উত্তর কোরিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া মার্কিন শিক্ষার্থী মারা গেছেন

উত্তর কোরিয়ায় প্রায় এক বছর বন্দি থাকার পর গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া মার্কিন শিক্ষার্থী অটো ওয়ার্মবিয়ার সোমবার মারা গেছেন৷ প্রোপাগান্ডা পোস্টার চুরির অভিযোগে তাঁকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল৷

ওয়ার্মবিয়ারের পরিবার এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে৷ সাবেক মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যানের অনানুষ্ঠানিক উত্তর কোরিয়া সফরের পর গত সপ্তাহে দেশটি ওয়ার্মবিয়ারকে মুক্তি দিয়েছিল৷ এরপর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল৷ কারণ মুক্তির সময় ওয়ার্মবিয়ার কোমায় ছিলেন৷ ‘মানবিক কারণে' ২২ বছরের এই মার্কিন শিক্ষার্থীকে ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া৷

কমিউনিস্ট এই দেশ থেকে প্রোপাগাণ্ডা পোস্টার পাচারের চেষ্টার অভিযোগে গত বছর ওয়ার্মবিয়ারকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল৷ তাঁর বিরুদ্ধে রায় দেয়ার আগে একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও প্রকাশ করে দেশটি৷ ভিডিওতে ওয়ার্মবিয়ার বলেন, তিনি ‘জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল' করেছেন৷

ছেলের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে দেয়া বিবৃতিতে ওয়ার্মবিয়ারের পরিবার বলেছে, ‘‘উত্তর কোরিয়ায় আমাদের ছেলের উপর যে ধরণের নির্যাতন করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে অন্য কিছু হওয়া সম্ভব ছিল না৷''

ওহাইওতে ওয়ার্মবিয়ারকে চিকিৎসা দেয়া ডাক্তারও বলেন, উত্তর কোরিয়ায় বন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর মস্তিষ্ক দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়ার্মবিয়ারের পরিবারের প্রতি ‘গভীর সমবেদনা' প্রকাশ করেছেন৷ এই সময় তিনি উত্তর কোরিয়া সরকারের ‘নিষ্ঠুরতা'র উল্লেখ করেন৷

মার্কিন আইনপ্রণেতারা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর  উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে৷ তবে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন৷

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, এপি, রয়টার্স)

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

মুন জে-ইন ও তাঁর স্ত্রী কিম ইয়ুং-সুক

৬৪-বছর-বয়সি মুন-এর সাবেক পেশা ছিল মানবাধিকার আইনজীবীর৷ ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পার্ক গুন-শে-র কাছে স্বল্প ব্যবধানে পরাজিত হন৷ উদারপন্থি হিসেবে তিনি ২০০০-এর দশকের ‘‘সানশাইন পলিসি’’-তে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন ও ২০০৭ সালে দ্বিতীয় কোরীয় শীর্ষবৈঠক আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা নেন৷

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাচ্যুত পার্ক গুন-শে

দক্ষিণ কোরিয়ার একাদশতম এবং প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন-শে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালে অবধি ক্ষমতায় ছিলেন৷ তাঁর ‘ইম্পিচমেন্টের’ ফলে গত ৯ই মে মধ্যকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমা ও রকেট কর্মসূচি

পার্কের আমলে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের নাটকীয় অবনতি ঘটে – অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার আণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা ও সেই সঙ্গে বোমা নিক্ষেপের উপযোগী রকেট তৈরির উদ্যোগ চলতে থাকে৷

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন

দুই কোরিয়ার উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে সবার আগে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের উপর: তাদের শঙ্কা, দুই কোরিয়ার যুদ্ধে এবার আণবিক বোমা ব্যবহার করা হতে পারে৷ বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার যুবসমাজ মুন জে-ইন-এর আপোশমূলক মনোভাবের সমর্থক৷

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

যৌথ মহড়া

‘কি রিজল্ভ’ ও ‘ফোল ইগল’ নাম দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাৎসরিক যৌথ সামরিক মহড়া এ-বছর (২০১৭) শুরু হয় পয়লা মার্চ তারিখে৷ পিয়ংইয়াং-এর আশঙ্কা, এর মাধ্যমে তাদের নেতা কিম জং-উন ও তাঁর পারিষদদের অপসারণ করার মহড়া চলেছে৷

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

আন্তঃ-কোরীয় সীমান্তে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

মাইক পেন্স পানমুনজম গ্রামের কাছে ‘ডিমিলিটারাইজড জোন’-এর একটি অবজারভেশন পোস্টে যান তাঁর দক্ষিণ কোরিয়া সফরের অংশ হিসেবে: তারিখটা ছিল ২০১৭ সালের ১৭ই এপ্রিল৷ পেন্স ইতিপূর্বে ঘোষণা করেন যে, উত্তর কোরিয়ার কার্যকলাপের ফলে ‘‘রণকৌশলগত ধৈর্যের দিন শেষ হয়েছে’’৷

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

‘থাড’ রকেট বিধ্বংসী প্রণালী

‘থাড’ মানে ‘টার্মিনাল হাই-অল্টিচুড এরিয়া ডিফেন্স’৷ এই সর্বাধুনিক মার্কিন রকেট প্রতিরক্ষা প্রণালী ৯ই মে-র মধ্যকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই তাড়াহুড়ো করে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠা করা হয়, বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা৷ তার কারণ সম্ভবত এই রকেট প্রতিরক্ষা নিয়োগের ব্যাপারে মুন জে-ইন-এর মনোভাব – দেশের জনগণের একাংশ দৃশ্যত যে মনোভাবের সমর্থক৷ ‘থাড’-এর মালমশলা নিয়ে আসার সময়েই প্রতিবাদের অবতারণা ঘটে৷

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতি

চীনের কূটনীতিক জয়?

কোরীয় উপদ্বীপ তো বটেই, সেই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগর এলাকা জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে নৌ-আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলেছে, তা’তে চীনের সর্বাধুনিক সংযোজন তার প্রথম স্বদেশে নির্মিত বিমানবাহী পোত ‘লিয়াওনিং’৷ কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় মুন জে-ইন-এর জয় ও উত্তর কেরিয়ার প্রতি তাঁর নরম পন্থা চীনের প্রভাব বৃদ্ধি করবে৷

আমাদের অনুসরণ করুন