1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সৌদি সাংবাদিককে ‘হত্যা করা হয়েছে’

৭ অক্টোবর ২০১৮

তুরস্ক দাবি করেছে, এক নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিককে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে এক বিশেষ ‘হিট স্কোয়াড’ হত্যা করেছে৷ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত সেই সংবাদভাষ্যকারকে সর্বশেষ কনস্যুলেটে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল৷

https://p.dw.com/p/367WR
জামাল খাসোগি
ছবি: Getty Images/AFP/M. Al-Shaikh

তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে সবচেয়ে বড় তুর্কি শহর ইস্তানবুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে সম্ভবত হত্যা করা হয়েছে৷ একাধিক সংবাদমাধ্যম রবিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷

গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং এপি জানিয়েছে, তুর্কি পুলিশের প্রাথমিক মূল্যায়ন হচ্ছে, খাসোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে৷ এই হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং হত্যার পর তাঁর মরদেহ কনস্যুলেট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ 

ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার জন্যও কাজ করতেন খাসোগি৷ পত্রিকাটি গোপন সূত্রের বরাতে লিখেছে, এই সাংবাদিককে হত্যা করার জন্য সৌদি আরব থেকে ১৫ সদস্যের একটি টিম ইস্তানবুলে এসেছিল৷ হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পতি ছিল৷ 

এদিকে, ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তুর্কি পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, সৌদি আরব থেকে আসা একটি দল সাংবাদিককে হত্যা করেছে এবং সেদিনই দলটি দেশে ফিরে গেছে৷

জার্মান বার্তাসংস্থা ডিপিএ-ও একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে৷ খাসোগির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু পুলিশের বরাতে বার্তাসংস্থাটিকে জানিয়েছেন যে, সৌদি সাংবাদিকের মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়েছে৷

খাসোগিকে অপহরণ করা হয়েছে এমন সব খবর প্রত্যাখান করেছেন সৌদি আরবের কনসসাল-জেনারেল৷ তিনি বরং বার্তাসংস্থা রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন, আলোচিত সাংবাদিককে খুঁজে বের করতে সহায়তা করছে সৌদি আরব৷ 

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে নিঁখোজ রয়েছেন খাসোগি৷ সৌদি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, তিনি সেদিন কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু তুর্কি কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সব তথ্যপ্রমাণই এই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি কনস্যুলেট থেকে বের হননি৷ সাংবাদিকের পরিনতি জানতে শনিবার ভোর থেকে তদন্ত শুরু করেছে আঙ্কারা৷

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত জামাল খাসোগি৷ তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, তাঁর লেখালেখির কারণে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেন৷ তুর্কি সঙ্গিনীকে বিয়ে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে মঙ্গলবার সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন তিনি৷ এরপর থেকে তাঁর কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না৷

এআই/এসিবি (রয়টার্স, এফপি, এপি, ডিপিএ)