1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

নতুন জোটকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী, তবে...

সমীর কুমার দে ঢাকা
২২ অক্টোবর ২০১৮

নতুন গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তবে সমালোচনাও করেছেন৷ বলেছেন, এই জোট ‘‘ছাল-বাকল দিয়ে তৈরি৷''

https://p.dw.com/p/36xAx
Bangladesch Premierministerin Sheikh Hasina zum Gesetz zur digitalen Sicherheit
ফাইল ফটোছবি: government's press department

সোমবার শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে৷ এখানে বিচার বিভাগ স্বাধীন, গণমাধ্যম স্বাধীন৷ যে কেউ ইচ্ছে করলে রাজনীতি করতে পারে৷ আমি নতুন জোটকে স্বাগত জানাই৷''

গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়৷

গত ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার  থেকে ১৯ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত সৌদি সফর করেন শেখ হাসিনা৷ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘খুনি, দুর্নীতিবাজ ও নারী কটূক্তিকারীদের ঐক্য হয়েছে৷ নতুন জোট সফল হলে অসুবিধা  কোথায়?''

নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সংসদে বিরোধী দলগুলো চাইলে এটা ছোট হবে, না হলে হবে না৷'' তিনি জানান, এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন৷ শেখ হাসিনা আরো বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ছোট মন্ত্রিসভা ও তখনকার বিরোধী দলকে নিয়ে সব দলের সরকার গঠনের কথা বলেছিলাম৷ এখন এটা দরকার আছে কিনা সেটা দেখা যাবে, কারণ, এখন মন্ত্রীসভায় সব দলের অংশগ্রহণ আছে৷

‘নেত্রী কারাগারে আছেন, তাঁকে মুক্তি দিতে হবে’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা তো শুরু থেকেই বলে আসছি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কথা৷ এখানে তাদের মন্ত্রীসভা ছোট করবে, না বড় করবে সেটা বড় বিষয় না৷ জনপ্রিয় নেত্রী কারাগারে আছেন, তাঁকে মুক্তি দিতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানালেন, এতে কিছু যায় আসে না৷ তিনি যদি আন্তরিক হন, তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দেবেন৷ সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, এখন আপনি সবাইকে গ্রেফতার করে জেলে বন্দি রেখে নির্বাচন করবেন, সেটা কি সুষ্ঠু হবে?'' 

সংবাদ সম্মেলনের প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তব্যে সৌদি আরব সফরের বর্ণনা দেন৷ তিনি  সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠকের আলোচিত বিষয় নিয়ে কথা বলেন৷ লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন৷ ড. কামাল  হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চান একজন সাংবাদিক৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি একে স্বাগত জানাই৷ তবে একটু লক্ষ্য রাখা দরকার, কারা কারা এক হলো৷ কোন চরিত্রের লোক তারা৷ এমনকি মেয়েদের প্রতি কার কী মন্তব্য৷'' তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তায় নেই৷ এখানে স্বাধীনতাবিরোধী আছে, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী আছে৷ সব মিলেই কিন্তু একটা হয়েছে৷ এর মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগে ছিল৷ তারা এখন আওয়ামী লীগের বিরোধী হয়েছে৷''

‘ সংবিধানে কিছুই বলা নেই,প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চাইবেন সেভাবেই মন্ত্রীসভা হবে’

সাংবাদিক সম্মেলনে ‘দৈনিক আমাদের নতুন সময়'-এর সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মন্ত্রীসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার এবার কখন হবে এবং তার ধরন কেমন হবে? উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ছোট না করলে কোনো অসুবিধা আছে কিনা৷ তখন নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কোনো সমস্যা নেই৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, কোথাও নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয় না৷ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা কেন পুনর্গঠন করা হয়েছিল, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘সে সময় বিরোধী দলে থাকা বিএনপি নির্বাচনে আসতে রাজি হচ্ছিল না বলে তখন তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷ তারা যে মন্ত্রণালয় চায়, সেই মন্ত্রণালয়ই দেওয়া হবে বলেছিলাম৷ তারা যখন আসেনি, তখন বিভিন্ন দল নিয়ে ছোট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল৷ এবার তো সবাই মন্ত্রিসভায় আছে৷''

নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়েসংবিধানে কী বলা আছে? সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এ বিষয়ে সংবিধানে কিছুই বলা নেই৷ প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চাইবেন সেভাবেই মন্ত্রীসভা হবে৷ ৬০ সদস্যেরও হতে পারে, ছোটও হতে পারে৷ পুরো বিষয়টাই প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভর করবে৷ তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে এটা নিয়ে আলোচনা করতে পারতো৷ কিন্তু তারা পোষ্ট অফিসের মতো কাজ করছে৷ এখন আর সেই আলোচনার সময় নেই৷ কয়েকদিন পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা৷ এখন তারা দৈনন্দিন কাজই করছে৷ গত দুই বছরে তারা চাইলে এটা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে পারতো৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য