1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রেকর্ড পতন

২৮ আগস্ট ২০২০

বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানির মোট দেশজ আয় বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি নয় দশমিক সাত ভাগ কমেছে৷ ১৯৭০ সালে থেকে জিডিপির হিসাব চালুর পর এটি সর্বনিম্ন পতনের রেকর্ড৷

https://p.dw.com/p/3hcJz
ছবি: picture-alliance/Ulrich Baumgarten

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ৷ করোনার কারণে দেশটির ভোক্তা ব্যয়, বিনিয়োগ আর রপ্তানি তলানিতে ঠেকেছে৷ জুন পর্যন্ত তিন মাসে তাই জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে নয় দশমিক সাত ভাগ৷ 

এটি রেকর্ড হলেও অর্থনীতিবিদেরা এর চেয়েও খারাপ আশঙ্কা করেছিলেন৷ কারণ ফেডারেল স্ট্যাটিসটিকস অফিস এর প্রাথমিক হিসাবে এই সময়ে প্রবৃদ্ধি দশভাগের বেশি কমার প্রাক্কলন করা হয়েছিল৷ 

এর আগে ২০০৭-০৮ সালেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল জার্মান অর্থনীতি৷ এর প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের প্রথম তিন মাসে জিডিপি চার দশমিক সাত ভাগ কমেছিল৷ কিন্তু এখনকার মতো এতটা কমেনি আর কখনোই৷

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে-জুলাই মাসে ভোক্তা ব্যয় প্রায় ১১ ভাগ, মূলধনী বিনিয়োগ ১৯.৬ ভাগ আর রপ্তানি কমেছে ২০.৩ ভাগ৷ নির্মাণ খাতের কার্যক্রমের পরিসংখ্যানে জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরছে৷ সেখানে প্রবৃদ্ধি চার দশমিক দুই ভাগ হ্রাস পেয়েছে৷

করোনা সংকটের শুরুতেই আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল৷ বছরের প্রথম ছয় মাসেই ভোক্তা আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে খরচ করা হয়েছে ছয় হাজার ১০০ কোটি ডলার৷ তা সত্ত্বেও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পতন ঠেকানো যায় নি৷ 

অন্যদের তুলনায় ভালো
শুধু জার্মানি নয়, করোনায় বিশ্বের উন্নত সব অর্থনীতিই সংকটে আছে৷ এই ধরনের দেশগুলোর জোট জি সেভেন-এ জাপান ছাড়া বাকি সদস্যদের অবস্থা জার্মানির চেয়েও খারাপ৷ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ২০.৪ ভাগ কমেছে ব্রিটেনের৷ 

এরপরই আছে ফ্রান্স৷ ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.৮ ভাগ জিডিপি হারিয়েছে, যেখানে প্রথম তিন মাসে কমেছিল প্রায় ছয় ভাগ৷

করোনার কারণে ইটালির ১২.৪ ভাগ, ক্যানাডার ১২ ভাগ আর জাপানের প্রবৃদ্ধি কমেছে সাত দশমিক আট ভাগ৷ অন্যদিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা ওইসিডি এর ৩৭টি অর্থনীতির মোট জিডিপি প্রায় ১১ ভাগ পড়েছে৷

সামনে আশার আলো
অর্থনীতির এই নিম্নগতির পরিসংখ্যানেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে জার্মানিতে৷ বিধিনিষেধ শিথিলের পর আগস্টে ব্যবসা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে৷ যা কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশার চেয়েও ভালো বলে ইফো ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক রিসার্চ এর এক জরিপে উঠে এসেছে৷ জুলাইতে ব্যবসা পরিবেশ সূচকের যেখানে ৯০.৪ পয়েন্ট ছিল তা বেড়ে ৯২.৬ হয়েছে৷ ইফোর প্রেসিডেন্ট ক্লেমেন ফোস্ট বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘জার্মানির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে’’৷ 

বিশেষ করে সেবাখাতে ব্যবসার সূচকের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে৷ তাদের জরিপে আগামী ছয় মাসের চিত্রেও ইতিবাচক সম্ভবনারই আভাস মিলছে৷ 

তারপরও সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছর দেশটির অর্থনীতি ছয় দশমিক তিন ভাগ কমতে পারে৷ 

এফএস/কেএম (ডিপিএ, রয়টার্স)