দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ঘরমুখো করতে সচেষ্ট ভারত

প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালিত হয় প্রতি বছরের ৯ই জানুয়ারি৷ এই দিনটি বেছে নেওয়ার কারণ ঐতিহাসিক৷ ১৯১৫ সালের এই দিনটিতেই মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে এসেছিলেন ভারতে৷ তাই তো প্রবাসী ভারতীয় দিবস একটি মিলন মঞ্চ৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

এই দিনটি পালনের সার্থকতা অনাবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে স্বদেশের নৈকট্য ও আবেগ জিইয়ে রাখা৷ প্রবাসী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকারের যোগাযোগকে পাকাপোক্ত করা, তৈরি করা একটি সেতুবন্ধন৷ উদ্দেশ্য স্বদেশের কাছে তাঁদের কী প্রত্যাশা, বিদেশে তাঁদের সমস্যা সমাধানে সরকার কীভাবে সাহায্য করতে পারে ইত্যাদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা৷

গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটে পালিত হয় এই দিনটি৷ এনআরআই-দের কীভাবে আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার দেওয়া যায়, সেবিষয়ে সরকারের ভাবনা-চিন্তার একটা রূপরেখা তুলে ধরেন মোদী স্বয়ং৷ আসলে মোদী ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিদেশ সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম অঙ্গ হলো প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো৷

প্রবাসীদের তালিকার শীর্ষে ভারত

জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ১.৬ কোটি ভারতীয় বিদেশে বসবাস করেন৷ বিশ্বের অন্য কোনো দেশের এত মানুষ দেশের বাইরে থাকেন না৷ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (ডিইএসএ) গোটা বিশ্বে অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি নিয়ে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে৷

আলাদা মন্ত্রণালয়

ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স প্রবাসী ভারতীয়দের বিষয়গুলি দেখাশোনা করতো৷ বর্তমানে সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে এসেছে৷ প্রবাসী ভারতীয় দিবস ও সম্মেলন আয়োজন করা ছাড়াও অন্য অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয় এই মন্ত্রণালয়৷ ভারতে আর্থিক বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়৷

‘অনাবাসী’ ভারতীয়

মূলত আয়কর আইনের আওতায় বিদেশে বসবাসরত সেই সব ভারতীয় নাগরিকদের ‘অনাবাসী’ বা নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান (এনআরআই) বলা হয়, যারা বছরে কমপক্ষে ১৮২ দিন বিদেশে থাকেন৷ কর ছাড়াও তারা অন্য কিছু ক্ষেত্রেও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন৷

ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের পরিচয়পত্র

যে সব ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’ বা ওসিআই সার্টিফিকেট৷ দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না হলেও এমন সার্টিফিকেট থাকলে ভারতীয় নাগরিকদের অনেক অধিকার ভোগ করা যায়৷ তবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক থাকলে ওসিআই পাওয়া যায় না৷

ওসিআই হলে সুবিধা

ওসিআই থাকলে আজীবন ভারতে যাতায়াত, সেখানে বসবাস ও কাজকর্ম করা, জমি-বাড়ি কেনাবেচার মতো অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়৷ তবে কৃষিজমি কেনা যায় না, ভোট দেওয়া বা ভোটে দাঁড়ানোও সম্ভব নয়৷

বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

এনআরআই বা ওসিআই মর্যাদা থাকলে ভারতের ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রেও কর সংক্রান্ত বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করা যায়৷ সরাসরি বিদেশি মুদ্রা জমা দেওয়া ও প্রয়োজনে তুলে নেওয়ার বাড়তি সুবিধাও রয়েছে৷

প্রবাসে ভোট দেবার সুযোগ

এনআরই বা অনাবাসী ভারতীয়রা শীঘ্রই বিদেশ থেকেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ ইলেকট্রনিক ভোটিং অথবা ভারতে কোনো মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে৷

ভারতের সার্বিক উন্নয়নে তাঁরাও কিন্তু মোদীর ডাকে ইতিবাচক সাড়াই দিয়েছেন৷ শুধু বিনিয়োগ নয়, শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রেও তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়াতে চেয়েছেন৷ প্রবাসী ভারতীয় দিবসের এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এ বছর, মানে ২০১৬ সালে, এই দিবসটি পালিত হয়নি৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অবশ্য গত বছরেই এর কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন৷ বলেছিলেন, এই দিবস পালনে কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এবার থেকে প্রতি দু’বছর অন্তর বিভিন্ন রাজ্যে পালা করে তার আয়োজন করা হবে৷ রাজ্যগুলি অবশ্য আলাদাভাবেও প্রবাসী ভারতীয় দিবসের আয়োজন করতে পারে৷ যেমন বাঙালি অনাবাসীদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে, পাঞ্জাবি অনাবাসীদের নিয়ে পাঞ্জাবে, গুজরাটিদের নিয়ে গুজরাটে এই দিনটি পালন হতে পারে৷

প্রশ্ন উঠতে পারে, অনাবাসী ভারতীয় বা এনআরআই কারা? আর ভারতীয় বংশোদ্ভূত বা ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়াই বা কারা? এ সম্পর্কে এক আলাপচারিতায় মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ. দিদার সিং ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অনাবাসী ভারতীয় এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে৷ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ভারতীয় পাসপোর্টধারী ব্যবসা, চাকরি, গবেষণা, পড়াশুনা বা অন্য কোনো কারণে ছ’মাসের বেশি সময় ধরে বিদেশে রয়েছেন, তাঁরাই এনআরআই৷ আর যেসব ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিদেশি পাসপোর্ট আছে, তাঁরা গণ্য হবেন ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া হিসেবে৷’’

সাধারণত এঁদের জন্য ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া বা ওসিআই কার্ড ইস্যু করা হয়ে থাকে৷ শুধু তাই নয়, ফটোসহ সেই কার্ডের স্টিকার সেঁটে দেওয়া হতো তাঁদের বিদেশি পাসপোর্টে৷ এখন শুধু কার্ডটি থাকলেই চলে৷ এতে করে তাঁরা যতবার খুশি ভারতে আসতে পারেন৷ বিদেশি নাগরিকদের মতো পুলিশের কাছে রিপোর্টও তাঁদের করতে হয় না৷

মাইক্রোসফটে সত্য নাদেলা

হায়দ্রাবাদের ছেলে সত্য নারায়ণ নাদেলা৷ ২০১৪ সাল থেকে তিনি মাইক্রোসফটের সিইও৷ নাদেলা ভারতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর সত্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে৷ লেখাপড়া শেষ করে প্রথমেই সান মাইক্রোসিস্টেম-এ চাকরি পেয়ে যান৷ তবে বেশি দিন সেখানে থাকতে হয়নি৷ মাইক্রোসফট-এ চাকরি হয়ে যায় ১৯৯২ সালে৷ ১২ বছর পর প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদের জন্য তাঁকেই বেছে নিয়েছে মাইক্রোসফট৷

গুগলে আছেন সুন্দর পিচাই

সুন্দর পিচাইয়ের জন্ম চেন্নাইয়ে৷ ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) থেকে লেখাপড়া শেষ করা এই তরুণ গুগলে যোগ দেন ২০০৪ সালে৷ গত ১০ আগস্ট পরবর্তী সিইও হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করার পর গুগল-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ একটি ব্লগ লিখেছেন৷ সেখানে সুন্দর পিচাই সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘‘ওর মতো একজন প্রতিভাবানকে গুগল পরিচালানার দায়িত্বে পাওয়ায়টা খুবই সৌভাগ্যের৷’’

পেপসিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান নারীদের একজন...

বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নারী ভারতের ইন্দ্রা কৃষ্ণমূর্তি নুয়ী৷ সত্য নাদেলার মতো তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন লেখাপড়া করতে৷ লেখাপড়া শেষে চাকরি করছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পেপসি-তে৷ ২০০৬ সাল থেকে পেপসি-র সিইও তিনি৷ এ দায়িত্ব এতটাই সাফল্যের সঙ্গে পালন করছেন যে, ২০১৪ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ১৩তম স্থানটি দিয়েছে তাঁকে৷

অ্যাডোব সিস্টেম সামলাচ্ছেন শান্তনু নারায়ণ

মাইক্রোসফট-এর সিইও নাদেলার মতো শান্তনু নারায়ণও স্কুল পর্বে লেখাপড়া করেছেন হায়দ্রাবাদে৷ হায়দ্রাবাদ পাবলিক স্কুলের ছাত্র ছিলেন দু’জনই৷ শান্তনুর প্রথম চাকরি অ্যাপল-এ৷ সেখান থেকে তিনি হয়েছেন অ্যাডোব সিস্টেমের সিইও৷

নোকিয়ার ‘সর্বেসর্বা’ রাজীব সুরি

নোকিয়ার সিইও রাজীব সুরি মনিপাল আইআইটি-র ছাত্র ছিলেন৷ নোকিয়ায় ঢুকেছিলেন ১৯৯৫ সালে৷ এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও হয়ে এখন তিনি মনিপুর তো বটেই, ভারতেরও গর্ব৷

মাস্টারকার্ড-এর সিইও অজয়পাল সিং বাঙ্গা

২০১০ সাল থেকে মাস্টারকার্ড-এর সিইও-র দায়িত্বে আছেন অজয়পাল সিং বাঙ্গা৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা অজয়পাল এই প্রতিষ্ঠানে ‘অজেয়’ হওয়ার আগে আহমেদাবাদের ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ-ও করেছেন৷

ডিয়াজেয়ো-তে ইভান ম্যানুয়েল মেনেজেস

ডিয়াজেয়ো-র সিইও ইভান ম্যানুয়েল মেনেজেসও ভারতীয়৷ ডিয়াজেয়ো ব্রিটেনের অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ের বহজাতিক কম্পানি৷

দিল্লিতে এবং বিদেশে ভারতীয় দূতাবাস থেকে এই ওসিআই কার্ডের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যায়৷ একমাত্র পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পাসপোর্টধারী ছাড়া, অথবা এই দুই দেশের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক না থাকলে, আবেদন করলেই ওসিআই কার্ড পেতে পারেন এঁরা৷

দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না হলেও এই কার্ড থাকলে প্রবাসী ভারতীয়দের অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা এঁরা পাবেন৷ যেমন ভারতে থাকার, কাজ করার, পড়াশুনা করার, বিনিয়োগ করার, বিষয় সম্পত্তি কেনার অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার৷ এক কথায়, সব অধিকারই পাবেন৷ পাবেন না শুধু কৃষি ও প্লান্টেশন বা বাগিচা কেনার অধিকার আর পাবেন না রাজনৈতিক অধিকার, যেমন ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার৷ অর্থাৎ তাঁরা সংসদ সদস্য হতে পারবেন না৷ তবে করের ক্ষেত্রে আয়করসহ অন্যান্য কর প্রযোজ্য হবে তাঁদের ওপর৷ কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য বাড়তি সুবিধাও পান তাঁরা৷

সম্প্রতি অনাবাসী ভারতীয়দের বিশেষ সুবিধা দিতে সংশোধন করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন৷ চূড়ান্ত ব্যবস্থা হয়ে গেলে তাঁরা বিদেশে বসেই দেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন৷ এতে করে আগের মতো দেশে এসে নির্দিষ্ট ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আর ভোট দিতে হবে না৷ নির্বাচন কমিশন এঁদের জন্য ই-ব্যালট পেপারের সুপারিশ করেছেন, যা অনাবাসী ভারতীয়রা ই-মেলেই পাবেন এবং সেটা পূরণ করে ডাকযোগে পাঠালেই চলবে৷ ‘‘আগে কোনো অনাবাসী ভারতীয় তাঁর শেষ বাসস্থানের ভোট কেন্দ্রে তিন মাসের বেশি না থাকলে, সেই কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হতো৷’’ ডয়চে ভেলেকে এ কথা বলেন মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর প্রাক্তন শীর্ষকর্তা দিদার সিং৷

প্রবাসী ভারতীয় দিবসের বিশেষ তাত্পর্য সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি ভারতের উন্নয়নের অ্যাজেন্ডায় এঁদের যুক্ত করা, কাছে টানার কথা তুলে ধরেন৷ বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও উচ্চ-প্রযুক্তি দিয়ে স্বদেশে অবদান রাখতে তাঁদের উৎসাহিত করাও এর লক্ষ্য৷ জানতে চেয়েছিলাম, সার্ক দেশগুলিতে অনাবাসী ভারতীয়দের জন্য কি বাড়তি কোনো সুবিধার সংস্থান আছে? দিদার সিং-এর জবাব, ‘‘না, সব সমান৷’’

বলিউডের রাজা

তাঁর ক্যারিয়ারের গল্পটা বলিউডের অনেক সিনেমার গল্পের মতো৷ নতুন দিল্লিতে জন্ম নেয়া শাহরুখকে ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক পরিশ্রম করে সামনে এগোতে হয়েছে৷ পঞ্চাশ বছর বয়সি এই অভিনেতা ভারতের অন্যতম সফল অভিনেতাদের একজন৷ অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক ও উপস্থাপক হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি৷

খলনায়ক থেকে নায়ক

ক্যারিয়ারের শুরুতে শাহরুখ খানকে দেখা যেত খলনায়কের চরিত্রে৷ তবে নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন রোমান্টিক ছবিতে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি চূড়ান্ত খ্যাতি অর্জন করেন৷ ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ‘‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’’ ছবিটি একটি সিনেমা হলে সবচেয়ে বেশিদিন ধরে চলার বিশ্বরেকর্ড গড়ে৷

বলিউডের জনপ্রিয় জুটি

গত ২২ বছর ধরে শাহরুখের পাশে আছেন কাজল৷ রূপালি পর্দায় সবচেয়ে সফল জুটি তাঁরা৷ তবে বাস্তবে তাঁরা অন্য সঙ্গীর সঙ্গে বিবাহিত এবং সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন৷

একজন আদর্শ স্বামী

বলিউড তারকা শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরি খান৷ পঁচিশ বছর ধরে সংসার করছেন তাঁরা৷ শাহরুখের ক্যারিয়ারে স্ক্যান্ডালের ঘটনা তেমন একটা নেই৷ পারিবারিক জীবনে তিন সন্তানের জনক তিনি৷

‘বলিউড মিটস হলিউড’

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিটি বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় বলিউড মুভি হিসেবে স্বীকৃতি পায়৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে নাইন ইলেভেনের পর ইসলামোফোবিয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়৷ ছবিটিতে তাঁর সংলাপ ‘মাই নেম ইজ খান এন্ড আই এম নট এ টেরোরিস্ট’ ব্যাপক সাড়া জাগায়৷

বলিউড রপ্তানি

২০১৪ সালে মিউজিক্যাল কমেডি ড্রামা ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ মুক্তির পর একদিনে সর্বোচ্চ অর্থ আয় করা বলিউড ছবির রেকর্ড গড়ে৷ সেবছর ছবিটি জার্মানিতেও প্রদর্শিত হয়৷ এখন অবস্থা এমন যে, জার্মানিতে বলিউডের নাচ এবং রান্না শেখার পাশাপাশি বলিউডের পোশাকও বিক্রি হচ্ছে৷

একজন বিত্তবান

শাহরুখ খান এবং তাঁর সহঅভিনেতা অক্ষয় কুমার ফোর্বসের সবচেয়ে বিত্তশালীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন৷ বলিউডের রাজার বাৎসরিক আয় তেত্রিশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ কুমারের চেয়ে এই আয় বেশি হলেও হলিউডের সবচেয়ে ভালো আয় করা অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সের চেয়ে বেশ কম৷ ২৫ বছর বয়সি জেনিফারের বাৎসরিক আয় গত বছর ছিল ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷

কোটি কোটি অনুসারী

বলিউডের রাজার ফেসবুক এবং টুইটারে বিশ মিলিয়ন করে অনুসারী রয়েছেন৷ ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়াদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি, যেখান থেকে জানা গেছে তার ‘পোকিমন গো’ প্রেমের কথা৷

অনাবাসী ভারতীয়দের সংখ্যা বর্তমানে এক কোটি দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে৷ এঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ আছে উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে৷ সবথেকে বেশি সংখ্যক কেরালা, গুজরাট ও পাঞ্জাবের মানুষ, যাঁদের অধিকাংশ নিযুক্ত আছেন নির্মাণ শিল্প, তেল-গ্যাস ও ফিনান্সিয়াল ক্ষেত্রে৷ কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক সুরক্ষার দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে একটি বিভাগ৷ তবে কিছু কিছু দেশে এমন নিয়মবিধি আছে যা মানবাধিকারের সীমা লঙ্ঘন করে৷ যেমন কাতারের কাফালা স্পনসরশিপ সিস্টেম৷ এই ব্যবস্থার সংশোধন না করলে ভারতীয় কর্মীরা সমস্যা পড়বে৷ তাই খুব শীঘ্রই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওভারসিজ বিভাগ এ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করবে, জানান দিদার সিং৷ তাঁর কথায়, ‘‘বিদেশে উচ্চ মেধার বহু ভারতীয় রয়ে গেছেন৷ স্বদেশের উন্নয়নে এই মানবসম্পদকে, তাঁদের সেই প্রতিভাকে কাজে লাগানো, তাঁদের ঘরমুখি করাই সরকারের আসল লক্ষ্য৷’’

আগামী প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালিত হবে বেঙ্গালুরুতে ২০১৭ সালের ৭ থেকে ৯ জানুয়ারি, কথা প্রসঙ্গে এ তথ্যও জানিয়ে দেন মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর প্রাক্তন এই সচিব৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

বিশ্ব | 13.12.2013

এই দিনটি পালনের সার্থকতা অনাবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে স্বদেশের নৈকট্য ও আবেগ জিইয়ে রাখা৷ প্রবাসী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকারের যোগাযোগকে পাকাপোক্ত করা, তৈরি করা একটি সেতুবন্ধন৷ উদ্দেশ্য স্বদেশের কাছে তাঁদের কী প্রত্যাশা, বিদেশে তাঁদের সমস্যা সমাধানে সরকার কীভাবে সাহায্য করতে পারে ইত্যাদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা৷

গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটে পালিত হয় এই দিনটি৷ এনআরআই-দের কীভাবে আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার দেওয়া যায়, সেবিষয়ে সরকারের ভাবনা-চিন্তার একটা রূপরেখা তুলে ধরেন মোদী স্বয়ং৷ আসলে মোদী ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিদেশ সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম অঙ্গ হলো প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো৷

প্রবাসীদের তালিকার শীর্ষে ভারত

জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ১.৬ কোটি ভারতীয় বিদেশে বসবাস করেন৷ বিশ্বের অন্য কোনো দেশের এত মানুষ দেশের বাইরে থাকেন না৷ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (ডিইএসএ) গোটা বিশ্বে অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি নিয়ে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে৷

আলাদা মন্ত্রণালয়

ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স প্রবাসী ভারতীয়দের বিষয়গুলি দেখাশোনা করতো৷ বর্তমানে সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে এসেছে৷ প্রবাসী ভারতীয় দিবস ও সম্মেলন আয়োজন করা ছাড়াও অন্য অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয় এই মন্ত্রণালয়৷ ভারতে আর্থিক বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়৷

‘অনাবাসী’ ভারতীয়

মূলত আয়কর আইনের আওতায় বিদেশে বসবাসরত সেই সব ভারতীয় নাগরিকদের ‘অনাবাসী’ বা নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান (এনআরআই) বলা হয়, যারা বছরে কমপক্ষে ১৮২ দিন বিদেশে থাকেন৷ কর ছাড়াও তারা অন্য কিছু ক্ষেত্রেও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন৷

ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের পরিচয়পত্র

যে সব ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’ বা ওসিআই সার্টিফিকেট৷ দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না হলেও এমন সার্টিফিকেট থাকলে ভারতীয় নাগরিকদের অনেক অধিকার ভোগ করা যায়৷ তবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক থাকলে ওসিআই পাওয়া যায় না৷

ওসিআই হলে সুবিধা

ওসিআই থাকলে আজীবন ভারতে যাতায়াত, সেখানে বসবাস ও কাজকর্ম করা, জমি-বাড়ি কেনাবেচার মতো অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়৷ তবে কৃষিজমি কেনা যায় না, ভোট দেওয়া বা ভোটে দাঁড়ানোও সম্ভব নয়৷

বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

এনআরআই বা ওসিআই মর্যাদা থাকলে ভারতের ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রেও কর সংক্রান্ত বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করা যায়৷ সরাসরি বিদেশি মুদ্রা জমা দেওয়া ও প্রয়োজনে তুলে নেওয়ার বাড়তি সুবিধাও রয়েছে৷

প্রবাসে ভোট দেবার সুযোগ

এনআরই বা অনাবাসী ভারতীয়রা শীঘ্রই বিদেশ থেকেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ ইলেকট্রনিক ভোটিং অথবা ভারতে কোনো মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়