কাবুলে গাড়ি বোমা হামলা, দায় স্বীকার তালিবানের

সোমবার কাবুলে এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে তালিবান৷ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা হামলার লক্ষ্য ছিল বলে তারা দাবি করছে৷ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট এই হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছেন৷

সোমবার সকালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত ও প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছে৷ বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে তিনটি গাড়ি ও ১৫টি দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে৷ তার মধ্যে যাত্রীবোঝাই একটি মিনিবাসও ছিল৷ একটি সূত্র অনুযায়ী আততায়ী বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি নিয়ে সেই বাসে ধাক্কা মারে৷ হতাহতদের মধ্যে অনেক সরকারি কর্মী ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একটি বাসে খনি মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মী নিহত হয়েছেন৷ তিনি এই হামলাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' হিসেবে বর্ণনা করেন৷

সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-র সূত্র অনুযায়ী তালিবান এই হামলার দায় স্বীকার করেছে৷ তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে এই দাবি করেছেন৷ তিনি আরো জানান, আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এনডিএস-এর দু'টি এই হামলার লক্ষ্য ছিল৷ হামলায় এই সংস্থার ৩৭ জন নিহত হয়েছে বলেও মুজাহিদ দাবি করেছেন৷

প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এক বিবৃতিতে বলেন, এই সন্ত্রাসবাদীরা আবার নিরীহ মানুষের উপর হামলা ও সরকারি কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে৷

আফগানিস্তানের ‘ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ' মহম্মদ মোহাকিকের বাসভাবনের কাছে এক চেকপয়েন্টের সামনে এই হামলা ঘটে৷ তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন৷ আরও বেশ কয়েকজন রাজনীতিকের বাসভবন এই এলাকায় অবস্থিত৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাস্থলের বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে৷ কাবুলের পশ্চিমে এই এলাকায় সংখ্যালঘু শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ বসবাস করে৷

গত বছর ঠিক এই দিনেই তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর এক হামলায় ৮০ জনেরও বেশি নিহত ও ২৩০ জন আহত হয়েছিল৷ চলতি বছর কাবুল শহরে এই নিয়ে ১০টি বড় আকারের হামলা ঘটলো৷ জাতিসংঘের সূত্র অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথমার্ধে গোটা দেশে কমপক্ষে ১,৬৬২ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে৷ এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই কাবুল শহরে হামলার শিকার হয়েছেন৷ দেশের প্রায় অর্ধেক প্রদেশেই হিংসার মাত্রা বেড়ে গেছে বলে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন ইউএনএএমএ জানিয়েছে৷

খেলনা!

কাবুলে যু্দ্ধাহতদের জন্য তৈরি একটা নকল হাত নিয়ে খেলছে দুই কিশোরী৷ এমন কিছু ছবিই তেহরানের মাজিদ সাঈদিকে এনে দিয়েছে বেশ কিছু পুরস্কার৷

ছবিই বলে হাজার কথা

১৬ বছর বয়স থেকে ছবি তুলছেন মাজিদ৷ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে মানবিক বিপর্যয়ের দিকেই তাঁর সমস্ত মনযোগ৷ জার্মানির ডেয়ার স্পিগেল, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমসের মতো ম্যাগাজিন এবং আন্তর্জাতিক পত্রিকায় ছাপা হয় তাঁর তোলা ছবি৷

আফগানিস্তানের শিশুরা

ডিডাব্লিউকে সরবরাহ করা মাজিদের ছবির অনেকগুলোতেই ফুটে উঠেছে আফগান শিশুদের জীবনে যুদ্ধের প্রভাব৷ এ ছবিটি যুদ্ধের কারণে হাত হারানো এক আফগান শিশুর৷

মাদকের অভিশাপ

আফগানিস্তানের খুব বড় এক সমস্যা মাদক৷ বলা হয়ে থাকে বিশ্বের শতকরা ৯০ ভাগ মাদকদ্রব্যই নাকি উৎপন্ন হয় আফগানিস্তানে৷ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আফিম হয় দেশটিতে৷ দেশের অনেক নাগরিক আফিমসেবী৷ জাতিসংঘের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের অন্তত তিন লক্ষ শিশু নিয়মিত আফিম সেবন করে৷

রোল কল

কাবুলের এক অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরুর আগে ক্যাডেটদের রোল কল চলছে৷ জার্মান সেনাবাহিনী ‘বুন্ডেসভেয়ার’ আফগান নিরাপত্তাকর্মীদের অনেক আগে থেকেই প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিল৷ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য, আফগান সেনাবাহিনী এবং পুলিশকে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আত্মনির্ভরশীল করে তোলা৷ ২০১৪ সালের শেষেই অবশ্য আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে জার্মানি৷

ভয়ংকর শৈশব

স্কুলে লেখাপড়া করতে যাওয়ার সুযোগ শিশুদের কমই মেলে৷ স্কুলে গেলে নগণ্য কারণেও হতে হয় শিক্ষকের কঠোর শাসনের শিকার৷ তা সহ্য করেও পুরো সময় থাকা হয়না, পরিবারের জন্য টাকা রোজগার করতে আগেভাগেই স্কুল থেকে বেরিয়ে পড়তে হয় তাদের৷ আফগানিস্তানে শিক্ষার হার খুবই কম৷ ২০১১ সালে জার্মান সরকারের উদ্যোগে একটি তথ্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়েছিল৷ তখন আফগানিস্তানের শতকরা ৭২ ভাগ পুরুষ আর ৯৩ ভাগ নারীই ছিল নিরক্ষর৷

বোরখা এবং পুতুল

আফগান নারীরা পুতুল বানাতে শেখার ক্লাসে৷ মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি সংস্থার অর্থায়নে এখানে পুতুল বানাতে শেখানো হয় তাঁদের৷ আফগান নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্যই এ উদ্যোগ৷

তালেবানের প্রতিশোধ

২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করার পরই আফগানিস্তানে হামলা চালায় তালেবান৷ প্রতিশোধমূলক সে হামলায় প্রাণ যায় চারজনের, আহত হয়েছিলেন ৩৬ জন৷ ছবিতে দু’জন আহতকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে৷

খেলাধুলা

হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে একটু বিশ্রাম৷ আফগানিস্তানে শরীর চর্চা খুব জনপ্রিয়৷

যুদ্ধের আবাদ

গত ৩০টি বছর ভীষণ প্রভাব ফেলেছে আফগানদের জীবনে৷ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায় যুদ্ধের প্রভাব৷

মাদ্রাসা

কান্দাহারের মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিশুরা৷

হত্যার প্রশিক্ষণ

কুকুরের লড়াইও আফগানিস্তানে খুব জনপ্রিয়৷ কুকুরদের এমনভাবে লড়াই করতে শেখানো হয় যাতে তারা প্রতিপক্ষকে একেবারে মেরে ফেলে৷ কুকুরের জীবনেও যুদ্ধের প্রভাব!

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি, এপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়