1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

রামমন্দির নির্মাণে সংঘ পরিবারের হুমকি

অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুন দিল্লি২ ডিসেম্বর ২০১৭

সংঘ পরিবার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে শুধু রাম মন্দিরই নির্মাণ করা হবে৷ অন্য কোনো নির্মাণ নয় এবং সেই নির্মাণকার্য শুরু হচ্ছে আগামী বছর থেকে৷ আদালতের বাইরে আপোষ মীমাংসায় তারা আগ্রহী নয়৷

https://p.dw.com/p/2obef
বাবরি মসজিদ
ছবি: AP

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৫তম বর্ষপূর্তির ঠিক মুখে মৌলবাদী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কর্নাটকের উড়ুপিতে সংঘ পরিবার আয়োজিত ধর্ম সংসদ থেকে ঘোষণা করে, আগামী বছর থেকে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই শুরু হবে রাম মন্দির নির্মাণ৷ ঐ জমিতে অন্য কোনো নির্মাণ নয়৷ ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর হিন্দু কর সেবকরা বাবরি মসজিদ ভাঙার পর কেটে যায় ২৫ বছর৷ মামলা মোকদ্দমা চলে বহু বছর৷ এলাহাবাদ হাই কোর্টে এক প্রস্থ রায় ঘোষণার পরেও তার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি৷ ঐ রায়ে বিতর্কিত জমিকে বিবদমান তিন পক্ষের মধ্যে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়৷ তখন অযোধ্যার বিতর্কিত জমির মামলা চলে যায় শীর্ষ আদালতে৷ সম্প্রতি আর্ট অফ লিভিং-এর ধর্মগুরু শ্রী শ্রী রবিশংকর আদালতের বাইরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এক মীমাংসাসূত্র বের করার উদ্যোগ নেন৷ কিন্তু সংঘ পরিবার তাতে আমল দেয়নি৷ তাদের মতে, ধর্ম সংসদই বলবে শেষকথা৷

এই আবহে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দেন, অযোধ্যার রামজন্মভূমিতে রাম মন্দিরই আমাদের বানাতে হবে, সেখানকার পাথর দিয়েই৷ অন্য কোনো নির্মাণ নয়৷ আর সেই নির্মাণ শুরু হতে আর দেরি নেই৷ আগামী বছর থেকেই শুরু হবে সেই নির্মাণকার্য৷  এটা হাততালি কুড়াবার ঘোষণা নয়৷ গভীর ধর্মবিশ্বাস থেকেই করা হয়েছে, যেটা নড়চড় হবার প্রশ্ন নেই৷ এই ধর্ম সংসদ থেকেই ডাক দেওয়া হয় গো-হত্যা বন্ধ করার, গরুকে জাতীয় প্রাণীর মর্যাদা দেওয়ার, লাভজেহাদ বা হিন্দু-মুসলিম বিয়ে-শাদির ওপর নিষেধাজ্ঞা, ধর্মান্তরকরণ ইত্যাদি বিষয়৷

সংঘ-পরিবারের এই ধরণের ঘোষণায় সরব হয় মুসলিম শিবির৷ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হায়দ্রাবাদের সাংসদ এবং এআইএমআইএম-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেছেন, সংঘ পরিবার আগুণ নিয়ে খেলছে৷ সুপ্রিম কোর্টকে পর্যন্ত পরোয়া করছে না৷ করলে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে এমন মন্তব্য কেউ করতে পারে না৷ বিষয়টির সংবেদনশীলতার দিকে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান৷ মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের মুখপাত্র মৌলানা খালিদ সইফুল্লা রেহমানি জানিয়েছেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন৷ বিচার বিভাগের ওপর আমাদের আস্থা আছে৷ শীর্ষ আদালতের রায় আমরা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করবো৷ কিন্তু তার আগেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে৷ এটা মেনে নেওয়া যায় না৷ কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র আনন্দ শর্মাও অনুরূপ মন্তব্য করে বলেছেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এই ধরনের ঘোষণায় সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে. অযোধ্যা মামলায় যা অবস্থান নেবার, তা শীর্ষ আদালতই নেবে৷ উল্লেখ্য, আগামী ৫ই ডিসেম্বর থেকে এই মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে৷

‘মুসলিমরাও বুঝতে পারছে, এটা সংঘ পরিবারের এক ধরনের ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই না৷’

ঘটনাচক্রে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের আটটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন৷ ২০১৯ সালে সাধারণ নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে মোদীর জয়লাভ হবে নিঃসন্দেহে এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ রাজনীতিকদের অনেকে মনে করেন, গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশে বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে রামমন্দির নির্মাণের কর্মসূচির আগাম ঘোষণা করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷ ভোটের রাজনীতির সব অপ্রিয় প্রশ্ন থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই মেরুকরণের বার্তা৷ মোদী সরকার এখন কি অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার৷

রাজনীতির অভিজ্ঞ বিশ্লেষক অমূল্য গাঙ্গুলি অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ ইস্যু সম্পর্কে ডয়চে ভেলের কাছে তাঁর মত ব্যক্ত করতে গিয়ে বললেন, সংঘ পরিবার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বিষয়টিকে জিইয়ে রেখে হিন্দু ভোট সুসংহত করতে চাইছে৷ এটা ওদের পুরোনো অ্যাজেন্ডা৷ এছাড়া অন্যকিছু ওদের মাথায় ঢোকে না৷ এটাই ওদের নিজস্ব সাংগঠনিক ধারা৷ সংগঠনকে ধরে রাখতে এই ধরনের কথাবার্তা বলতে হয়, তাই বলে৷ রাম মন্দির নিয়ে আমজনতার খুব যে একটা মাথাব্যথা আছে এমনটা আমার মনে হয় না৷ তাই এই ইস্যুতে ওরা কোনো মধ্যস্থতাও চায় না৷ তাই শ্রী শ্রী রবিশংকরের উদ্যোগ বানচাল হয়ে গেল৷ আর শীর্ষ আদালতের রায়ের কথা বলছেন? ওদের মতে, ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারটা আদালতের এক্তিয়ারে পড়ে না৷ আগেও বিচার বিভাগের অনেক রায় ওরা অমান্য করেছে৷ তার জন্য হাসিমুখে জেলে যেতেও রাজি৷ যেমনটা হয়েছিল বাবরি মসজিদ ভাঙার সময়৷ তত্কালীন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যান সিং হাসতে হাসতে একদিনের কারাবাস মেনে নিয়েছিলেন৷ তবে সাম্প্রদায়িক গণ্ডগোলের আশংকা উড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমূল্য গাঙ্গুলি ডয়চে ভেলেকে বললেন, মুসলিমরাও বুঝতে পারছে, এটা সংঘ পরিবারের এক ধরনের ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই না৷

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান