1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
দুর্যোগ

ইরাক ও ইরানে ভয়াবহ ভূমিকম্প

১৩ নভেম্বর ২০১৭

রবিবার ইরাক ও ইরানে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক তিন মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প৷ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, এতে এখন পর্যন্ত দুই দেশে ৩৩২ জন মানুষ নিহত হয়েছে৷ এখনও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে আছে অনেক মানুষ৷

https://p.dw.com/p/2nVyZ
ছবি: picture-alliance/dpa

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, দেশটিতে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৩২৮ জন মানুষ নিহত হয়েছে৷ আহত হয়েছে অন্তত আড়াই হাজার৷ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে অনেককে বের করে নিয়ে আসা হচ্ছে৷ ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছে কর্তৃপক্ষ৷ ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে আঘাত হেনেছে এই ভয়াবহ ভূমিকম্প৷ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেরমানশাহ প্রদেশ৷ এই প্রদেশে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে৷ এখানকার সারপোল-ই-জেহাব কাউন্টিতে ২৩৬ জন মারা গেছে, এলাকাটি ইরাক সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷

ভূমিকম্পের ফলে বেশ কয়েকটি জায়গায় ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে৷ ফলে উদ্ধার কাজ ব্যহত হচ্ছে৷ ইরানের অন্তত ১৪টি প্রদেশ ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোমবার হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন৷ সব সরকারি সংস্থার প্রতি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷ 

ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ইরাক ও ইরানের বেশ কয়েকটি শহর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে৷ আফটার শকের আশংকায় এখনো অনেকে রাস্তায় অবস্থান করছেন৷ ফলে তীব্র শীতে বেশ কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে তাঁদের৷

ইরানের ভূমিকম্প অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ১১৮টি ‘আফটার শক' গণনা করেছে৷ আরও আফটার শকের আশংকা করছে কর্তৃপক্ষ৷ ইরানের রেডক্রিসেন্টের প্রধান জানিয়েছেন, ৭০ হাজার মানুষের অবিলম্বে আশ্রয় প্রয়োজন৷ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি হোজ্জাত ঘারিবিয়ান সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘‘ভূমিকম্পের পর আমাদের বাড়িটি যখন ধসে পড়ে, আমরা দুই সন্তান তখন ঘুমাচ্ছিল৷ আমি তাদের কোলে নিয়ে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসি৷ তীব্র শীতের মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম৷ পরে উদ্ধারকর্মীরা এসে আমাদের একটা স্কুলে নিয়ে যায়৷''

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল রেজা রাহমানি জানিয়েছেন, অনেক রাস্তা বন্ধ হওয়ায় প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর ক্ষয়-ক্ষতি জানা সম্ভব হচ্ছে না৷ ইরানে প্রায়ই ভূমিকম্প আঘাত হানে৷ ২০০৩ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভয়াবহ ভূমিকম্পে ঐতিহাসিক শহর বাম-এ ৩১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল৷ 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, ইরানে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩৷ আর ইরাকে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫৷ ইরাকের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ভূমিকম্পে চারজন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক৷ স্থানীয়দের অনেকেই ভেবেছেন কোনো শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ হওয়ায় এলাকাটি কেঁপে উঠেছে৷ প্রতিটি ভবন এমনভাবে দুলে উঠেছিল যেন মনে হচ্ছিল এগুলো নাচছে – এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷

ইরাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দারবানদিখান এলাকা৷ ঐ একটি এলাকাতেই আহত হয়েছে ৩০ জন৷ তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ এলাকাটির প্রধান হাসপাতালটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ সেখানে বিদ্যুৎ চলে গেছে৷ ফলে আহতদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)