1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

‌গৃহকর্মীদের সুদিন কি আসবে?

শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা
২০ জুন ২০১৮

নিজস্ব সংগঠন গড়লেন পশ্চিমবঙ্গের গৃহপরিচারিকারা, পেলেন শ্রম দপ্তরের স্বীকৃতি৷ কিন্তু কর্মী সংগঠন হিসেবে এই ‘শিরোপা' কি তাদের আদৌ সাহায্য করবে?‌ প্রশ্ন উঠছে৷

https://p.dw.com/p/2zu38
Haushalthilfe in Indien
ছবি: DW

প্রতিদিন রাতভোরে ট্রেনে চড়ে ওঁরা এসে পৌঁছান কলকাতা শহরে৷ প্রধানত দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসিন্দা সবাই৷ ক্যানিং, গোসাবা, নামখানা, লক্ষ্মীকান্তপুর৷ট্রেন খালি হতে থাকে গড়িয়ায়, যাদবপুরে, ঢাকুরিয়ায়, বালিগঞ্জ আর শিয়ালদা স্টেশনে৷ সুসংহত এক সেনাবাহিনীর মতো ওঁরা ছড়িয়ে যান বিভিন্ন পাড়ায়, চলে যান বহুতল আবাসনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের নির্দিষ্ট ঠিকানায়, যা ওঁদের কর্মক্ষেত্র৷ শহুরে বাবুরা শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার ওই ভোরের লোকাল ট্রেনকে ব্যাঙ্গ করে বলেন, ‘‌ঝি স্পেশাল'‌৷ কিন্তু ওই বাবুরাও বিলক্ষণ জানেন, একদিন ওই ঝি স্পেশাল না এলে, বা দেরিতে পৌঁছলে, বহু অফিসে কামাইয়ের হিড়িক পড়বে৷ যেহেতু ওই পরিচারিকাদের ভরসাতেই সংসার, বাবা-মা, ছোট ছেলে-মেয়েদের রেখে এই শহরের বহু কর্মরতা গৃহবধূ নিজেদের চাকরি সামাল দেন৷

‘আইন অনুযায়ী একটি জায়গাতেই দৈনিক সাড়ে আট ঘণ্টার হিসেবে কাজ করতে হবে’

অথচএই পরিচারিকারা এখনও বিরাট এক দল অসংগঠিত কর্মী হয়েই রয়ে গেছিলেন৷অসংগঠিত এবং অদক্ষ, যেহেতু রান্নাবান্না, ঝাড়ামোছা, ইত্যাদি ঘরের কাজে দক্ষতা মাপার কোনও একক কোনওদিন ছিল না এবং এখনও নেই৷ যদিও গত এক দশকে একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে৷ বিভিন্ন এজেন্সি বা আয়া সেন্টারের মাধ্যমে এই পরিচারিকাদের কাজে নিয়োগ করছেন অনেকেই৷ ফলে ওদের একটা নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বেঁধে দেওয়া গেছে এবং সেটাও সময় ধরে, হিসেব কষে৷ এ ধরনের পরিকাঠামো সবসময়ই তার আওতার বাইরের অসংগঠিত ক্ষেত্রে একটা প্রভাব ফেলে৷ পরিচারিকাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ অন্তত ন্যুনতম মজুরি ঠিক করার ক্ষেত্রে এজেন্সির বেঁধে দেওয়া রেট একটা নির্ণায়ক বিষয় হয়েছে৷ সোজা কথায়, মজুরি বেড়েছে পরিচারিকাদের৷

কিন্তু এতদিন গৃহপরিচারিকাদের নিজস্ব কোনো সংগঠন ছিল না, যা তাঁদের শ্রমশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে৷ ফলে যখন-তখন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা থেকে শারীরিক নিগ্রহ, এমনকি যৌন হেনস্থার অভিযোগও শোনা গেছে বিভিন্ন সময়ে৷ অবশেষে সেই অভাবও পূরণ হলো৷ চার বছর আগে তৈরি হওয়া ‘‌পশ্চিমবঙ্গ গৃহ পরিচারিকা সমিতি'‌ সম্প্রতি রাজ্য শ্রম দপ্তরের স্বীকৃতি পেলো ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে৷ সারা ভারতে এটিই পরিচারিকাদের প্রথম স্বীকৃত কর্মী সংগঠন৷ স্বাভাবিকভাবেই খুশিতে উদ্বেল সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত পরিচারিকারা, যাঁরা মনে করছেন, এতদিনে নিজেদের দাবিদাওয়া জোর গলায় জানানোর একটা আইনসঙ্গত মঞ্চ তাঁরা পেলেন৷

কিন্তু এই ট্রেড ইউনিয়নেরস্বীকৃতি কি গৃহ পরিচারিকাদের সব সমস্যার সমাধান খুঁজে দেবে?‌ তেমনটা মনে করছেন না প্রবীণ ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ বহু বছর ধরে রাজ্যের একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত শোভনদেব ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বললেন, এর যেমন ভালো দিক আছে, তেমন খারাপ দিকও আছে৷ এই গৃহ পরিচারিকারা অনেকেই এতদিন একাধিক জায়গায় কাজ করে বেশ ভালো রোজগার করেছেন৷ যে যত খাটতে পেরেছেন, তাঁর রোজগার তত বেশি হয়েছে৷ এবং এই রোজগারের অঙ্কটা অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া ন্যুনতম মজুরির থেকে অনেকটাই বেশি৷ তাঁদের হয়ত প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, বা চিকিৎসার জন্য ইএসআই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না, যেটা এই ট্রেড ইউনিয়ন স্বীকৃতির পর তাঁরা দাবি করতে পারবেন৷ কিন্তু অন্যদিকে, একাধিক বাড়িতে কাজ করা তাঁদের বন্ধ করতে হবে৷ আইন অনুযায়ী একটি জায়গাতেই দৈনিক সাড়ে আট ঘণ্টার হিসেবে কাজ করতে হবে এবং একমাত্র তখনই শ্রম আইন মোতাবেক তাঁরা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন৷ কিন্তু সেটা ওই অতিরিক্ত উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিনিময়ে৷

অভিজ্ঞ ট্রেড ইউনিয়ন নেতার বক্তব্যেই স্পষ্ট হলো, এই আইনি জটিলতা অনেকটাই কম করে দেবে শ্রমিক সংগঠনের স্বীকৃতি পাওয়ার প্রাথমিক উচ্ছ্বাস৷ গৃহ পরিচারিকাদের সামনের রাস্তাটা এখনও অনেক লম্বা৷ এখনও অনেকটা পথ হাঁটতে হবে তাঁদের৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য