঠত্ব পরিষ্কার৷ আমি এখন আমার মাথায় গুলি করতে চাই৷ [কিন্তু] আমরা আত্মসমর্পন করি না৷ কখনো না৷ আমরা হারতে পারি৷ কিন্তু নিজেদের সঙ্গে একটা দুনিয়া নিয়ে যাবো৷’’ ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বরের শেষে অ্যাডজুট্যান্ট নিকোলাউস ফন বেলো-কে বলেছিলেন হিটলার৷

হিটলার কে ছিলেন?

সংবাদপত্রে হিটলারের মৃত্যু সংবাদ, ১৯৪৫

‘‘একজনের মনে হতে পারে, হিটলারের মৃত্যু এখন বরং অর্থহীন৷ তার আরো আগে মরা উচিত ছিল৷ আমি ভাবছি, কতজন মানুষ তিনি চড়চড় করে পুড়ছেন ভেবে নিজেদের সান্ত্বনা দিচ্ছে৷’’ – স্কটিশ লেখক নাওমি মিচিসন৷

টুইটারে এই সিনেমটির কিছু অংশ নিজের ২৫ হাজার ফলোয়ারের সাথে প্রথম শেয়ার করেন মাইকেল ওমান রিগ্যান নামে এক ফ্যাসিবাদ বিরোধীঅনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট৷ ভিডিওর সাথে তিনি লিখে দিয়েছেন - ট্রাম্পের মতো লোকজন থেকে কীভাবে দূরে থাকতে হয়, জনগণকে তা শেখাতে ১৯৪৭ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর তৈরি করা ভিডিওটি আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে৷

২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায় একটি বাক্সের ওপর দাঁড়িয়ে এক লোক বক্তৃতা দিচ্ছেন৷ সামনে জড়ো হয়েছেন কয়েকজন৷ বক্তা বলছেন, ‘‘নিগ্রোরা আমাদের সব চাকরি নিয়ে নিয়েছে৷ নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন৷ যদি এটা চলতে দেয়া হয়, তাহলে আমরা যারা সত্যিকারের অ্যামেরিকান, তাদের কী হবে?''

‘‘বন্ধুরা, আমরা ততোদিন পর্যন্ত এই দেশকে নিজেদের বলে দাবি করতে পারবো না, যতোদিন এই দেশ... নিগ্রো, বিদেশি, ক্যাথলিক এবং ফ্রিম্যাসনদের থেকে মুক্ত না হবে৷''

সিনেমায় দেখা যায়, এতোক্ষণ ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে একজন মাথা নেড়ে বক্তার সাথে সহমত প্রকাশ করছিলেন৷ এমনকি এক পর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘লোকটা যা বলছে, জেনেশুনেই বলছে৷'

কিন্তু ‘দেশ থেকে বিতারণের' তালিকায় ফ্রিম্যাসন নাম উল্লেখের সাথে সাথে চমকে ওঠেন তিনি, কারণ তিনি নিজেই একজন ফ্রিম্যাসন৷ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত অ্যামেরিকান প্রফেসর তখন কথা বলতে শুরু করেন৷ জার্মানিতে হিটলারের উত্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের কথাবার্তার পরিণতি কি হতে পারে, আমার জানা আছে৷ এখানে যে কথা বলা হচ্ছে, বার্লিনে আমি একই ধরনের কথা শুনেছিলাম৷''

প্রফেসরকে আরো বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি তখন বোকা ছিলাম৷ আমি ভেবেছিলাম নাৎসিরা বদ্ধ পাগল৷ কিন্তু বিষয়টা আসলে তেমন ছিলো না৷ তারা জানতো, ঐক্যবদ্ধ দেশের ক্ষমতা নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না৷ সুতরাং এইভাবে তারা দেশকে বিভিক্ত করা শুরু করে৷ প্রতিহিংসা উসকে দিয়ে তারা জাতিকে পঙ্গু করে দেয়৷''

১৩ আগস্টে মাইকেলের করা এই টুইট এরই মধ্যে রিটুইট হয়েছে দেড় লাখেরও বেশি বার৷ তিন হাজারেরও বেশি কমেন্ট করা হয়েছে মূল টুইটে৷ বেশিরভাগই মাইকেলের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করলেও, কাউকে কাউকে আবার তার বিরোধিতা করতেও দেখা গেছে৷ অনেকে দাবি করছেন ট্রাম্প মোটেও ভিডিও ক্লিপের বক্তার মতো ফ্যাসিবাদ প্রচার করছেন না৷

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

জনগণের হাতেই ক্ষমতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই দিনটিকে স্মরণ করা হবে জনগণের জয় হিসেবে৷

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

বিক্ষোভ সত্ত্বেও ভিড়

ট্রাম্পের শপথগ্রহণের দিনেও যুক্তরাষ্ট্র শান্ত ছিল না৷ এমনকি ওয়াশিংটন ডিসিতেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে৷ তারপরও তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাখো মানুষ৷ ট্রাম্প তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন৷

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

সবার জন্য শিক্ষা, সুরক্ষা, চাকরি

প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে সবার জন্য উন্নত শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্টের কাছে জনতাই সব

‘‘আপনার-আমার সবারই এক দেশ, আপনাদের সাফল্যই আমার সাফল্য, আপনাদের হৃদয়ই আমার হৃদয়৷’’

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

শুধু দেশের জন্য কাজ

ধনকুবের থেকে রাজনীতির ময়দানে এসেই রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে যাওয়া ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘এখন থেকে আমার লক্ষ্য শুধু দেশের ভবিষ্যৎ গড়া৷’’

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

‘ওবামা পরিবার ছিল চমৎকার’

ট্রাম্প ভাষণ শুরু করেছিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ধন্যবাদ জানিয়ে৷ এ সময় ওবামা দম্পতির প্রশংসা করেছেন৷ ওবামা ও মিশেলের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওবামা পরিবার ছিল চমৎকার৷’’

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

অ্যামেরিকায় উগ্রবাদীদের জায়গা নেই

‘‘অ্যামেরিকার মানুষের আর ভয়ের কারণ নেই৷’’ এ কথা বলে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, উগ্রবাদী ইসলামপন্থিদের সমূলে উৎপাটন করা হবে৷

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

দেখুন বড় স্বপ্ন

ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমাদের এখন আগামীর পথে এগিয়ে যেতে হবে৷ বড় কাজের জন্য দেখতে হবে বড় স্বপ্ন৷’’

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক স্মরণীয় দিন

২০ জানুয়ারি, ২০১৭ – এই তারিখটিকে অ্যামেরিকা চিরকাল স্মরণ করবে বলেও মনে করেন ট্রাম্প৷

প্রেসিডেন্ট হয়েই যা যা বললেন ট্রাম্প

‘অ্যামেরিকা উইল বি গ্রেট এগেইন’

ট্রাম্প বলেন, ‘‘আজ থেকে এ দেশ চলবে নতুন দৃষ্টভঙ্গি নিয়ে আর তা হবে ‘অ্যামেরিকা প্রথম’৷’’ পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারাভিযানের সময় থেকে বলে আসা ‘আমরা আবার একসঙ্গে অ্যামেরিকাকে মহান জাতির উচ্চতায় নিয়ে যাবো’ অঙ্গিকারেরও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি৷

এডিকে/জেডএইচ

আমাদের অনুসরণ করুন