1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের হামলা

১৪ এপ্রিল ২০১৮

সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর ডুমায় ‘রাসায়নিক হামলার' জন্য আসাদ বাহিনীকে দায়ী করে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে আক্রমণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স৷ এর সমর্থন দিয়েছে জার্মানি, সতর্ক করেছে রাশিয়া৷

https://p.dw.com/p/2w2ju
ছবি: picture alliance/AP Photo/H. Ammar

শুক্রবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ থেকে সিরিয়ায় আক্রমণ শুরুর ঘোষণা দেন৷ ঘোষণায় বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে, যেখানে রাসায়নিক অস্ত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘‘একজন দানবের চালানো হামলায় বাবা, মা, নবজাতক, শিশু ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে আছে৷ তারা শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে৷ এটা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না৷ এ সব অপরাধ একজন দানবের পক্ষে করা সম্ভব৷''



টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘কিছুক্ষণ আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়েছি৷ (সিরিয়ায়) বর্বরতার বিরুদ্ধে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের ক্ষমতাকে সংহত করবে৷''

৮ মিনিটের ঐ ভাষণে সিরিয়ার ‘স্বৈরশাসককে' সমর্থন দেওয়ায় রাশিয়া ও ইরানেরও সমালোচনা করেন তিনি৷ ট্রাম্প বলেছেন, আসাদ সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের আক্রমণ চলবে৷

ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার স্থানীয় সময় ভোর চারটায় রাজধানী দামেস্কে বড় ধরনের বিস্কোরণের শব্দ পাওয়া যায়৷ দামেস্কের পূর্বাঞ্চল কমলা রং ধারণ করে৷ এক প্রত্যক্ষদর্শী দামেস্কে অন্তত ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা ও আকাশে ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানান৷ অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী দামেস্কের কাছে একটি শহরেও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছেন৷


এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রবাহিনীর এই হামলাকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘‘সিরিয়ায় সামরিক হামলার প্রয়োজন ছিল এবং তা যথার্থ৷ তিন দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যে দায়িত্ব নিয়ে এই আক্রমণ চালিয়েছে, তাতে আমার সমর্থন রয়েছে৷''

প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁও সিরিয়ায় একযোগে হামলার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন৷ মে বলেছেন, ‘‘সিরিয়ায় হামলা না চালিয়ে যুক্তরাজ্যের উপায় ছিল না৷ রাসায়নিক অস্ত্রগুলো ধ্বংষ করতেই এ হামলা এবং সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই৷''

এদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্যের চালানো যৌথ এ হামলা ‘ব্যর্থ' হয়েছে বলে দাবি করেছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম৷ একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন' হিসেবেও অভিহিত করেছে তারা৷ ২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আসাদবাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসা রাশিয়া হামলার পালটা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে৷

জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভ বলেছেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ এবং সেই পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে ওয়াশিংটন, লন্ডন আর প্যারিস৷''

পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড সিরিয়ার তিনটি স্থাপনায় একযোগে চালানোর কথা জানান৷ লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি গবেষণাগার ও রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ করে রাখা হয়েছে এমন একটি কারখানা ছিল বলেও তাঁর দাবি৷

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, হামলায় সিরিয়ার তিনটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে দু'টির অবস্থান দামেস্কে, অন্যটি হোমসে৷

যুক্তরাষ্ট্র আর তার পশ্চিমা মিত্রদের এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে সিরিয়ায় গত সাত বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সিরিয়া ও তাদের মিত্রবাহিনীগুলো বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গুটায় সেনা অভিযান শুরু করে৷ তাদের আক্রমণে বেশিরভাগ বিদ্রোহীগোষ্ঠী পিছু হটতে বাধ্য হয়৷ এ মাসের শুরুতে বিভিন্ন আন্তর্জতিক সংবাদমাধ্যম সিরিয়ায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত কয়েকটি দাতব্য সংস্থার বরাত দিয়ে ডুমায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার খবর প্রকাশ করে৷ এই হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে বিভিন্ন ত্রাণ সংগঠনের পক্ষ থেকে৷

এই হামলা কতটা যৌক্তিক, লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)