1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

দাম বাড়ছে নিত্যপণ্যের

শামীমা নাসরিন
২২ এপ্রিল ২০২০

করোনা মোকাবেলায় কার্যত লকডাউন হয়ে থাকা দেশে কর্মহীন মানুষ দিশেহারা৷ এ অবস্থায়ও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছেন৷

https://p.dw.com/p/3bG7I
ফাইল ছবিছবি: Muhammad Mostafigur Rahman

অথচ গণপরিবহনে সংকট থাকলেও বাজারে পণ্য সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিকই আছে৷

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সোমবার দেওয়া তথ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রতিকেজি মশুরের ডালে দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ৷ সাত দিনে কেজিতে পেঁয়াজের ‍দাম ২১ শতাংশ এবং রসুনের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে৷ এছাড়া, মাস ব্যবধানে কেজিতে ছোলার দাম প্রায় ৭ শতাংশ, চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৪ শতাংশ এবং খেজুরের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে৷

টিসিবি আদার দাম কেজিতে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ বাড়ার তথ্য দিলেও আদতে ঔষধি গুণ সম্পন্ন এই পণ্যটির দাম আকাশ ছুঁয়েছে৷ রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি আদা এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা৷

মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসিন্দা, গৃহিনী তানিয়া জাফর টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এ মাসের শুরু থেকে আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে৷ ‍আমি সপ্তাহখানেক আগে এক কেজি আদা ৪৪০ টাকায় কিনেছি৷’’

বুধবার সকালে তিনি বাড়ির কাছের একটি সুপার শপে রোজা উপলক্ষে বাজার করতে গিয়েছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘মোটামুটি সব কিছুরই দাম বেড়েছে৷ গত মাসে মশুরের ডাল ১১০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ কিনেছি ১৪৫ টাকায়৷ যে গুড়া দুধের প্যাকেট ৩০০ টাকায় নিয়েছিলাম সেটা এখন ৩১৫ টাকা৷ বাজারে মানুষের ভিড়ও মনে হচ্ছে বেড়েছে৷ আমি সাবধানতা অবলম্বন করেই বাজার করার চেষ্টা করছি৷’’

সিলেটে একটি বেসরকারি কোম্পানির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা ফজলুল করিম নয়ন বলেন, ‘‘একমাস ধরে ঘরবন্দি হয়ে আছি৷ ছুটির আগে কিছু চাল-ডাল কিনে রেখেছিলাম৷ পাড়ার দোকান থেকেই বাকি বাজার করছি৷ দুই দিন আগে আদা কিনেছি ২৯০ টাকা দরে, যদিও সেগুলোর মান ভালো ছিল না৷ সব ফলের দাম কেজিতে ৪০/৫০ টাকা বেড়ে গেছে৷ খেজুর ও ছোলার দামও বেড়েছে৷ তবে ডিমের দাম স্বাভাবিক আছে৷’’

করোনা সংকটের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া রোজায় নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তা-সহনীয় ‍রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাজার নজরদারির নির্দেশ দিচ্ছেন৷ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরসহ একাধিক সংস্থা বাজার তদারকিতে নেমেছে৷

বুধবার অধিদপ্তরটির উপসচিব মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার তার ফেসবুক পাতায় একটি ভিডিও শেয়ার করলে সেটা ভাইরাল হয়ে যায়৷ ভিডিওতে রাজধানীর শ্যামবাজারে ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি আড়তে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরের ‍অভিযানের চিত্র তুলে ধরা হয়৷ ভিডিওতে উপসচিব শাহরিয়ারকে বলতে শোনা যায়, ‘‘করোনা ও রোজার কারণে আদার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মহাপরিচালক এ বিষয়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন৷ বিদেশ থেকে আমদানি করা আদার সর্বোচ্চ দাম পড়ে ৯৭ টাকা৷ অথচ দোকানে চায়না আদার পাইকারি দাম লেখা আছে ২৪৫ টাকা এবং চায়না রসুন ১৪৮ টাকা৷’’

প্রতিষ্ঠানটির মালিক এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের ক্রয়ের ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জরিমানা করা হয় এবং পুনরায় অতিরিক্ত দাম রাখলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়৷

সরবরাহ সংকটে ঢাকায় দাম বেড়ে যাচ্ছে: ক্যাব প্রেসিডেন্ট

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পত্রিকা-টেলিভিশন দেখে তো মনে হচ্ছে কিছু কিছু জিনিসের দাম বাড়ছে৷ সরবরাহে কিছু বিঘ্ন ঘটায় এমনটা হচ্ছে৷ সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ একদিকে কৃষকরা দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে সরবরাহ সংকটে ঢাকায় দাম বেড়ে যাচ্ছে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাল পরিবহনের ব্যবস্থা করা গেলে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এ অবস্থা ঘনীভূত হবে না৷’’

টিসিবির তথ্যানুযায়ী, এ সপ্তাহে প্রতিকেজি ছোলা ৮০-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহেও যা ৭৫-৮০ টাকা ছিল৷ মাঝারি মানের খেজুর প্রতিকেজি ৩০০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে তা যা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ছিল৷

বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা অবশ্য পণ্য পরিবহনে অসুবিধা ও লেবার না থাকার কথা বলছেন৷

রাজধানীর কাঁঠাল বাগান কাঁচাবাজারের একজন মুদি দোকানি বলেন, লেবার না থাকায় নিজে গিয়ে ডিলার থেকে মালপত্র কিনে আনতে হচ্ছে৷ গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাল পরিবহণ ব্যয়ও বেশি পড়ছে৷ তাছাড়া, ডিলারদেরও একই কারণে পরিবহন ব্যয় বেশি হচ্ছে৷

‘‘ঝুঁকি নিয়ে যারা মাল পরিবহণ করছে, তারা দাম বেশি রাখছে৷ ডিলারদের খরচ বেশি হওয়ায় তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরাও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি৷’’

চাল-ডালসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে: আজমল হোসেন

আজমল হোসেন নামে একজন বেসরকারি চাকুরে টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে বলেন, তিনি টিসিবিতে গিয়ে পণ্য পাননি৷

‘‘চাল-ডালসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে৷ আগে যে ডাল ৮০ টাকায় কিনতাম সেটা এখন ১০০ টাকা৷ আর ১০০ টাকার টা ১২০-১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে৷চালের দামও কেজি প্রতি ৫-৬টাকা করে বেড়ে গেছে৷ সবজির দাম বাড়তি৷ ভোজ্যতেল খুব একটা বাড়েনি৷ তবে মানুষ বেশি বেশি কেনায় পণ্য সংকট রয়েছে৷’’

দায়িত্ব পালন করতে বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ির শনির আখড়া মাছ বাজারে গিয়েছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফটো সাংবাদিক আসিফ মাহমুদ অভি৷ বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাজারে মানুষ গিজগিজ করছে৷ ‍চারদিন আগে আমি শিং মাছ ৪৪০টা এবং পাবদা মাছ ৩২০টাকা কেজি দরে কিনেছি৷ কিন্তু আজ সেগুলো কেজিতে যথাক্রমে ৪৮০ ও ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে৷ চিংড়ি মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি, যেটা ওই দিন ৪৫০ থেকে ৪৮০টাকা কেজি ছিল৷’’

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য