‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র'

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও৷ রাশিয়া সফরে গিয়ে এ কথা বলেছেন তিনি৷

 ইরানের সাথে এখনই কোনো যুদ্ধের ইচ্ছা নেই যুক্তরাষ্ট্রের৷ রাশিয়া সফরে গিয়ে এভাবেই আশ্বস্ত করলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও৷ ‘‘আমরা মূলত ইরানের সাথে কোনো যুদ্ধ চাচ্ছি না,'' রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে রুদ্ধদার বৈঠক  শেষে বলেন তিনি৷ ‘‘কিন্তু আমরা ইরানকে এটিও পরিস্কারভাবে জানিয়েছি যে, আমাদের স্বার্থে কোনো আঘাত হানা হলে আমরা অবশ্যই যথাযথ উপায়ে তার জবাব দেবো,'' এমনটাও উল্লেখ করেছেন পম্পেও৷

ওয়াশিংটন পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে৷ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা৷ গত বছর পরামাণু চুক্তি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে আসার ঘোষণার পর ওয়াশিংটন তেহরানের উপর নতুন করে অবরোধও আরোপ করেছে৷ অন্যদিকে পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরানও৷ এ অবস্থায় পারস্য উপসাগরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে৷

সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের ইরান সংক্রান্ত দূত ব্রায়ান হুক৷ ইরানের হুমকি প্রদর্শনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিরক্ষমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘সমস্যা হলো, ইরানের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছাড়া শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের চিন্তা করা অসম্ভব৷ আর তাই ইরানকে আমরা স্বাভাবিক আচরণ করতে বলছি৷''  

ইরান আন্দোলনে বিদেশি ইন্ধন?

হতাশার বিক্ষোভ

২৮ ডিসেম্বর শুরু হয় আন্দোলন৷ মূলত কর্মহীনতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ধনী-গরিবের বিভাজনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তেহরানের রাজপথে৷ কিন্তু দ্রুত সেই আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়৷

ইরান আন্দোলনে বিদেশি ইন্ধন?

গরিবের বিক্ষোভ

মূলত ইরানের গরিব মানুষেরা এই বিক্ষোভে যোগ দেন৷ দেশের সব প্রদেশ থেকেই দলে দলে মানুষ তেহরানে এসে ভিড় জমান৷ প্রদেশগুলিতেও বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়৷

ইরান আন্দোলনে বিদেশি ইন্ধন?

বিক্ষোভের মন্ত্র

আন্দোলনের নেতা কে, সে বিষয়ে ধন্ধে ছিল সরকার৷ রাজনৈতিক মহলের মতে এটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন৷ বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ইরান সরকার লেবাননের হিজবুল্লাহ জঙ্গিদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করুক৷ সিরিয়া এবং ইরাকের রাজনীতিতে নাক গলানো বন্ধ করে বরং অভ্যন্তরীন বিষয়ে মন দিক ইরান সরকার৷

ইরান আন্দোলনে বিদেশি ইন্ধন?

বিক্ষোভ বিরোধিতা

বিক্ষোভের পাঁচদিনের মাথায় প্রথম মুখ খোলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি৷ অভিযোগ করেন, ‘ইরানের শত্রু’রা বিক্ষোভকারীদের হাতে অর্থ, অস্ত্র এবং আন্দোলনের নানাবিধ হাতিয়ার তুলে দিচ্ছে৷ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের স্থিতিশীলতা টলিয়ে দেওয়ার জন্যই এই কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি৷

ইরান আন্দোলনে বিদেশি ইন্ধন?

বিক্ষোভ দমন

বিক্ষোভ দমন করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়৷ প্রায় ৪৫০ জন আন্দোলনকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করে৷ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্ততপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে৷ ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্বের পর ইরানের রাজপথ এত বড় বিক্ষোভ দেখেনি৷

ইরান আন্দোলনে বিদেশি ইন্ধন?

বিক্ষোভ আলোচনা

ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বিশ্বের অন্যান্য দেশ৷ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং অ্যামেরিকা ইরানের বিক্ষোভ এবং সরকারের ভূমিকার পক্ষে-বিপক্ষে মত প্রকাশ করে৷ রক্তক্ষয়ের বিষয়টি নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন মহল৷

ইরান আন্দোলনে বিদেশি ইন্ধন?

পাল্টা বিক্ষোভ

আন্দোলনের ১ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘোষণা করে, আন্দোলন বন্ধ হয়েছে৷ আয়াতুল্লাহ খামেনির পক্ষেও বিশাল মিছিলের আয়োজন হয়৷ তবে বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভ এখনও অব্যাহত৷

রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন

নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র৷ পম্পেও বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থের সত্যিকারের কিছু বিষয় রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়৷ এ নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পুটিনও৷ ‘‘আমাদের দিক থেকে আমরা বারবার বলেছি যে, পরিপূর্ণ সম্পর্ক পুনরায় চালু করতে চাই আমরা৷ আশা করছি এজন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো তৈরি করা হবে,'' বলেন তিনি৷ তবে পম্পেওর সফরে দুই দেশের মতপার্থক্যগুলোও উঠে এসেছে৷ সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে অবিশ্বাস রয়েছে, তা দুই দেশের নিরাপত্তার জন্যই অন্তরায়৷

পম্পেওর সাথে বৈঠকের শুরুতে পুটিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে দেয়া মুলারের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন৷ বলেন, এটি প্রমাণ হয়েছে, যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ মিথ্যা৷  তিনি আশা করেন দুই দেশের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন রয়েছে, সেই পরিস্থিতি আগামীতে বদলে যাবে৷

আলোচনায় ভেনেজুয়েলা ইস্যুও প্রাধান্য পেয়েছে৷ মাদুরোকে সহযোগিতা না দেয়ার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহবান জানান পম্পেও৷ মাদুরো ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য দুর্দশা তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশটিতে যাতে গণতন্ত্র ফিরে আসে, যুক্তরাষ্ট্র সেই চেষ্টা করছে৷ ‘‘আমরা আশা করছি মাদুরোকে রাশিয়ার দেয়া সহায়তার অবসান ঘটবে,'' বলেন পম্পেও৷

তবে সংবাদ সম্মেলনেই তাঁর সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে লাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ভেনেজুয়েলার সরকারকে যে হুমকি প্রদর্শন করছে তার সাথে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই৷

এফএস/এসিবি (এপি,ডিপিএ,রয়টার্স)

আমাদের অনুসরণ করুন