1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বিশ্ব বনাম ট্রাম্প

১ জুন ২০১৭

বৃহস্পতিবার দিনটি বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে৷ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্যারিস চুক্তি থেকে অ্যামেরিকা সরে আসবে কিনা, তা ঘোষণা করত পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷

https://p.dw.com/p/2dx5Z
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: Reuters/D. Martinez

নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও তাতে মানুষের হাত নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে অ্যামেরিকার কোম্পানিগুলির মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে৷ তখনই প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি৷ তবে বাকি অনেক বিষয়ের মতো তড়িঘড়ি করে নির্বাহী আদেশ জারি করে সেই হুমকি কার্যকর করেননি৷ চুক্তির পক্ষে ও বিপক্ষে নানা বক্তব্য শুনে বিষয়টি নিয়ে ভালো করে ভাবনাচিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন৷ বৃহস্পতিবার তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত জানাবেন, এমনটাই জানিয়েছেন ট্রাম্প৷

বলা বাহুল্য, অ্যামেরিকার মতো দূষণকারী ও গুরুত্বপূর্ণ দেশ প্যারিস চুক্তি বাতিল করলে তার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে৷ একমাত্র নিকারাগুয়া ও সিরিয়া এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি৷

২০১৫ সালে ১৯৫টি দেশ ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব আবার তুলে ধরার চেষ্টা করছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একাংশ৷

ফলে সারা বিশ্ব ট্রাম্প প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে৷ এমনকি অ্যামেরিকার অনেক বড় মাপের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও ব্যবসায়িক স্বার্থে এই চুক্তি বাতিল না করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আবেদন জানিয়ে আসছে৷ জ্বালানি কোম্পানি এক্সন মোবিল, অ্যাপল, ইউনিলিভার, টেসলা সেই উদ্যোগে শামিল হয়েছে৷

অ্যামেরিকা জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সে দেশের সম্পর্কের আরও অবনতির আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল৷ যার ফলে আখেরে বৃহত্তর মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি হতে পারে৷ অ্যামেরিকার প্রভাব-প্রতিপত্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে৷ ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক ইউরোপ সফরে যে আচরণ করেছেন, তার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেড়ে গেছে৷

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার বুধবার ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জলবায়ু চুক্তির উপর ৮৩টি দেশের অস্তিত্ব নির্ভর করছে৷ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে এই দেশগুলি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে এলে প্রতিরোধ করাই ইউরোপের দায়িত্ব৷ ট্রাম্প সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্মক ভঙ্গীতে ইয়ুংকার বলেন, আইনে যা লেখা আছে, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলিতে যা লেখা আছে, তা সব ‘ফেক নিউজ' বা ভুয়া খবর নয়৷ সেগুলি মেনে চলতে হয়৷

শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীন প্যারিস চুক্তির প্রতি তাদের আস্থা দেখানোর তোড়জোড় করছে৷ ভারত এর মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, সে দেশ এই চুক্তি কার্যকর করার পথে অটল রয়েছে৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, ডিপিএ)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য