‘এই বিল বাকস্বাধীনতা রোধ করার সামিল'

নতুন বিলে কোনো বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক অথবা অশালীন বক্তব্য দিলে বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে৷ এমনকি এনজিও-টির নিবন্ধন বাতিলও হতে পারে৷

‘‘এই বিল পাসের ফলে বিশ্ববাসীর কাছে দেশ সম্পর্কে একটা খারাপ বার্তা গেল৷'' ডয়চে ভেলের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার৷ তিনি বলেন, ‘‘সংবিধানে কিছু মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে, যা আইন দিয়ে রোহিত করা যাবে না৷ তার মধ্যে বাকস্বাধীনতা একটি৷ এই বিল পাস বাকস্বাধীনতা রোধ করার সামিল৷ এখন থেকে বিশ্ববাসী জানবে, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা বলে কিছু নেই৷''

গত বুধবার সংসদে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল, ২০১৬ পাস হয়৷ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে, তা কণ্ঠভোটে পাস হয়ে যায়৷

এখন লাইভ
01:32 মিনিট
বিষয় | 06.10.2016

‘এই বিল পাসের ফলে বিশ্ববাসীর কাছে একটা খারাপ বার্তা গেল’

এর আগে, গত বছরের ১লা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন মতিয়া চৌধুরী৷ এর কয়েকদিন পর টিআইবি-র ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ' প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংসদকে ‘পুতুলনাচের নাট্যশালা' বলে মন্তব্য করেন৷ বলা বাহুল্য, এই মন্তব্যকে ঘিরে সংসদে সমালোচনার ঝড় ওঠে৷ এক পর্যায়ে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি টিআইবি-কে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায়৷ ঐ মন্তব্যের পর সংসদীয় কমিটি বিলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ‘কটাক্ষমূলক মন্তব্য ও অপরাধ'-সম্পর্কিত এই বিধান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়৷

বিলটি পাসের পর ইফতেখারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারের তরফ থেকে আমাদের বলা হয়েছিল, চূড়ান্তভাবে উপস্থাপনের আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে৷ কিন্তু কিছুই করা হয়নি৷ আর বিদ্বেষমূলক বা অশালীন বক্তব্য কোনটা, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই৷ কারও কাছে যেটা সমালোচনা, সেটা অন্য কারও কাছে অশালীন মন্তব্য বলে মনে হতে পারে৷ তাই এই আইনের যাতে কোনো অপপ্রয়োগ না হয় সেদিকে সরকারের খেয়াল রাখা উচিত৷''

এখন লাইভ
04:01 মিনিট
বিষয় | 06.10.2016

‘বিদ্বেষমূলক বা অশালীন বক্তব্য কোনটা, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই’

জানা যায়, সামরিক শাসনামলের আইন বাংলায় ও যুগোপযোগী করতে উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে আইনটির খসড়া তৈরি হয়৷ এ প্রসঙ্গে ফেডারেশন অফ এনজিওস ইন বাংলাদেশের (এফএনবি) পরিচালক তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারের সম্পূরক হিসেবে, কোনো কোনো ক্ষেত্র সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করে৷ সেখানে সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বা অশালীন বক্তব্য দেওয়া বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করার প্রশ্নই আসে না৷ তাই এ সম্পর্কে নতুন করে মন্তব্য করারও কিছু নেই৷''

গতকাল সংসদে পাস হওয়া এই বিলে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধঘোষিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করতে পারবে না৷ বিদেশ থেকে পাওয়া অনুদান যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে৷ কোনো প্রতিষ্ঠান নারী, শিশু, মাদক ও অস্ত্র পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলে, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে৷ এক্ষেত্রে এনজিও-টির নিবন্ধনও বাতিল করা হতে পারে৷

এনজিও-তে বিদেশি উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড় নিতে হবে৷ এছাড়া বিদেশি অনুদান একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে (মাদার অ্যাকাউন্ট) থাকতে হবে৷ ব্যয়ের হিসাব অডিট করার পর এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে দিতে হবে৷ এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো এ সব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে৷

২০১৫ সালে নিহত ১৮ ব্লগার

সবচেয়ে বেশি সিরিয়ায়

বর্তমানে গৃহযুদ্ধের কবলে থাকা সিরিয়ায় চলতি বছর সবচেয়ে বেশি নেটিজেন এবং সিটিজেন জার্নালিস্ট খুন হয়েছেন৷ প্যারিসভিত্তিক ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ বা আরএসএফ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে পহেলা জানুয়ারি, খুন হন দিরার মুসা আল জাহিদ৷ আর সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর জুম্মা আল-আহমেদ৷

২০১৫ সালে নিহত ১৮ ব্লগার

বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে

বাংলাদেশে সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধ না চললেও খুন হয়েছেন চার ব্লগার, আহত কয়েকজন৷ এদের সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় খুন হন লেখক, ব্লগার অভিজিৎ রায়৷ সর্বশষে সাত আগস্ট খুন হন ব্লগার নিলয় চট্টোপাধ্যায়৷ নিহতরা সবাই নাস্তিক এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন৷

২০১৫ সালে নিহত ১৮ ব্লগার

ব্রাজিলে নিহত এক

ব্রাজিলে ১৮ মে খুন হন ব্লগার ইভানি জোসে মেৎসকার৷ ধারণা করা হয়, তাঁকে হত্যার আগে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছিল৷ নিহত হওয়ার আগে শিশু পতিতাবৃত্তি নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন তিনি৷

২০১৫ সালে নিহত ১৮ ব্লগার

ইসলামিক স্টেট-এর হাতে খুন জুহায়ের

ইরাকের মসুলের সিটিজেন জার্নালিস্ট জুহায়ের কিনান আল-নাহাস৷ আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিমান হামলায় দগ্ধ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’-এর একটি গাড়ির ছবি তোলায় তাঁকে হত্যা করে জঙ্গি গোষ্ঠীটি৷

২০১৫ সালে নিহত ১৮ ব্লগার

পাকিস্তানে নিহত মানবাধিকার কর্মী

পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী সাবিন মাহমুদ গত ২৪ এপ্রিল করাচিতে খুন হন৷ অজ্ঞাত বন্দুকধারী তাঁকে গুলি করে হত্যা করে৷ এ সময় ব্যক্তিগত গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি৷ পাকিস্তানের বালুচিস্তানে সেনাবাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মাহমুদ৷ এ কারণে একাধিকবার হুমিকও পান তিনি৷

২০১৫ সালে নিহত ১৮ ব্লগার

তরুস্কে নিহত সিটিজেন জার্নালিস্ট

গত ৩০ অক্টোবর তুরস্কে খুন হন সিটিজেন জার্নালিস্ট ইব্রাহিম আব্দ আল-কাদের৷ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’-এর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিরিয়ার এই ব্লগার৷ তাঁর জবাই করে হত্যা করা হয়৷

২০১৫ সালে নিহত ১৮ ব্লগার

নিহত ৬৫ সাংবাদিক

আরএসএফ-এর ওয়েবসাইটে নিহত সাংবাদিকদের তালিকা আলাদাভাবে দেয়া হয়েছে৷ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট সংগঠনটির হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ সাংবাদিক, কারাবন্দি আছেন ১৫৩ জন৷ এছাড়া ১৬২ নেটিজেনও কারাবন্দি রয়েছেন৷

বন্ধুরা, এ বিলটি কি আপনি সমর্থন করেন? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

আরো প্রতিবেদন...

8 ছবি
মিডিয়া সেন্টার | 3 ঘণ্টা আগে

ধরাছোঁয়ার বাইরে সাকিব

বিশ্ব | 7 ঘণ্টা আগে

‘‌কাটমানি'‌ গানে বিতর্ক‌

আমাদের অনুসরণ করুন