পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করার হুমকি দিল ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি মঙ্গলবার সংসদে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করলে, ইরান ‘কয়েক ঘণ্টার মধ্যে' পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করতে পারে৷

ইরানি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ঐ ভাষণে রোহানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বলেন, ‘‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জোরজবরদস্তি ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা ওদের আগের প্রশাসনগুলিকে আলাপ-আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে৷ ওরা যদি (আগের) সেই অভিজ্ঞতায় ফেরৎ যেতে চায়, তাহলে খুব স্বল্প সময়ে – কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস নয়, বরং কয়েক ঘণ্টা কি দিনের মধ্যে আমরা আরো জোরালো ভাবে আমাদের পূর্বতন অবস্থানে প্রত্যাবর্তন করব৷''

ট্রাম্প আসা যাবৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের জন্যই নয়, বরং ওয়াশিংটনের মিত্রদেশগুলির পক্ষেও এক অনির্ভরযোগ্য সহযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে, বলেন রোহানি৷ ‘‘সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বিশ্ব দেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে জিসিপিওএ (পরমাণু চুক্তি)-র আঙ্গিকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহ একটানা ও বারংবার ভঙ্গ করা ছাড়াও, একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি উপেক্ষা করেছে ও (যুক্তরাষ্ট্রের) মিত্রদের দেখিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভালো সহযোগী কিংবা আপোশের জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয়,'' রোহানি মন্তব্য করেন৷ 

রাজনীতি

প্রধান দুই প্রার্থী

ইরানে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়৷ নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর একজন বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি অন্যজন এবরাহিম রাইসি৷

রাজনীতি

ভোটার বেশি, তাই সময় বাড়ানো

শুক্রবার ভোটদানের সময় আরও পাঁচ ঘণ্টা বাড়ানো হয়৷ চলে স্থানীয় সময় মধ্যরাত পর্যন্ত৷ দেশটির ২০১৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রায় একই রকম ভোট পড়েছিল, ওই নির্বাচনে ব্যাপক জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন মধ্যপন্থি প্রার্থী হাসান রোহানি৷

রাজনীতি

সমস্যা থেকে উত্তোরণ

এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাইসির প্রতি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই সমর্থন জানানোয় অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন রুহানি৷ অবশেষে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সফল হলেন৷

রাজনীতি

রাইসির অভিযোগ

রক্ষণশীল বলে পরিচিত ইব্রাহিম রাইসি ভোটে কারচুপির অভিযোগ করেছেন৷

রাজনীতি

নরমপন্থি রোহানি

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ৬৮ বছর বয়স্ক হাসান রোহানি বাস্তববাদী ও অপেক্ষাকৃত নরমপন্থি বলে পরিচিত৷ আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রায় একঘরে হয়ে থাকা দেশটিকে অনেকটাই উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি৷ বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করায় ইরানের উপর অনেক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হচ্ছে৷

রাজনীতি

পুনর্নির্বাচিত

রোহানিই প্রথমবার নন, সেই ১৯৮১ সাল থেকে ইরানে সব প্রেসিডেন্টই দ্বিতীয়বার পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন৷

পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করার পর ইরান কী ধরনের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কার্যকরি করার ক্ষমতা রাখে, রোহানি তাঁর ভাষণে সে কথার কোনো উল্লেখ করেননি৷ অপরদিকে রোহানি তাঁর হুমকিকে কিছুটা নরম করেন এই বলে যে, ইরান পরমাণু চুক্তিতে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে আগ্রহী৷

মার্কিন কংগ্রেসের বিল ও জাতিসংঘের প্রস্তাব

আগস্ট মাসের গোড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত মার্কিন কংগ্রেসের বিলটিতে স্বাক্ষর করেন৷ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল এই বিলের লক্ষ্য৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটিকে ভঙ্গ করেছে৷ ২০১৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য ও জার্মানি, এবং ইরানের মধ্যে যে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, জাতিসংঘের প্রস্তাবটিতে তা অনুমোদন করা হয়েছে৷ প্রস্তাবে ইরানের প্রতি আণবিক বোমা বহণে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হলেও, সে ধরনের গতিবিধি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি৷

US-Präsident Donald Trump

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ইরান পরমাণু চুক্তির আদর্শ অনুসরণ করে চলছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না৷

ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে, এই কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে  ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করে – যার ফলশ্রুতি স্বরূপ মার্কিন ট্রেজারি জুলাই মাসের শেষে ছ'টি ইরানি শিল্পসংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করে, কেননা এই সংস্থাগুলি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বিকাশে সাহায্য করেছে৷ বস্তুত ইরান এমন একটি রকেট পরীক্ষা করেছিল, যা একটি কৃত্রিম উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপন করতে সক্ষম৷

ইরানের মতে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জাতিসংঘের প্রস্তাব ভঙ্গ করে না – অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে সব নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করেছে, তা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির বিরোধী৷

ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন যে, ইরান পরমাণু চুক্তির আদর্শ অনুসরণ করে চলছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না৷ অপরদিকে ইরান সংসদে রোহানির মন্তব্য সম্ভবত শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং সেই সঙ্গে স্বদেশে কট্টরপন্থিদের ঠান্ডা করার একটা প্রচেষ্টাও বটে – বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স, এপি, এএফপি)