1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

শস্যের বীজকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ

১৭ ডিসেম্বর ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিকাজের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে৷ এই প্রক্রিয়ার মোকাবিলা করতে শস্যের বীজকে শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছেন গবেষকরা৷ জার্মানিতে সেই লক্ষ্যে অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে৷

https://p.dw.com/p/3Uxaq
ছবি: DW

তীব্র তাপপ্রবাহের মুখে এই গম গাছের শিকড় কেমন আচরণ করে? লাগাতার পর্যাপ্ত পানি না পেলে ছয়, নয় বা বারো দিন পর গাছের কী অবস্থা হয়?

রোব্যার্ট কলার-এর নেতৃত্বে এক গবেষকদল গাছপালার জন্য উপযুক্ত এমআরটি যন্ত্রের মাধ্যমে আগেভাগেই তার পূর্বাভাষ দিতে পারেন৷ কলার বলেন, ‘‘পাতা ঝুলে পড়ার আগেই আমরা টের পাই৷ বিপাকের মধ্যেই গাছের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়৷ খালি চোখে তা বোঝা যায় না৷ আমরা তখন আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি৷''

এই সব হাইটেক যন্ত্রের সাহায্যে কৃষির উপযুক্ত গাছপালা সম্পর্কে নিখুঁতভাবে গবেষণা চালানো হচ্ছে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উপেক্ষা করে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য৷ বিশেষ করে স্ট্রেসের মুখে শিকড়ের বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে৷ ড. কলার জানান, ‘‘যে সব ক্ষেত্রে রং আরও উষ্ণ হয়ে ওঠে, যেমন লাল রং শিকড়ের বর্ধিত বৃদ্ধির হার দেখাচ্ছে৷ রং আরও শীতল, নীলাভ হয়ে উঠলে বুঝতে হবে শিকড়ের বৃদ্ধি তেমন জোরালো নয়৷''

রেডিওলজিকাল যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গম, ভুট্টা বা আখ নষ্ট না করেও গাছের মধ্যে উঁকি মারা যায়৷ বেড়ে ওঠার সময় এভাবে গাছের কাঠামোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা সম্ভব৷ গাছ সম্পর্কে সব তথ্য একটি বারকোডের মধ্যে জমা রাখা হয়৷ ইয়ুলিশ গবেষণা কেন্দ্রের ড. রোব্যার্ট কলার বলেন, ‘‘বারকোডের মধ্যে এক তথ্যভাণ্ডার লুকিয়ে রয়েছে৷ অর্থাৎ সেই তথ্যভাণ্ডারের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার বা সূচক রয়েছে, যার সাহায্যে আমরা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি৷ যেমন আমরা জানি, বীজ কতটা কঠিন ছিল অথবা গাছের কী চিকিৎসা করছি ইত্যাদি৷''

বীজই সবকিছুর উৎস৷ একটি যন্ত্রের মাধ্যমে সেটির নিখুঁত পরিমাপ করা হয়, ওজন নেওয়া হয় এবং ফলাফল নথিভুক্ত করা হয়৷ এভাবে প্রজননের জন্য সেরা গুণাগুণের খোঁজ চলছে৷ ড. কলার জানান, ‘‘আমরা ভালো প্রস্তাব দেবার চেষ্টা করছি৷ দেখো আমরা গাছের এমন গুণ আবিষ্কার করেছি, যার মাধ্যমে গাছ শুকনা অবস্থাও উপেক্ষা করতে পারে৷ যেমন আরও দীর্ঘ সময় জুড়ে শিকড়ের বৃদ্ধি অথবা আরও গভীরে শিকড় চালনা করা৷ তোমরা প্রজনন প্রক্রিয়ায় এই বিষয়গুলি বিবেচনা করতে পারো, যাতে গাছপালাগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেবার প্রস্তুতি নিতে পারে৷''

নর্মান ভিল্কে এই গবেষকদলের সদস্য৷ একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেতে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে৷ নর্মান কোনো এক সময়ে উপর থেকে সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতির পরিমাপ করতে চান৷ পূর্বাভাষ অনুযায়ী ২০৫০ সাল পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে উঠবে৷ এভাবে ভবিষ্যতের জলবায়ুর নকল সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ ভিল্কে বলেন, ‘‘অর্থাৎ কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়লে জেনোটাইপগুলি কীভাবে বিকৃত হতে পারে, ড্রোন ব্যবহার করে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে৷''

এই গবেষণা চাষিদের সাহায্য করবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ ড. ভিলি ক্রেমার শিলিংস তাঁদেরই একজন৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাঁদের উপর চাপ বাড়ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘যে বছর প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, সে বছর সম্পূর্ণ খরা-প্রতিরোধী বীজ আমাদের কোনো কাজে আসবে না৷ আমাদের এমন বীজের প্রয়োজন, যেটি পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে৷ বিশেষ করে কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে পরীক্ষার সময় সেটিকে শক্তিশালী থাকতে হবে৷ পূর্বাভাষের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত ভালো মনে করি৷ ২০৫০ সালের পূর্বাভাষ পেলে প্রজননকারীরা আজই আগামীকালের বীজ সৃষ্টি করতে পারবেন৷''

এভাবে প্রকৃতির মধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চাবিকাঠি পাওয়া যাবে, এমন আশা করা হচ্ছে৷

সিগরিড লাউফ/এসবি