1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

হাতির শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধী ‘জম্বি' কোষ

১৯ আগস্ট ২০১৮

একই বয়সের মানুষের চেয়ে হাতির ক্যানসারে মৃত্যুহার অনেক কম৷ প্রাণীর দেহে বিশেষ এক ধরনের সুপ্ত জিন আছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরে ফেলতে পারে৷ হাতি এ জিন কাজে লাগাচ্ছে ক্যানসার প্রতিরোধে৷

https://p.dw.com/p/33IeO
ছবি: picture alliance/dpa/S. Meyers

বিশ্বের ১৭ শতাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে৷ হাতির ক্ষেত্রে এ হার কেবল ৫ শতাংশ৷ কিন্তু হাতিও মানুষের মতোই গড়ে ৭০ বছরের কাছাকাছি বাঁচে৷

আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, ক্যানসার সৃষ্টিতে যেসব কোষ ভূমিকা রাখে, হাতির শরীরে সেসব কোষের সংখ্যা মানুষের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি৷ অবাক হওয়া স্বাভাবিক, কী আছে হাতির শরীরে?

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিনসেন্ট লিঞ্চের নেতৃত্বে উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু জেনেটিক্স গবেষক ধারণা করছেন, এই ঘটনায় জড়িত একটি বিশেষ জিন- পি৫৩৷

মানুষসহ প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এই জিন একটি করে রয়েছে৷ এই জিনের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ চিহ্নিত করে তাকে ধ্বংস করে ফেলা৷ শরীরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতোই কাজ করে এ জিন৷

হাতির শরীরে বেশি জিন

গবেষকরা একটি তথ্য জেনে অবাক হয়েছেন যে, হাতির শরীরে এই বিশেষ জিন আছে ২০টি৷ এর ফলে হাতির শরীরে এই ব্যবস্থা আরো দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করে৷ ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সময়মতো ধ্বংস করতে না পারলে তা একসময় টিউমারে রূপ নেয়৷

তবে গবেষকদের মূল আবিষ্কার অবশ্য অন্য জায়গায়৷ লিঞ্চ বলছেন, ‘‘জিন সবসময়ই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে থাকে৷ কখনো কখনো তারা ভুলও করে, ফলে তৈরি হয় জিনের কিছু অকার্যকর ছদ্মজিন৷''

পি৫৩ নিয়ে গবেষণার সময় গবেষকরা আরেক জিনের খোঁজ পান, যার নাম লিউকোমিয়া ইনহিবিশন ফ্যাক্টর ৬, সংক্ষেপে এলআইএফ৬৷

 গবেষকরা বলছেন, মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকলেও হাতির শরীরে হঠাৎ করে কাজ করা শুরু করেছে এই জিনটি৷ বলতে গেলে মৃত্যু থেকেই ফিরে এসেছে জিনটি৷

‘জোম্বি জিন'

হাতির শরীর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সরিয়ে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই এলআইএফ৬ জিন৷ কোষের শক্তিকেন্দ্র বলে পরিচিত মাইটোকন্ড্রিয়ায় ছিদ্র করে কোষকে মেরে ফেলে এই জিন৷

লিঞ্চ বলেন, ‘‘এটা অসাধারণ, কারণ, যখনই ক্যানসারের কোষ তৈরি হওয়া শুরু করে, তখনই তা সরিয়ে ফেললে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় নির্মূল হয়ে যায়৷''

২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন বছর আগে এই জিন হাতির পূর্বপুরুষ হাইরেক্সের শরীরে কার্যকর ছিল৷ তবে হাইরেক্সের আকার ছিল বানরের আকারের কাছাকাছি৷ হাতির বিশাল আকৃতিও ক্যানসার প্রতিরোধী এই জিনকে জাগিয়ে তোলার আংশিক কারণ বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা৷

বড় প্রাণীর দেহে কোষের সংখ্যা বেশি, ফলে কোষ বিভাজনের পরিমাণও বেশি৷ ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা, বড় প্রাণীদের ক্ষেত্রে টিউমার কোষ সারানো বা সরিয়ে ফেলতেও বেশি কার্যকর মেকানিজমের প্রয়োজন হয়৷

হাতির শরীরের এই ক্যানসারবিধ্বংসী পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন লিঞ্চ ও তাঁর সহকর্মীরা৷

আপনার মতামত লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

ফাবিয়ান স্মিডট/এডিকে