1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

‌বাংলাতেও এনআরসি?‌

শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা
১৯ জুলাই ২০১৯

ভোটার তালিকা সংশোধনের অছিলায় পশ্চিমবঙ্গেও কি চুপিসারে চালু হয়ে গেল নাগরিকপঞ্জি, বা এনআরসি–র কাজ?‌সাম্প্রতিক এক ঘটনায় তারই অশনি সংকেত৷

https://p.dw.com/p/3MItc
ছবি: Getty Images/AFP/D. Dutta

সাধারণভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হয় ভোটের আগে৷ কিন্তু এবার ভোটের পর শুরু হয়েছে সরকারি তৎপরতা৷ সদ্য হয়ে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, এমন বেশ কিছু লোককে ‘‌মৃত’, বা ‘‌অস্তিত্বহীন’, অথবা ‘‌শিফ্‌টেড'‌, অর্থাৎ অন্যত্র চলে গেছেন বলে দাগিয়ে দিয়ে ডাক পাঠানো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে৷ প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে তাঁদের জীবিত থাকার, বা অস্তিত্ব কিংবা বাসস্থানের৷ খাস কলকাতা শহরে এরকম কিছু ঘটনা সম্প্রতি নজরে এসেছে, যার সবকটিতেই একটি বিষয় এক৷ যাঁরা ডাক পেয়েছেন, তাঁরা সবাই ধর্মত মুসলমান৷ এবং তাঁদের কেউ কেউ সমাজের রীতিমত বিশিষ্ট নাগরিক৷ আরও একটি বিষয় এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যে নির্বাচন কমিশনের নামে তলব করলেও এঁদের হাজিরা দিতে হচ্ছে কমিশন ভবনের আলাদা একটি দপ্তরে, যেটি এই বিশেষ ঝাড়াই–বাছাইয়ের জন্যেই যেন তৈরি হয়েছে৷

‘‌‘‌৪০ বছরে কক্ষনো এই রুটিন চেক আপের খপ্পরে আমরা পড়িনি!‌’‌’‌

সাধারণভাবে বাঙালিরা, বা বাংলা সংবাদ মাধ্যম এখনও এই তৎপরতার খবরে আদৌ বিচলিত নয়৷ বস্তুত ডয়চে ভেলেই প্রথম সংবাদ সংস্থা, যারা খবরটি পেয়ে গভীরতর অনুসন্ধানে প্রয়াসী হয়েছে৷ ডয়চে ভেলে কথা বলেছিল কলকাতার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবদুর রউফের সঙ্গে৷ তিনি নন, ডাক পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী, যিনি গত ৪০ বছর ধরে পার্ক সার্কাস অঞ্চলের বাসিন্দা৷ আর সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে আবদুর রউফের একমাত্র পুত্র সম্পর্কে, যিনি আপাতত অনাবাসী ভারতীয়৷ ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার পর নেদারল্যান্ডসে চাকরি করছেন৷ তাঁর জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা, স্কুলকলেজ কলকাতাতেই৷ ঘটনাচক্রে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসার সুযোগে তিনি এবারের সংসদীয় নির্বাচনেও ভোট দিয়ে গেছেন৷ তাও মা-ছেলের তথ্য-তালাশ সম্পর্কে সন্দিহান সরকার৷

‘‌‘‌সামগ্রিকভাবে বাঙালি হবে টার্গেট!‌’‌’‌

আবদুর রউফ খুব স্পষ্টভাষাতেই ডয়চে ভেলেকে জানালেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এটি সুকৌশলে এনআরসি চালু করার প্রক্রিয়া বলেই তাঁর মনে হচ্ছে৷ যে হুমকি সদ্য রাজ্যসভায় ফের দিয়েছেন বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যে ভারতের সব রাজ্যে এনআরসি চালু হবে৷ কিন্তু যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ওই ধরনের কোনও ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়া এই রাজ্যে চালু না করতে দিতে অনড়, ঘুরিয়ে এই কাজ শুরু করে দিয়েছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ, যাঁরা সম্ভবত বিজেপি-আরএসএস গোষ্ঠীর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী৷ বলছেন আবদুর রউফ৷ তাঁর স্ত্রী হাজিরা দিয়ে সব প্রমাণপত্র দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বলেছেন, ‘‌ভুল হয়ে গেছে’৷ তবে এটা নাকি নৈমিত্তিক সংশোধনী৷ রুটিন চেক আপ৷ ‘‌‘‌৪০ বছরে কক্ষনো এই রুটিন চেক আপের খপ্পরে আমরা পড়িনি!‌’’ ডয়চে ভেলেকে জানালেন আবদুর রউফ৷

সাধারণভাবে মনে করা হচ্ছে, মুসলমানদেরই বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে৷ কিন্তু কলকাতার বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক সৈয়দ হাসমত জালাল, যিনি শহরের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের পরিচিত মুখ, তিনি কিন্তু ডয়চে ভেলে–কে বললেন, ‘‌‘‌সামগ্রিকভাবে বাঙালি হবে টার্গেট!‌’’ অর্থাৎ কেবল মুসলমান নয়, সমস্ত বাঙালি এবং বাংলা সংস্কৃতিকে নষ্ট করাই ওদের লক্ষ্য, যারা হিন্দি এবং হিন্দু সংস্কৃতি জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়৷ কিন্তু আফশোসের ব্যাপার, যে বাঙালি এই বিপদ নিয়ে এখনও সচেতন নয়৷ অসমে এখন যা ঘটছে, তা বাংলাতেও যে ঘটতে পারে, এটা এখনও কেউ বুঝছেন না৷